ঢাকা ০৫:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
কুষ্টিয়ায় কথিত পীরকে পিটিয়ে হত্যা

ভিডিওতে ছাত্রদল নেতাদের স্পষ্ট দেখা গেলেও অদৃশ্য কারণে মামলার বাইরে

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ১২:৪৫:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৩৪ বার পড়া হয়েছে

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কথিত পীর শামীমকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলার আসামি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। থানায় করা মামলার সঙ্গে প্রকৃত ঘটনার কোনো মিল খুঁজে পাচ্ছেন না স্থানীয়রা।

হামলার তিন ঘণ্টা আগে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে গ্রামবাসীকে সংগঠিত করা এবং ভিডিও ফুটেজে শনাক্ত হামলায় নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তিদের নাম নেই মামলার এজাহারে। তারা বলছেন, বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা হামলার সময় সামনের সারিতে থাকলেও মামলায় আসামির তালিকায় তাদের নাম নেই। অন্যদিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় আসামির তালিকা তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা।

মামলার বাদী নিহতের ভাই ফজলুর রহমান। এক নম্বর আসামি করা হয়েছে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ খাজা আহম্মেদকে। দুই নম্বর আসামি খেলাফত মজলিসের দৌলতপুর উপজেলা আমির মাওলানা আসাদুজ্জামান। স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি রাজিব ও শিহাব নামের আরও দুজনের নাম রয়েছে এজাহারে। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ১৮০ থেকে ২০০ জনকে।

কেন শনাক্ত হওয়া হামলাকারীরা আসামি হলেন না-এমন প্রশ্নের জবাবে বাদী ফজলুর রহমান অনেকটা অসহায় বোধ করে বলেন, আপনার এই প্রশ্নের জবাব দিতে পারব না। আমাকে মাফ করবেন।

জানা যায়, ঘটনার সময় ধারণকৃত ১৮ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফুটেজে হামলায় সামনের সারিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি স্পষ্ট হলেও মামলায় তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। মামলার প্রধান আসামি যাকে করা হয়েছে, তিনি হামলার আশঙ্কা তৈরি হওয়ার আগে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভেড়ামারা সার্কেল) দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য অনুরাধ করেন এবং ঘটনার দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে ছাত্রদল নেতা জুবায়ের আহমেদ ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে কথিত পীর শামীমকে প্রতিহতের ডাক দেন। হামলায় সামনের সারিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি স্পষ্ট হলেও মামলায় তাদের নাম দেওয়া হয়নি।

কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন ঘটনার দিন প্রধান আসামি খাজা আহম্মেদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কথা হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘তিনি বলেছিলেন এবার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবেন। ওখানে ঝামেলা হলে তার সমস্যা হবে। তবে তিনি (খাজা আহম্মেদ) কথা দিয়েছিলেন কোনো ঝামেলা হবে না। কিন্তু এর কিছু সময় পর সেখানে হামলা হয়।’

প্রধান আসামি খাজা আহম্মেদ কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি। স্থানীয়দের দাবি, ‘প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে মিল না রেখে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলার আসামির তালিকা তৈরি করা হয়েছে। একটি পক্ষকে সুবিধা দিতে এবং অন্য পক্ষকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতে এই মামলা সাজানো হয়েছে।’

এদিকে সংবাদ সম্মেলন করে জামায়াত নেতারা দাবি করেন, ‘ঘটনাস্থলে ফিলিপনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক ও ছাত্রদল নেতাকর্মীসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু একটি স্বার্থান্বেষী মহল রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে পরিকল্পিতভাবে আমাদের নেতাদের জড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। খাজা আহম্মেদ দীর্ঘদিন ধরে ফিলিপনগর এলাকায় মানবিক, সন্ত্রাসমুক্ত, চাঁদাবাজি ও দখলদারবিরোধী রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন। তিনি জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ফিলিপনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থী।’ তবে ভিডিওতে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদককে দেখা যায়নি।

ফিলিপনগর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান একরামুল হক বলেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যে হামলাটি সংঘটিত হয়েছে। আমি শোনার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে যাই। হামলায় সব বয়সি ছেলেরা অংশ নিয়েছিল। সব দলের লোকই সেখানে ছিল।

