ঢাকা ০৬:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বান্ধবীদের উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় হাবিপ্রবি শিক্ষার্থীর উপর বখাটেদের হামলা, আটক ১

হাবিপ্রবি প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় ০১:৫২:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১৪৩ বার পড়া হয়েছে

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থীর ওপর দুর্বৃত্তদের অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে গুরুতর আহত হয়েছেন কৃষি অনুষদের ২৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী নাফিস মোর্শেদ। এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলে পুলিশ একজনকে আটক করে। শনিবার (১১ই এপ্রিল) দিবাগত রাতে বাঁশেরহাট সংলগ্ন বিসিএস গলি এলাকায় এ হামলার শিকার হন তিনি।

হামলার ঘটনার পরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. নওশের ওয়ান বাদী হয়ে ১.মোঃ সজিব (২৬) পিতা: অজ্ঞাত, ২.জুয়েল ইসলাম (৩৫) পিতা: মোঃ আলাউদ্দীন মাতা: মোছা: জরিনা বেগম, ৩. বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী রুপাই হাসদা এর ছোট ছেলে ও অজ্ঞাত কয়েকজনের নামে দণ্ডবিধির ৩০৭ (হত্যার চেষ্টা) ও ৩২৪ ধারায় দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১১ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৮:৩০ মিনিটের দিকে নাফিস মোর্শেদ তার দুই নারী সহপাঠীকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বাঁশেরহাট বাজারের বিসিএস গলিতে হাঁটছিলেন। এ সময় স্থানীয় মো. সজিব (২৬) ও মো. জুয়েল ইসলামের (৩৫) নেতৃত্বে একদল যুবক তাদের পথরোধ করে অশালীন মন্তব্য শুরু করে। বখাটেদের এমন আচরণের প্রতিবাদ করলে তারা উত্তেজিত হয়ে ওঠে।

আরো উল্লেখ করা হয়,  একপর্যায়ে জুয়েল ইসলামের নির্দেশে সজিব ধারালো ‘বাঁশের ফালা’ দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে নাফিসের কপালে প্রচণ্ড আঘাত করে। এতে তার কপাল গভীরভাবে কেটে গিয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। পরে সহপাঠীরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান।

হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান,“ কপালে ৮টি সেলাই দেয়া হয়েছে, রোগী আপাতত কিছুটা আশংকামুক্ত। তবে আমরা রোগীকে আমাদের পর্যবেক্ষণে রেখেছি।”

​এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. নওশের ওয়ান জানান, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। ইতোমধ্যে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর পক্ষে আমি নিজে বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছি। মামলার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত শুরু করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা ক্যাম্পাস ও এর আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করেছি এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যেন না ঘটে সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”

দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ নূরনবী জানান,“ শিক্ষার্থীর উপর হামলার ঘটনায় ইতোমধ্যে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। মামলার পরপরই ২ নং আসামী অভিযুক্ত জুয়েল ইসলামকে আটক করা হয়েছে, বাকিদের ধরার জন্য আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

বান্ধবীদের উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় হাবিপ্রবি শিক্ষার্থীর উপর বখাটেদের হামলা, আটক ১

আপডেট সময় ০১:৫২:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থীর ওপর দুর্বৃত্তদের অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে গুরুতর আহত হয়েছেন কৃষি অনুষদের ২৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী নাফিস মোর্শেদ। এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলে পুলিশ একজনকে আটক করে। শনিবার (১১ই এপ্রিল) দিবাগত রাতে বাঁশেরহাট সংলগ্ন বিসিএস গলি এলাকায় এ হামলার শিকার হন তিনি।

হামলার ঘটনার পরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. নওশের ওয়ান বাদী হয়ে ১.মোঃ সজিব (২৬) পিতা: অজ্ঞাত, ২.জুয়েল ইসলাম (৩৫) পিতা: মোঃ আলাউদ্দীন মাতা: মোছা: জরিনা বেগম, ৩. বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী রুপাই হাসদা এর ছোট ছেলে ও অজ্ঞাত কয়েকজনের নামে দণ্ডবিধির ৩০৭ (হত্যার চেষ্টা) ও ৩২৪ ধারায় দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১১ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৮:৩০ মিনিটের দিকে নাফিস মোর্শেদ তার দুই নারী সহপাঠীকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বাঁশেরহাট বাজারের বিসিএস গলিতে হাঁটছিলেন। এ সময় স্থানীয় মো. সজিব (২৬) ও মো. জুয়েল ইসলামের (৩৫) নেতৃত্বে একদল যুবক তাদের পথরোধ করে অশালীন মন্তব্য শুরু করে। বখাটেদের এমন আচরণের প্রতিবাদ করলে তারা উত্তেজিত হয়ে ওঠে।

আরো উল্লেখ করা হয়,  একপর্যায়ে জুয়েল ইসলামের নির্দেশে সজিব ধারালো ‘বাঁশের ফালা’ দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে নাফিসের কপালে প্রচণ্ড আঘাত করে। এতে তার কপাল গভীরভাবে কেটে গিয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। পরে সহপাঠীরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান।

হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান,“ কপালে ৮টি সেলাই দেয়া হয়েছে, রোগী আপাতত কিছুটা আশংকামুক্ত। তবে আমরা রোগীকে আমাদের পর্যবেক্ষণে রেখেছি।”

​এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. নওশের ওয়ান জানান, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। ইতোমধ্যে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর পক্ষে আমি নিজে বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছি। মামলার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত শুরু করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা ক্যাম্পাস ও এর আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করেছি এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যেন না ঘটে সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”

দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ নূরনবী জানান,“ শিক্ষার্থীর উপর হামলার ঘটনায় ইতোমধ্যে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। মামলার পরপরই ২ নং আসামী অভিযুক্ত জুয়েল ইসলামকে আটক করা হয়েছে, বাকিদের ধরার জন্য আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে।”