ঢাকা ০৮:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চ্যাটজিপিটিকে লিমন-বৃষ্টির হত্যাকারী ‘কীভাবে মরদেহ গুম করা যায়’

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় ০৪:৩২:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৩২ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি হত্যার ঘটনায় আদালতে জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে হত্যাকরী হিশাম আবুঘারবিয়াহর। ২৬ বছর বয়সি হিশাম যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। আদালতের নথিতে দেখা গেছে, তিনি লিমন ও বৃষ্টিকে হত্যার আগে চ্যাটজিপিটিকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘কীভাবে হত্যার পর মরদেহ গুম করা যায়।’

সোমবার (২৭ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্লোরিডার টাম্পা বে এলাকার একটি জলাশয়ে মানুষের দেহাবশেষ পাওয়া গেছে। কর্তৃপক্ষ ওই এলাকায় নিখোঁজ শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টির মরদেহের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছিল। পিনেলাস কাউন্টিতে পাওয়া দেহাবশেষগুলো এখনও বৃষ্টির কি না তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ অফিসের তথ্যমতে, দেহাবশেষগুলো ইন্টারস্টেট ২৭৫ এবং ফোর্থ স্ট্রিট নর্থ এলাকায় পাওয়া গেছে। হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের সেন্ট পিটার্সবার্গ এরিয়ায় অবস্থিত।

প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে বৃষ্টিকে মৃত বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি গত সপ্তাহে জামিল লিমনের সঙ্গে নিখোঁজ হন। লিমনের মরদেহ শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) টাম্পার কাছের একটি ব্রিজের ওপর পাওয়া যায়। লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘারবিয়াহকে শনিবার (২৫ এপ্রিল) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্রসহ দুটি পূর্বপরিকল্পিত খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

রোববার প্রকাশিত আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, লিমন ও বৃষ্টির নিখোঁজ হওয়ার কয়েকদিন আগে থেকেই হিশাম চ্যাটজিপিটি-র কাছে লাশ গুম করার বিষয়ে নানা প্রশ্ন করেছিলেন। গত ১৩ এপ্রিল অভিযুক্ত হিশাম চ্যাটজিপিটিকে জিজ্ঞাসা করেন— যদি কাউকে ‘একটি কালো আবর্জনার ব্যাগে ভরে ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া হয়, তবে কী ঘটবে।’ চ্যাটপিটি জবাবে জানিয়েছে, এটি বিপজ্জনক শোনাচ্ছে। এরপর হিশাম প্রশ্ন করেন, ‘তারা কীভাবে এটি খুঁজে বের করবে?’

আদালতের নথি অনুযায়ী, লিমনের মরদেহ হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের ওপর একাধিক কালো বড় আবর্জনার ব্যাগের ভেতরে পচনশীল অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রসিকিউটররা ধারণা করছেন, নাহিদা বৃষ্টিকেও একইভাবে গুম করা হয়েছে।

নিখোঁজ হওয়ার আগের দিন ১৫ এপ্রিল হিশাম চ্যাটজিপিটির কাছে জানতে চান, ‘একটি গাড়ির ভিআইএন নম্বর কি পরিবর্তন করা যায়’ এবং ‘লাইসেন্স ছাড়া কি বাড়িতে বন্দুক রাখা সম্ভব?’ এরপর ১৭ এপ্রিল মধ্যরাতের ঠিক পরেই তিনি জানতে চান, ‘হিলসবোরো রিভার স্টেট পার্কে কি গাড়ি পরীক্ষা করা হয়?’ ওই রাতেই লিমনের মরদেহ উদ্ধারের স্থানে হিশামের ফোনের লোকেশন পাওয়া যায়।

ময়নাতদন্তে দেখা গেছে, লিমনের শরীরে অসংখ্য জখম ও ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। হিশামের শরীরেও পায়ের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনা তদন্তকারীরা লিমন ও হিশামের অ্যাপার্টমেন্টে বসার ঘর থেকে বেডরুম পর্যন্ত অনেকগুলো রক্তের দাগ খুঁজে পেয়েছেন। এমনকি বেডরুমে মেঝেতেও রক্তের ছোপ পাওয়া গেছে। উদ্ধারকৃত রক্তের ফরেনসিক পরীক্ষায় লিমন ও বৃষ্টি উভয়ের ডিএনএ পাওয়া গেছে। আইনজীবীরা বলছেন, তিনি পুলিশকে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন এবং আলামত নষ্ট করার চেষ্টা করেছেন। তার মৃত্যুকে ‘হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

হিশামকে মঙ্গলবার আবারও আদালতে হাজির করার দিন ধার্য করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে।

শিক্ষার্থীদের হত্যার ঘটনায় ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা গভীর শোক প্রকাশ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় এক বিবৃতিতে লিমনের পরিবার এবং বৃষ্টির স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেছে, এই ক্ষতি অপূরণীয়। তারা ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে সব ধরনের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত হিশাম বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। দোষী সাব্যস্ত হলে তার মৃত্যুদণ্ড হতে পারে বলে বলে জানিয়েছেন তারা।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

