ঢাকা ১২:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে শিবিরের মিছিলে দেশীয় অস্ত্রসহ ছাত্রদলের হামলা, আহত ৪২

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৭:১৫:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৪৬ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল কর্তৃক জুলাই গণঅভ্যূত্থানের গ্রাফিতি মুছে গুপ্ত লেখা ও শহীদদের বাণী সম্বলিত ফেস্টুন ছেঁড়ার ঘটনায় শিক্ষকদের কাছে অভিযোগ দেয়ায় শিবির নেতাদের উপর হামলা চালিয়েছে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করলে দ্বিতীয় দফায় শিবির নেতাকর্মীদের উপর দেশীয় অস্ত্রসহ হামলা করলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পৃথক দুই হামলায় ছাত্রশিবিরের ৪২ জনসহ অন্তত অর্ধশত আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজের ক্যাম্পাস সংলগ্ন এলাকায় এ হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে জুলাই বিপ্লবের গ্রাফিতি মুছে গুপ্ত খেলা ও শহীদদের বাণী সংবলিত ফেস্টুন ও আধিপত্যবিরোধী পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। এর প্রতিবাদ জানিয়ে কলেজ প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দেন ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। সেখান থেকে বের হওয়ার পর ক্যাম্পাসেই ছাত্রশিবির নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালায় ছাত্রদল নেতারা। এসময় ছাত্রশিবিরের অন্তত ১২ জন নেতাকর্মী আহত হন।

এ হামলার প্রতিবাদে বিকেল চারটার দিকে মিছিল বের করে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। এসময় দেশীয় অস্ত্রসহ শিবির নেতাদের উপর হামলা চালায় ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা। পরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এসময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হাতে দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়। এতে ছাত্রশিবিরের ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে একজনের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হওয়াসহ পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ছাড়া ছাত্রদলের কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে দাবি দলটির। সবমিলে প্রায় অর্ধশত আহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শিবির নেতারা বলেন, “শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব হলেও প্রশাসনের নিস্পৃহতা অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে। বিনা উষ্কানিতে দুই দফায় সশস্ত্র হামলা চালিয়ে আমাদের ৪২ জন নেতাকর্মীকে আহত করা হয়েছে। আমরা তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় যেকোনো পরিস্থিতির জন্য কর্তৃপক্ষই দায়ী থাকবে। সেইসাথে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা জোরদার এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

কলেজের অধ্যক্ষ আবু সালেহ মোহাম্মদ নঈম উদ্দিন বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষকরা প্রথমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফতাব উদ্দিন বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে শিবিরের মিছিলে দেশীয় অস্ত্রসহ ছাত্রদলের হামলা, আহত ৪২

আপডেট সময় ০৭:১৫:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল কর্তৃক জুলাই গণঅভ্যূত্থানের গ্রাফিতি মুছে গুপ্ত লেখা ও শহীদদের বাণী সম্বলিত ফেস্টুন ছেঁড়ার ঘটনায় শিক্ষকদের কাছে অভিযোগ দেয়ায় শিবির নেতাদের উপর হামলা চালিয়েছে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করলে দ্বিতীয় দফায় শিবির নেতাকর্মীদের উপর দেশীয় অস্ত্রসহ হামলা করলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পৃথক দুই হামলায় ছাত্রশিবিরের ৪২ জনসহ অন্তত অর্ধশত আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজের ক্যাম্পাস সংলগ্ন এলাকায় এ হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে জুলাই বিপ্লবের গ্রাফিতি মুছে গুপ্ত খেলা ও শহীদদের বাণী সংবলিত ফেস্টুন ও আধিপত্যবিরোধী পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। এর প্রতিবাদ জানিয়ে কলেজ প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দেন ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। সেখান থেকে বের হওয়ার পর ক্যাম্পাসেই ছাত্রশিবির নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালায় ছাত্রদল নেতারা। এসময় ছাত্রশিবিরের অন্তত ১২ জন নেতাকর্মী আহত হন।

এ হামলার প্রতিবাদে বিকেল চারটার দিকে মিছিল বের করে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। এসময় দেশীয় অস্ত্রসহ শিবির নেতাদের উপর হামলা চালায় ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা। পরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এসময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হাতে দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়। এতে ছাত্রশিবিরের ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে একজনের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হওয়াসহ পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ছাড়া ছাত্রদলের কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে দাবি দলটির। সবমিলে প্রায় অর্ধশত আহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শিবির নেতারা বলেন, “শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব হলেও প্রশাসনের নিস্পৃহতা অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে। বিনা উষ্কানিতে দুই দফায় সশস্ত্র হামলা চালিয়ে আমাদের ৪২ জন নেতাকর্মীকে আহত করা হয়েছে। আমরা তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় যেকোনো পরিস্থিতির জন্য কর্তৃপক্ষই দায়ী থাকবে। সেইসাথে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা জোরদার এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

কলেজের অধ্যক্ষ আবু সালেহ মোহাম্মদ নঈম উদ্দিন বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষকরা প্রথমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফতাব উদ্দিন বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।