মামলার প্রধান আসামি খাজা আহম্মেদ বলেন, ঘটনার সময় ফিলিপনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইদুল সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তার বাড়ি চার কিলোমিটার দূরে বাহিরমাদি গ্রামে। কীভাবে তিনি তাৎক্ষণিক সেখানে গেলেন। খাজা দাবি করেন, হামলায় বিএনপির অনেক নেতাই ঘটনাস্থলে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। কিন্তু তাদের আসামি না করে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

কোনো দলের নেতৃত্বে বা কোনো নেতার ইন্ধনে হামলা হয়নি উল্লেখ করে ফিলিপনগর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হেলাল উদ্দিন বলেন, মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে সেখানে হামলা চালিয়েছে। নির্দিষ্ট কোনো দলের বা নেতার নাম বলা যাবে না। তিনি প্রশাসনের প্রতি নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেন।

এদিকে স্থানীয়রা বলছেন, জনতার সম্মিলিত প্রতিহতকে একটি মহল ভিন্নদিকে নেওয়ার চেষ্টা করছে। ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তারা দাবি করছেন, দলমতনির্বিশেষে সেদিন সব পক্ষের মানুষ কথিত পীরের আস্তানায় যায়।

ভিডিও ফুটেজ থেকে জানা যায়, পীর শামীমের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে ওইদিনের হামলায় অংশ নেন ছাত্রদলের স্থানীয় ইউনিয়ন সেক্রেটারি মারুফ, ইউনিয়ন ছাত্রদলের গত বছরের সভাপতিপ্রার্থী বকুল, ছাত্রদল নেতা যুবায়ের আহমেদ, ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য রাসেল, যুবদলের মিঠুন, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের কুষ্টিয়া জেলা সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ সাফিসহ আরও অনেকে। হামলার ১৮ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডের যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে, সেটি ধারণ করেছিলেন ছাত্রদল কর্মী যুবায়ের নিজেই।

১১ এপ্রিল দুপুর আড়াইটার দিকে শামীমের আস্তানায় হামলা হয়। হামলার তিন ঘণ্টা আগে ছাত্রদল কর্মী যুবায়ের নিজের ফেসবুক আইডি থেকে একাধিক পোস্ট দিয়ে গ্রামবাসীকে সংগঠিত করেন। তিনি পবিত্র কুরআন অবমাননার অভিযোগ এনে কথিত পীর শামীমের আস্তানা উচ্ছেদের আহ্বান জানান।

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, হামলার সময় মন্ডলপাড়ার হাসেমের ছেলে যুবদল কর্মী সুজন পুরোনো রড মানুষের হাতে হাতে তুলে দিচ্ছেন। ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মারুফ ছুরি হাতে বাহিনী নিয়ে যাচ্ছেন। ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য রাসেল স্থানীয় যুবকদের ডেকে নেন এবং লাইভ করে সবাইকে আসার আহ্বান জানান। ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি আবদুল্লাহ মেসেঞ্জার গ্রুপ খুলে সবাইকে ঘটনাস্থলে আসার অনুরোধ করেন। হকিস্টিক হাতে পীরের কক্ষের দিকে ছুটে যেতে দেখা যায় ছাত্রদল কর্মী যুবায়েরকে। টিউবওয়েলের মাথা দিয়ে পীরের ওপর আঘাত করেন যুবদল ক্যাডার মিঠুন। অভিযোগ রয়েছে, মিঠুনের বাহিনী পীরের আস্তনার মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। একইভাবে ফিলিপনগর ইউনিয়নের যুবদল নেতা মাসুদ সক্রিয় ছিলেন শামীমের কর্মকাণ্ড নিয়ে। এদিকে এলাকাবাসী বলছেন, সম্মিলিত জনতা শামীমের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেও নির্দিষ্ট একটি পক্ষকে এখন ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন বলেন, মামলায় বাদী কাকে আসামি করবে, কাকে করবে না, সেটা তার ব্যাপার। এখানে পুলিশের কোনো ভূমিকা নেই। মামলাটির তদন্ত চলছে। ঘটনার সঙ্গে কোনো আসামি জড়িত না থাকলে তদন্তে তার নাম বাদ যাবে। আবার কেউ জড়িত থাকলে তার নাম অন্তর্ভুক্ত হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

