রাজারহাটে ছাত্রদলের আহ্বায়ক-সদস্য সচিবের নেতৃত্বে শিবির সভাপতির মাথা ফাটাল নেতাকর্মীরা
- আপডেট সময় ০৬:১৭:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
- / ৩৪ বার পড়া হয়েছে
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজারহাট পশ্চিম থানা শাখার সভাপতি সুজন সরকারের ওপর অতর্কিত হামলা করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। হামলায় সুজন সরকারের মাথা ফেটে গুরুতর জখম হয়েছেন। আজ রোববার (২৬ এপ্রিল, ২০২৬) বিকেলে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের এক নেতার ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে ঝামেলার সূত্রপাত হয়। ওই নেতা একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকাকালীন আজ বিকেলে ছাত্রদলের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী তার অফিসে গিয়ে হট্টগোল শুরু করে। বিষয়টি জানতে পেরে শিবির সভাপতি সুজন সরকার সেখানে সহযোগিতার জন্য এগিয়ে গেলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তার ওপর চড়াও হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাজারহাট উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রুবেল পাটোয়ারী, সদস্য সচিব মিজানুর রহমান সাদ্দাম এবং মীর ইসমাইল হোসেন ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সোহাগ আহমেদের নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৪০ জন নেতাকর্মী দেশীয় অস্ত্র ও স্টিলের পাইপ নিয়ে এই হামলা চালায়। হামলাকারীরা সুজন সরকারকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি মারধর করলে তার মাথা ফেটে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার মাথায় ৭ থেকে ৮টি সেলাই দিতে হয়। হামলায় সামির সাখী মাহিন নামে এক শিক্ষার্থীও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
শিবিরের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, পুলিশের উপস্থিতিতেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও বিস্ময় সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই রাজারহাটে ১১ দলীয় জোট ও বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
তবে বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানা গেছে। শিবিরের পক্ষ থেকে এই হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলের প্রস্তুতি চলছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোশারফ হোসেন জানান, একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের উপস্থিতিতে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রুবেল পাটোয়ারী, সদস্য সচিব মিজানুর রহমান সাদ্দাম এবং কলেজ সভাপতি সোহাগের নেতৃত্বে যেভাবে দেশীয় অস্ত্র ও স্টিলের পাইপ দিয়ে আমাদের নেতাকর্মীর ওপর হামলা চালানো হয়েছে, তা কোনো সুস্থ রাজনৈতিক চর্চা হতে পারে না। এই হামলায় সুজন ভাইয়ের মাথা ফেটে মারাত্মক জখম হয়েছে এবং তাকে হাসপাতালে ৭-৮টি সেলাই দিতে হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, ছাত্রশিবির শান্তি ও শৃঙ্খলায় বিশ্বাসী, কিন্তু আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে দেবেন না। পুলিশের সামনে এই ধরণের তাণ্ডব প্রমাণ করে যে, হামলাকারীরা কাউকেই তোয়াক্কা করছে না। আমরা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি- দোষীদের গ্রেপ্তার করতে হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।



















