বিএনপি’র সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন কেনার হিড়িক, ১ম দিনেই ৫৭৮ ফরম বিক্রি
- আপডেট সময় ০২:১৬:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
- / ১৩ বার পড়া হয়েছে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু করেছে বিএনপি। শুক্রবার সকালে
নয়াপল্টনে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই ফরম বিক্রির কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেন। প্রথম ফরমটি রিজভী তুলে দেন জেরিন দেলোয়ার হোসেনের হাতে। দ্বিতীয় ফরমটি নেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক কাজী আসাদুজ্জামান আসাদের সহধর্মিণী ফাতেমা আসাদ। মনোনয়ন ফরমের মূল্য ধরা হয়েছে ২ হাজার টাকা। ১২ই এপ্রিল পর্যন্ত ফরম উঠানো এবং জমা দেয়া যাবে। জমা দেয়ার সময় প্রার্থীদের ৫০ হাজার টাকা জামানত দিতে হবে।
ফ্যাসিস্ট সরকারের দেড় যুগের আন্দোলনে সম্পৃক্ত ‘দলের ত্যাগীরা’ সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পাবেন- এমন প্রত্যাশা বিএনপি’র নারী নেত্রীদের। শুক্রবার সকাল থেকে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নারী নেত্রীরা আসেন। ত্রয়োদশ সংসদে সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন পেতে দলীয় ফরম সংগ্রহ করতে আসা নারী নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ও আনন্দের সীমা ছিল না। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ৫৭৮টি ফরম বিক্রি হয়েছে বলে জানান দলের সহ-দপ্তর সম্পাদক তারিকুল ইসলাম তেনজিং।
ফরম কিনতে এসেছেন তৃণমূলের নেত্রী থেকে শুরু করে শিক্ষক, আইনজীবী, শিল্পী, ছাত্রদলের সাবেক নেত্রীরা। তাদের মধ্যে- ডা. খোন্দকার আকতারা খাতুন লুনা, শিরিন সুলতানা, হেলেন জেরিন খান, বেবি নাজনীন, বিলকিস ইসলাাম, নিপুন রায় চৌধুরী, সানজীদা ইসলাম তুলি, পেয়ারা মোস্তফা, শাহজাদী আখতার পাপড়িসহ সাবেক সংসদ সদস্যরা রয়েছেন।
বিএনপি’র সাবেক মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে ডা. খোন্দকার আকতারা খাতুন লুনা বলেন, আমি বাবার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছোটবেলা থেকে বিএনপি করি। বাবার পাশে থেকে এই দলকে দেখেছি। আমার গোটা পরিবারই বিএনপি’র রাজনীতি করে। আমার এলাকার মানিকগঞ্জের মানুষজন চায় আমি সংসদ সদস্য হই।
মহানগর বিএনপি নেত্রী আরিফা সুলতানা রুমা বলেন, আসলে আমি একজন নির্যাতিত নারী। কারণ এক-এগারো থেকে শুরু করে বর্তমানে ৫ই আগস্ট পর্যন্ত আমি আন্দোলন-সংগ্রামে ফুলটাইম মাঠে ছিলাম। আমি বিশ্বাস করি যে, দল যদি আমাকে দায়িত্ব দেয়, আমি তৃণমূলের সঙ্গে মিশে থেকে তৃণমূলের জন্য কাজ করতে পারবো।
কণ্ঠশিল্পী রিজিয়া পারভীন নিজের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে বলেন, আমি একজন শিল্পী হিসেবে সারা দেশে আমার দেশকে রিপ্রেজেন্ট করছি। দল যদি আমাকে মনে করেন যে তাহলে আমি কাজ করে যাবো। আমি সারাটা জীবন এই দলের সঙ্গেই আছি, এই দলের সঙ্গে থেকেই মরে যেতে চাই।
ঢাকা মহানগর মহিলা দলের নেত্রী বেগম মেহেরুন্নেসা হক বলেন, দল যাকে ভালো মনে করে, যাকে যোগ্যতাসম্পন্ন মনে করে তাকে দেবেন। আমরা আশা করি, নারীরা যেন একে একে এভাবে এগিয়ে যেতে পারে।
মহিলা দলের নেত্রী ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, যারা নির্যাতিত তাদের অবশ্যই এবার মূল্যায়ন করা উচিত। কারণ ফ্যাসিবাদী আন্দোলনে মেয়েদের যে ভূমিকা ছিল, তা অতুলনীয়। সেই সময় ছেলেরা-পুরুষরা রাস্তায় নামতে পারতো না। অথচ নারীরা যে পদক্ষেপ রেখেছিল, যে ভূমিকা রেখেছিল, এই নারীরা কারা? এদেরকে এনেই মূল্যায়ন করা উচিত।


