কুষ্টিয়ায় কথিত পীরকে পিটিয়ে হত্যা

ভিডিওতে ছাত্রদল নেতাদের স্পষ্ট দেখা গেলেও অদৃশ্য কারণে মামলার বাইরে

আপডেট সময় ১২:৪৫:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কথিত পীর শামীমকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলার আসামি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। থানায় করা মামলার সঙ্গে প্রকৃত ঘটনার কোনো মিল খুঁজে পাচ্ছেন না স্থানীয়রা।

হামলার তিন ঘণ্টা আগে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে গ্রামবাসীকে সংগঠিত করা এবং ভিডিও ফুটেজে শনাক্ত হামলায় নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তিদের নাম নেই মামলার এজাহারে। তারা বলছেন, বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা হামলার সময় সামনের সারিতে থাকলেও মামলায় আসামির তালিকায় তাদের নাম নেই। অন্যদিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় আসামির তালিকা তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা।

মামলার বাদী নিহতের ভাই ফজলুর রহমান। এক নম্বর আসামি করা হয়েছে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ খাজা আহম্মেদকে। দুই নম্বর আসামি খেলাফত মজলিসের দৌলতপুর উপজেলা আমির মাওলানা আসাদুজ্জামান। স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি রাজিব ও শিহাব নামের আরও দুজনের নাম রয়েছে এজাহারে। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ১৮০ থেকে ২০০ জনকে।

কেন শনাক্ত হওয়া হামলাকারীরা আসামি হলেন না-এমন প্রশ্নের জবাবে বাদী ফজলুর রহমান অনেকটা অসহায় বোধ করে বলেন, আপনার এই প্রশ্নের জবাব দিতে পারব না। আমাকে মাফ করবেন।

জানা যায়, ঘটনার সময় ধারণকৃত ১৮ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফুটেজে হামলায় সামনের সারিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি স্পষ্ট হলেও মামলায় তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। মামলার প্রধান আসামি যাকে করা হয়েছে, তিনি হামলার আশঙ্কা তৈরি হওয়ার আগে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভেড়ামারা সার্কেল) দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য অনুরাধ করেন এবং ঘটনার দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে ছাত্রদল নেতা জুবায়ের আহমেদ ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে কথিত পীর শামীমকে প্রতিহতের ডাক দেন। হামলায় সামনের সারিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি স্পষ্ট হলেও মামলায় তাদের নাম দেওয়া হয়নি।

কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন ঘটনার দিন প্রধান আসামি খাজা আহম্মেদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কথা হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘তিনি বলেছিলেন এবার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবেন। ওখানে ঝামেলা হলে তার সমস্যা হবে। তবে তিনি (খাজা আহম্মেদ) কথা দিয়েছিলেন কোনো ঝামেলা হবে না। কিন্তু এর কিছু সময় পর সেখানে হামলা হয়।’

প্রধান আসামি খাজা আহম্মেদ কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি। স্থানীয়দের দাবি, ‘প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে মিল না রেখে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলার আসামির তালিকা তৈরি করা হয়েছে। একটি পক্ষকে সুবিধা দিতে এবং অন্য পক্ষকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতে এই মামলা সাজানো হয়েছে।’

এদিকে সংবাদ সম্মেলন করে জামায়াত নেতারা দাবি করেন, ‘ঘটনাস্থলে ফিলিপনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক ও ছাত্রদল নেতাকর্মীসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু একটি স্বার্থান্বেষী মহল রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে পরিকল্পিতভাবে আমাদের নেতাদের জড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। খাজা আহম্মেদ দীর্ঘদিন ধরে ফিলিপনগর এলাকায় মানবিক, সন্ত্রাসমুক্ত, চাঁদাবাজি ও দখলদারবিরোধী রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন। তিনি জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ফিলিপনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থী।’ তবে ভিডিওতে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদককে দেখা যায়নি।

ফিলিপনগর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান একরামুল হক বলেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যে হামলাটি সংঘটিত হয়েছে। আমি শোনার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে যাই। হামলায় সব বয়সি ছেলেরা অংশ নিয়েছিল। সব দলের লোকই সেখানে ছিল।

