ঢাকা ০৫:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আল জাজিরার বিশ্লেষণ

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে বড় পরাজয় নেতানিয়াহুর

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৪:৩৭:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
  • / ৪ বার পড়া হয়েছে

ইসরাইলের সংবাদমাধ্যম হারেৎজ মঙ্গলবার তাদের প্রথম পাতায় শিরোনামে লিখেছিল, ‘৭ অক্টোবরের পর ইরান সংকটই নেতানিয়াহুর সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা’। এই শিরোনাম ইরান যুদ্ধ নিয়ে অনেকের মনোভাব তুলে ধরেছে।

ইরানের সঙ্গে সাড়ে তিন মাস ধরে চলা যুদ্ধের পর ইসরাইলের প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির মধ্যস্থতা করেছে। দৃশ্যত এতে ইসরাইলের কোনো মতামত নেওয়া হয়নি।

বরং ইরান রাষ্ট্র, যাকে ইসরাইলের রাজনীতিবিদেরা কয়েক দশক ধরে নিজেদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে আসছেন, তা এখনো টিকে আছে। সেই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দেশটি আগের চেয়েও বেশি শক্তিশালী হয়েছে।

লেবাননেও নতুন বাস্তবতার মুখে পড়েছে ইসরাইল। দেশটি দাবি করে আসছিল, ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর রকেট হামলা ঠেকাতে তাদের সামরিক অভিযান প্রয়োজন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি স্বাক্ষরের আগে লেবাননে ইসরাইলের সামরিক তৎপরতা ওয়াশিংটন ও তেহরানের সম্পর্কে নতুন জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

চুক্তি নিয়ে ব্যাপক বিরোধিতা

ইসরাইলে এই চুক্তির বিরোধিতা আসছে মধ্যপন্থি ও কট্টর ডানপন্থি উভয় পক্ষ থেকেই।

এই বছরের শেষের দিকে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিপক্ষে লড়বেন মধ্যপন্থি গাদি আইজেনকোট। তিনি ইসরাইলি নেতা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির কঠোর সমালোচনা করেছেন।

আইজেনকোট এটিকে ‘একটি ব্যর্থ সরকারের হতাশাজনক পরিণত’ বলে অভিহিতে করেছেন। তার মতে, নেতানিয়াহুর পূর্ণ বিজয়ের প্রতিশ্রুতি এবং বাস্তব চুক্তির মধ্যে বিশাল ফারাক রয়েছে।

অন্যদিকে নেতানিয়াহুর জোট সরকারের কট্টর ডানপন্থি সদস্য জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচও চুক্তির বিরোধিতা করেছেন। বেন-গভির বলেন, ‘ট্রাম্প ও খামেনির চুক্তি অনুযায়ী আমাদের চলা উচিত নয়।’ এছাড়া স্মোত্রিচ একে ‘বাজে চুক্তি’ বলে অভিহিত করেছেন।

বছরের পর বছর ধরে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য চাপ সৃষ্টি করে এবং ইসরাইলে এই যুদ্ধকে জনপ্রিয় করে তুলেছেন নেতানিয়াহু। তাই তিনি এখন বুঝতে পারছেন, এই সংঘাতের অবসান ঘটানো দেশের অভ্যন্তরে জনপ্রিয় নয়। প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে তার কথিত ‘ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত’ থেকে নিজেকে যথাসম্ভব দূরে রাখতে যথেষ্ট চেষ্টা করছেন। সেই সঙ্গে যুদ্ধ পরিচালনায় নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের সমান অংশীদার বলেও দাবি করছেন।

সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা বহু বছরের জন্য ইসরাইলের ওপর ঝুলে থাকা ধ্বংসের হুমকি দূর করেছি। আমরা ইসরাইল রাষ্ট্রকে নিশ্চিহ্ন হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছি।’ তবে সমালোচকদের মতে, ২০২৫ সালের ১২ দিনের ইরান যুদ্ধের পরও তিনি একই ধরনের ঐতিহাসিক বিজয় দাবি করেছিলেন, যার বাস্তব ফল এখন প্রশ্নের মুখে।

