রামিসা হত্যার প্রতিবাদে ঢাবিতে ছাত্রীসংস্থার মানববন্ধন
- আপডেট সময় ০৭:২২:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
- / ৩০ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড, নারী নির্যাতন, ধর্ষণসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রী সংস্থা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। আজ বুধবার (২০মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সংগঠনের নেত্রীবৃন্দ এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
এসময় তাদের হাতে ‘তনু থেকে আছিয়া রামিসা, এর পরে আর কত!, I have a plan, বাংলাদেশ উল্টে যাক আমি রইবো চুপচাপ, ‘নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ হবে কবে?, সাংবিধানিক নিয়মে ধর্ষকের বিচার করতে জনাব সালাউদ্দিন আহমেদের কতদিন লাগবে?’ ইত্যাদি লেখা প্লেকার্ড প্রদর্শন করতে দেখা যায়।
মানববন্ধনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভানেত্রী সাদিকুন্নাহার তামান্না বলেন, ‘শিশুদের যেখানে আনন্দে বেড়ে ওঠার কথা, সেখানে তারা ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হচ্ছে। অপরাধীরা গ্রেফতার হলেও কিছুদিন পর জামিনে বের হয়ে আবার অপরাধ করছে। বিচার ব্যবস্থার দুর্বলতা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাবই অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।’
তিনি বলেন, ‘গত কয়েক মাস ধরে ধর্ষণের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে আন্দোলন ও প্রতিবাদ জানালেও কোনো দৃশ্যমান ফল পাওয়া যায়নি। তার ভাষায়, বিগত নয় দিনে পাঁচজন শিশুকে হত্যা করা হয়েছে, যার মধ্যে চারজনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। এসব ঘটনা দেশের ভয়াবহ নৈতিক ও সামাজিক অবক্ষয়ের চিত্র তুলে ধরে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যে ব্যক্তি শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যা করেছে, সে আগেও আসামি ছিল এবং জেল থেকে ছাড়া পেয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, অপরাধীদের যথাযথ শাস্তি না হওয়ায় তারা আরও ভয়ংকর অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।’ এ অবস্থায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সংবিধানের ব্যাখ্যা থেকে বের হয়ে দেশের বাস্তব অবস্থার দিকে তাকান, দেশের নারী ও শিশুদের নিরাপত্তার দিকে তাকান।’
মানববন্ধনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমাইয়া ফাহমিদা ‘রামিসা হত্যার’ ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, ‘এই ব্যর্থতা শুধু কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের নয়, পুরো জাতির। একইসঙ্গে বিচারহীনতার সংস্কৃতির জন্য রাষ্ট্রকেও দায় নিতে হবে এবং রাষ্ট্র কখনোই এই দায় এড়াতে পারবে না।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘একের পর এক হত্যা, ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা ঘটলেও সেগুলোর বিচার হচ্ছে না। কিছুদিন আলোচনা হওয়ার পর নতুন কোনো ইস্যু এলে পুরোনো ঘটনাগুলো মানুষ ভুলে যায়, আর এই বিচারহীনতার কারণেই অপরাধীরা আরও সাহসী হয়ে উঠছে।’
সুমাইয়া ফাহমিদা বলেন, অপরাধীরা এখন দিনের বেলা খুন ও ধর্ষণ করতে ভয় পাচ্ছে না। অন্যদিকে ভুক্তভোগী পরিবারের অসহায়তার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘রামিসার বাবারা বলছে তারা বিচার চায় না, কারণ রাষ্ট্র বিচার দিতে ব্যর্থ। এই অসহায়ত্ব শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের।’
সরকারের প্রতি আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার যেন এসব ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে নেয়। তার অভিযোগ, কোনো অপরাধীরই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেখা যাচ্ছে না। অথচ দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের অপরাধ অনেকাংশে কমে আসত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এর আগে মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি-ব্লকের একটি বাসায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত রামিসা স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হান্নান মোল্লার মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোহেল রানা পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া ছিলেন। কী কারণে শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় অন্য কারও সম্পৃক্ততা আছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পর লাশ উদ্ধার করে পল্লবী থানা পুলিশ। পরে সিআইডি ও এসবি সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন।
এই ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ। সেখানে পুলিশের কাছে রামিসা হত্যার দায় স্বীকার করে অভিযুক্ত সোহেল রানা।



