মামলার প্রধান আসামি খাজা আহম্মেদ বলেন, ঘটনার সময় ফিলিপনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইদুল সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তার বাড়ি চার কিলোমিটার দূরে বাহিরমাদি গ্রামে। কীভাবে তিনি তাৎক্ষণিক সেখানে গেলেন। খাজা দাবি করেন, হামলায় বিএনপির অনেক নেতাই ঘটনাস্থলে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। কিন্তু তাদের আসামি না করে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

কোনো দলের নেতৃত্বে বা কোনো নেতার ইন্ধনে হামলা হয়নি উল্লেখ করে ফিলিপনগর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হেলাল উদ্দিন বলেন, মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে সেখানে হামলা চালিয়েছে। নির্দিষ্ট কোনো দলের বা নেতার নাম বলা যাবে না। তিনি প্রশাসনের প্রতি নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেন।

এদিকে স্থানীয়রা বলছেন, জনতার সম্মিলিত প্রতিহতকে একটি মহল ভিন্নদিকে নেওয়ার চেষ্টা করছে। ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তারা দাবি করছেন, দলমতনির্বিশেষে সেদিন সব পক্ষের মানুষ কথিত পীরের আস্তানায় যায়।

ভিডিও ফুটেজ থেকে জানা যায়, পীর শামীমের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে ওইদিনের হামলায় অংশ নেন ছাত্রদলের স্থানীয় ইউনিয়ন সেক্রেটারি মারুফ, ইউনিয়ন ছাত্রদলের গত বছরের সভাপতিপ্রার্থী বকুল, ছাত্রদল নেতা যুবায়ের আহমেদ, ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য রাসেল, যুবদলের মিঠুন, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের কুষ্টিয়া জেলা সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ সাফিসহ আরও অনেকে। হামলার ১৮ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডের যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে, সেটি ধারণ করেছিলেন ছাত্রদল কর্মী যুবায়ের নিজেই।

১১ এপ্রিল দুপুর আড়াইটার দিকে শামীমের আস্তানায় হামলা হয়। হামলার তিন ঘণ্টা আগে ছাত্রদল কর্মী যুবায়ের নিজের ফেসবুক আইডি থেকে একাধিক পোস্ট দিয়ে গ্রামবাসীকে সংগঠিত করেন। তিনি পবিত্র কুরআন অবমাননার অভিযোগ এনে কথিত পীর শামীমের আস্তানা উচ্ছেদের আহ্বান জানান।

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, হামলার সময় মন্ডলপাড়ার হাসেমের ছেলে যুবদল কর্মী সুজন পুরোনো রড মানুষের হাতে হাতে তুলে দিচ্ছেন। ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মারুফ ছুরি হাতে বাহিনী নিয়ে যাচ্ছেন। ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য রাসেল স্থানীয় যুবকদের ডেকে নেন এবং লাইভ করে সবাইকে আসার আহ্বান জানান। ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি আবদুল্লাহ মেসেঞ্জার গ্রুপ খুলে সবাইকে ঘটনাস্থলে আসার অনুরোধ করেন। হকিস্টিক হাতে পীরের কক্ষের দিকে ছুটে যেতে দেখা যায় ছাত্রদল কর্মী যুবায়েরকে। টিউবওয়েলের মাথা দিয়ে পীরের ওপর আঘাত করেন যুবদল ক্যাডার মিঠুন। অভিযোগ রয়েছে, মিঠুনের বাহিনী পীরের আস্তনার মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। একইভাবে ফিলিপনগর ইউনিয়নের যুবদল নেতা মাসুদ সক্রিয় ছিলেন শামীমের কর্মকাণ্ড নিয়ে। এদিকে এলাকাবাসী বলছেন, সম্মিলিত জনতা শামীমের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেও নির্দিষ্ট একটি পক্ষকে এখন ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন বলেন, মামলায় বাদী কাকে আসামি করবে, কাকে করবে না, সেটা তার ব্যাপার। এখানে পুলিশের কোনো ভূমিকা নেই। মামলাটির তদন্ত চলছে। ঘটনার সঙ্গে কোনো আসামি জড়িত না থাকলে তদন্তে তার নাম বাদ যাবে। আবার কেউ জড়িত থাকলে তার নাম অন্তর্ভুক্ত হবে।