ইসরাইলের সাবেক সরকারি উপদেষ্টা ড্যানিয়েল লেভি বলেন, ইসরাইলের ধারণা ছিল যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে জড়ালে ইরানকে সহজেই পরাজিত করা যাবে, কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেনি। তিনি বলেন, ‘ধারণাটি ছিল ঔপনিবেশিক মানসিকতা ও ইসরাইলি অহমিকার প্রতিফলন। ইরান কৌশলগতভাবে এগিয়ে যেতে পারে—এমন সম্ভাবনা তাদের বিবেচনাতেই ছিল না।’

আঞ্চলিক শক্তিকে কে এগিয়ে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছেন, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করবে না। তবে, এমন একটি যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে ইরানকে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর করতে রাজি করাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি কার্যকরভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের পরিপ্রেক্ষিতে, যে যুদ্ধে ইরানই জয়ী হয়েছে বলে বিশ্বাস করেন অনেকে।

কিংস কলেজ লন্ডনের যুদ্ধবিদ্যা বিভাগের সিনিয়র টিচিং ফেলো আরন ব্রেগম্যান বলেন, ‘নেতানিয়াহু ইসরাইলের ওপর কৌশলগত বিপর্যয় চাপিয়ে দিয়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘নেতানিয়াহু ইরানের সঙ্গে এমন একটি যুদ্ধ শুরু করেছিলেন, যার লক্ষ্য ছিল দেশটির শাসনব্যবস্থা উৎখাত করা। কিন্তু সেই শাসনব্যবস্থা এখনো টিকে আছে এবং আগের চেয়ে আরো বেশি উগ্রপন্থি হয়ে উঠেছে। ইরান তার ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার পুনর্গঠন করবে।’

এছাড়া লেবাননে ইসরাইলের চলমান সামরিক অভিযান নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। ইরান দীর্ঘদিন ধরে লেবাননে ইসরাইলি হামলা বন্ধকে যেকোনো সমঝোতার শর্ত হিসেবে তুলে ধরেছে। তবে নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি লেবাননে ইসরাইলের পদক্ষেপ সীমিত করবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান ভবিষ্যৎ যুদ্ধবিরতির পথে বাধা তৈরি করতে পারে এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেল আবিবের সম্পর্কে নতুন উত্তেজনার জন্ম দিতে পারে। মঙ্গলবার ট্রাম্প নিজেও বলেন, লেবাননে ইসরাইলের আচরণে তিনি খুশি নন এবং নেতানিয়াহুকে আরো দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ব্রেগম্যান বলেন, ‘ভূগোল ইরানের পক্ষে। এটি (হরমুজ প্রণালি) একটি অর্থনৈতিক পারমাণবিক বোমা, যা ইরানিরা আবারও বিনা দ্বিধায় ব্যবহার করবে।’

নেতানিয়াহুকে নির্বাচনের আগে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা, লেবানন সংকট এবং ইরান যুদ্ধ—সব মিলিয়ে তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এখন কঠিন পরীক্ষার মুখে।

সাবেক ইসরায়েলি কূটনীতিক অ্যালন পিঙ্কাস বলেন, ‘নেতানিয়াহুকে এখন নির্বাচনে যেতে হচ্ছে ৭ অক্টোবরের বিপর্যয়, লেবাননে ব্যর্থতা এবং ইরানের সঙ্গে বিপর্যয়কর যুদ্ধের বোঝা নিয়ে।’

তিনি বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত, নেতানিয়াহুকে এমন একজন ব্যক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে, যিনি জীবনের সেরা সুযোগটি পেয়েছিলেন এবং তা নষ্ট করেছেন। সবকিছু তার অনুকূলে ছিল: একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট, মিত্রহীন একা ইরান এবং সামরিক ও প্রযুক্তিগত সুবিধা। কিন্তু তিনি তা নষ্ট করেছেন।’

পিংকাস আরো বলেন, ‘৩০ বছর ধরে তিনি ইরান নিয়ে কথা বলে আসছেন এবং যখন সময় এলো, তিনি তা নষ্ট করলেন।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আল জাজিরার বিশ্লেষণ