চ্যাটজিপিটিকে লিমন-বৃষ্টির হত্যাকারী ‘কীভাবে মরদেহ গুম করা যায়’

আপডেট সময় ০৪:৩২:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি হত্যার ঘটনায় আদালতে জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে হত্যাকরী হিশাম আবুঘারবিয়াহর। ২৬ বছর বয়সি হিশাম যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। আদালতের নথিতে দেখা গেছে, তিনি লিমন ও বৃষ্টিকে হত্যার আগে চ্যাটজিপিটিকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘কীভাবে হত্যার পর মরদেহ গুম করা যায়।’

সোমবার (২৭ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্লোরিডার টাম্পা বে এলাকার একটি জলাশয়ে মানুষের দেহাবশেষ পাওয়া গেছে। কর্তৃপক্ষ ওই এলাকায় নিখোঁজ শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টির মরদেহের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছিল। পিনেলাস কাউন্টিতে পাওয়া দেহাবশেষগুলো এখনও বৃষ্টির কি না তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ অফিসের তথ্যমতে, দেহাবশেষগুলো ইন্টারস্টেট ২৭৫ এবং ফোর্থ স্ট্রিট নর্থ এলাকায় পাওয়া গেছে। হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের সেন্ট পিটার্সবার্গ এরিয়ায় অবস্থিত।

প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে বৃষ্টিকে মৃত বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি গত সপ্তাহে জামিল লিমনের সঙ্গে নিখোঁজ হন। লিমনের মরদেহ শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) টাম্পার কাছের একটি ব্রিজের ওপর পাওয়া যায়। লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘারবিয়াহকে শনিবার (২৫ এপ্রিল) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্রসহ দুটি পূর্বপরিকল্পিত খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

রোববার প্রকাশিত আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, লিমন ও বৃষ্টির নিখোঁজ হওয়ার কয়েকদিন আগে থেকেই হিশাম চ্যাটজিপিটি-র কাছে লাশ গুম করার বিষয়ে নানা প্রশ্ন করেছিলেন। গত ১৩ এপ্রিল অভিযুক্ত হিশাম চ্যাটজিপিটিকে জিজ্ঞাসা করেন— যদি কাউকে ‘একটি কালো আবর্জনার ব্যাগে ভরে ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া হয়, তবে কী ঘটবে।’ চ্যাটপিটি জবাবে জানিয়েছে, এটি বিপজ্জনক শোনাচ্ছে। এরপর হিশাম প্রশ্ন করেন, ‘তারা কীভাবে এটি খুঁজে বের করবে?’

আদালতের নথি অনুযায়ী, লিমনের মরদেহ হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের ওপর একাধিক কালো বড় আবর্জনার ব্যাগের ভেতরে পচনশীল অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রসিকিউটররা ধারণা করছেন, নাহিদা বৃষ্টিকেও একইভাবে গুম করা হয়েছে।

নিখোঁজ হওয়ার আগের দিন ১৫ এপ্রিল হিশাম চ্যাটজিপিটির কাছে জানতে চান, ‘একটি গাড়ির ভিআইএন নম্বর কি পরিবর্তন করা যায়’ এবং ‘লাইসেন্স ছাড়া কি বাড়িতে বন্দুক রাখা সম্ভব?’ এরপর ১৭ এপ্রিল মধ্যরাতের ঠিক পরেই তিনি জানতে চান, ‘হিলসবোরো রিভার স্টেট পার্কে কি গাড়ি পরীক্ষা করা হয়?’ ওই রাতেই লিমনের মরদেহ উদ্ধারের স্থানে হিশামের ফোনের লোকেশন পাওয়া যায়।

ময়নাতদন্তে দেখা গেছে, লিমনের শরীরে অসংখ্য জখম ও ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। হিশামের শরীরেও পায়ের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনা তদন্তকারীরা লিমন ও হিশামের অ্যাপার্টমেন্টে বসার ঘর থেকে বেডরুম পর্যন্ত অনেকগুলো রক্তের দাগ খুঁজে পেয়েছেন। এমনকি বেডরুমে মেঝেতেও রক্তের ছোপ পাওয়া গেছে। উদ্ধারকৃত রক্তের ফরেনসিক পরীক্ষায় লিমন ও বৃষ্টি উভয়ের ডিএনএ পাওয়া গেছে। আইনজীবীরা বলছেন, তিনি পুলিশকে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন এবং আলামত নষ্ট করার চেষ্টা করেছেন। তার মৃত্যুকে ‘হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

হিশামকে মঙ্গলবার আবারও আদালতে হাজির করার দিন ধার্য করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে।

শিক্ষার্থীদের হত্যার ঘটনায় ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা গভীর শোক প্রকাশ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় এক বিবৃতিতে লিমনের পরিবার এবং বৃষ্টির স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেছে, এই ক্ষতি অপূরণীয়। তারা ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে সব ধরনের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত হিশাম বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। দোষী সাব্যস্ত হলে তার মৃত্যুদণ্ড হতে পারে বলে বলে জানিয়েছেন তারা।