১৯ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতায় কুবি; স্থবির অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম
- আপডেট সময় ০২:২৮:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
- / ৫৫ বার পড়া হয়েছে
টানা ১৯ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতায় স্থবির হয়ে পড়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীরা যেমন পড়াশোনা ও অ্যাসাইনমেন্ট প্রস্তুত করতে পারছেন না, তেমনি প্রশাসনিক কাজেও দেখা দিয়েছে চরম ভোগান্তি।
শিক্ষার্থীরা জানান, রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু হওয়া এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট সোমবার দুপুর ১টা পর্যন্ত (প্রতিবেদন লিখা পর্যন্ত) অব্যাহত থাকায় বিপাকে পড়েছেন তারা। বিশেষ করে যাদের সামনে মিডটার্ম ও সেমিস্টার পরীক্ষা রয়েছে, তারা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেন।
এদিকে বিদ্যুৎ সংকটের কারণে বিভিন্ন বিভাগে নির্ধারিত ক্লাস, পরীক্ষা, এমনকি সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষাও স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। এতে করে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে বড়ো ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, অধিকাংশ শিক্ষার্থী অ্যাসাইনমেন্ট ও প্রেজেন্টেশন তৈরি করতে পারছেন না। অনেকে ল্যাপটপ-ফোন চার্জ দিতে না পারায় কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন।
দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতোমধ্যেই পানির সংকট দেখা দিয়েছে। আবাসিক হলগুলোতে শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে জানা গেছে।
বিজয়-২৪ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মনির হোসেন বলেন, আমাদের সেমিস্টার ফাইনাল চলছে, এর মধ্যে গতকাল থেকে বিদ্যুৎ নেই এবং নেই বিকল্প কোনো ব্যবস্থা। আর সকাল থেকে পানির সংকট দেখা দিচ্ছে, দ্রুত সময়ে বিদ্যুৎ না আসলে হলে যারা আছি তাদেরকে খুব সমস্যায় পড়তে হবে।”
দীর্ঘ সময়ের এই বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করে অ্যাকাডেমিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, “আজ আমাদের একটি কোর্সের প্রেজেন্টেশন ছিলো, বিদ্যুৎ না থাকায় স্লাইড শো করতে পারিনি। তা ছাড়া বিদ্যুৎ না থাকায় বাকি ক্লাসগুলো করতেও সমস্যা হয়েছে। প্রশাসনের উচিত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা। কারণ বিদ্যুৎ না থাকলে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।
বিদ্যুতের খুঁটি ও কিছু যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বিদ্যুৎ কখন আসবে নির্দিষ্ট সময় এখনো বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ম. মিজানুর রহমান বলেন, “গতকাল রাত ১১টার দিকে আমরা পিডিবি কার্যালয়ে যোগাযোগ করেছি। শালবন এলাকায় গাছ ভেঙে বিদ্যুতের খুঁটি ও কিছু যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তারা মেরামতের কাজ করছে, তবে এখনো নির্দিষ্ট সময় বলা যাচ্ছে না।”
পিডিবির উপ-সহকারী প্রকৌশলী পিন্টু দেবনাথ জানান, “শালবন এলাকায় গাছ পড়ে আমাদের কয়েকটি খুঁটি ভেঙে গেছে। দ্রুত মেরামতের কাজ চলছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি যাতে সন্ধ্যার আগেই বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা যায়।”
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ নুরুল করিম চৌধুরী বলেন, “আমাদের কাজগুলো সব ডিজিটাল, বিদ্যুৎ না থাকায় পুরো দপ্তর এখন স্থবির হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে একটি ডিপার্টমেন্ট সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত করেছে।”
তিনি আরো বলেন, “আমাদের বিকল্প হিসেবে জেনারেটর রয়েছে, তবে এগুলো সার্ভিস খুব সীমিত।”
