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে বড় পরাজয় নেতানিয়াহুর

আপডেট সময় ০৪:৩৭:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

ইসরাইলের সংবাদমাধ্যম হারেৎজ মঙ্গলবার তাদের প্রথম পাতায় শিরোনামে লিখেছিল, ‘৭ অক্টোবরের পর ইরান সংকটই নেতানিয়াহুর সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা’। এই শিরোনাম ইরান যুদ্ধ নিয়ে অনেকের মনোভাব তুলে ধরেছে।

ইরানের সঙ্গে সাড়ে তিন মাস ধরে চলা যুদ্ধের পর ইসরাইলের প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির মধ্যস্থতা করেছে। দৃশ্যত এতে ইসরাইলের কোনো মতামত নেওয়া হয়নি।

বরং ইরান রাষ্ট্র, যাকে ইসরাইলের রাজনীতিবিদেরা কয়েক দশক ধরে নিজেদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে আসছেন, তা এখনো টিকে আছে। সেই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দেশটি আগের চেয়েও বেশি শক্তিশালী হয়েছে।

লেবাননেও নতুন বাস্তবতার মুখে পড়েছে ইসরাইল। দেশটি দাবি করে আসছিল, ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর রকেট হামলা ঠেকাতে তাদের সামরিক অভিযান প্রয়োজন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি স্বাক্ষরের আগে লেবাননে ইসরাইলের সামরিক তৎপরতা ওয়াশিংটন ও তেহরানের সম্পর্কে নতুন জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

চুক্তি নিয়ে ব্যাপক বিরোধিতা

ইসরাইলে এই চুক্তির বিরোধিতা আসছে মধ্যপন্থি ও কট্টর ডানপন্থি উভয় পক্ষ থেকেই।

এই বছরের শেষের দিকে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিপক্ষে লড়বেন মধ্যপন্থি গাদি আইজেনকোট। তিনি ইসরাইলি নেতা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির কঠোর সমালোচনা করেছেন।

আইজেনকোট এটিকে ‘একটি ব্যর্থ সরকারের হতাশাজনক পরিণত’ বলে অভিহিতে করেছেন। তার মতে, নেতানিয়াহুর পূর্ণ বিজয়ের প্রতিশ্রুতি এবং বাস্তব চুক্তির মধ্যে বিশাল ফারাক রয়েছে।

অন্যদিকে নেতানিয়াহুর জোট সরকারের কট্টর ডানপন্থি সদস্য জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচও চুক্তির বিরোধিতা করেছেন। বেন-গভির বলেন, ‘ট্রাম্প ও খামেনির চুক্তি অনুযায়ী আমাদের চলা উচিত নয়।’ এছাড়া স্মোত্রিচ একে ‘বাজে চুক্তি’ বলে অভিহিত করেছেন।

বছরের পর বছর ধরে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য চাপ সৃষ্টি করে এবং ইসরাইলে এই যুদ্ধকে জনপ্রিয় করে তুলেছেন নেতানিয়াহু। তাই তিনি এখন বুঝতে পারছেন, এই সংঘাতের অবসান ঘটানো দেশের অভ্যন্তরে জনপ্রিয় নয়। প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে তার কথিত ‘ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত’ থেকে নিজেকে যথাসম্ভব দূরে রাখতে যথেষ্ট চেষ্টা করছেন। সেই সঙ্গে যুদ্ধ পরিচালনায় নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের সমান অংশীদার বলেও দাবি করছেন।

সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা বহু বছরের জন্য ইসরাইলের ওপর ঝুলে থাকা ধ্বংসের হুমকি দূর করেছি। আমরা ইসরাইল রাষ্ট্রকে নিশ্চিহ্ন হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছি।’ তবে সমালোচকদের মতে, ২০২৫ সালের ১২ দিনের ইরান যুদ্ধের পরও তিনি একই ধরনের ঐতিহাসিক বিজয় দাবি করেছিলেন, যার বাস্তব ফল এখন প্রশ্নের মুখে।

ইসরাইলের সাবেক সরকারি উপদেষ্টা ড্যানিয়েল লেভি বলেন, ইসরাইলের ধারণা ছিল যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে জড়ালে ইরানকে সহজেই পরাজিত করা যাবে, কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেনি। তিনি বলেন, ‘ধারণাটি ছিল ঔপনিবেশিক মানসিকতা ও ইসরাইলি অহমিকার প্রতিফলন। ইরান কৌশলগতভাবে এগিয়ে যেতে পারে—এমন সম্ভাবনা তাদের বিবেচনাতেই ছিল না।’

আঞ্চলিক শক্তিকে কে এগিয়ে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছেন, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করবে না। তবে, এমন একটি যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে ইরানকে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর করতে রাজি করাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি কার্যকরভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের পরিপ্রেক্ষিতে, যে যুদ্ধে ইরানই জয়ী হয়েছে বলে বিশ্বাস করেন অনেকে।

কিংস কলেজ লন্ডনের যুদ্ধবিদ্যা বিভাগের সিনিয়র টিচিং ফেলো আরন ব্রেগম্যান বলেন, ‘নেতানিয়াহু ইসরাইলের ওপর কৌশলগত বিপর্যয় চাপিয়ে দিয়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘নেতানিয়াহু ইরানের সঙ্গে এমন একটি যুদ্ধ শুরু করেছিলেন, যার লক্ষ্য ছিল দেশটির শাসনব্যবস্থা উৎখাত করা। কিন্তু সেই শাসনব্যবস্থা এখনো টিকে আছে এবং আগের চেয়ে আরো বেশি উগ্রপন্থি হয়ে উঠেছে। ইরান তার ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার পুনর্গঠন করবে।’

এছাড়া লেবাননে ইসরাইলের চলমান সামরিক অভিযান নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। ইরান দীর্ঘদিন ধরে লেবাননে ইসরাইলি হামলা বন্ধকে যেকোনো সমঝোতার শর্ত হিসেবে তুলে ধরেছে। তবে নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি লেবাননে ইসরাইলের পদক্ষেপ সীমিত করবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান ভবিষ্যৎ যুদ্ধবিরতির পথে বাধা তৈরি করতে পারে এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেল আবিবের সম্পর্কে নতুন উত্তেজনার জন্ম দিতে পারে। মঙ্গলবার ট্রাম্প নিজেও বলেন, লেবাননে ইসরাইলের আচরণে তিনি খুশি নন এবং নেতানিয়াহুকে আরো দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ব্রেগম্যান বলেন, ‘ভূগোল ইরানের পক্ষে। এটি (হরমুজ প্রণালি) একটি অর্থনৈতিক পারমাণবিক বোমা, যা ইরানিরা আবারও বিনা দ্বিধায় ব্যবহার করবে।’

নেতানিয়াহুকে নির্বাচনের আগে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা, লেবানন সংকট এবং ইরান যুদ্ধ—সব মিলিয়ে তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এখন কঠিন পরীক্ষার মুখে।

সাবেক ইসরায়েলি কূটনীতিক অ্যালন পিঙ্কাস বলেন, ‘নেতানিয়াহুকে এখন নির্বাচনে যেতে হচ্ছে ৭ অক্টোবরের বিপর্যয়, লেবাননে ব্যর্থতা এবং ইরানের সঙ্গে বিপর্যয়কর যুদ্ধের বোঝা নিয়ে।’

তিনি বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত, নেতানিয়াহুকে এমন একজন ব্যক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে, যিনি জীবনের সেরা সুযোগটি পেয়েছিলেন এবং তা নষ্ট করেছেন। সবকিছু তার অনুকূলে ছিল: একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট, মিত্রহীন একা ইরান এবং সামরিক ও প্রযুক্তিগত সুবিধা। কিন্তু তিনি তা নষ্ট করেছেন।’

পিংকাস আরো বলেন, ‘৩০ বছর ধরে তিনি ইরান নিয়ে কথা বলে আসছেন এবং যখন সময় এলো, তিনি তা নষ্ট করলেন।’