ঢাকা ০৬:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফিরলেন লিমন, এলাকায় শোকের ছায়া

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০২:৫৩:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
  • / ২১ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের গ্রামের বাড়ি জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় জানাজা ও দাফনের প্রস্তুতি চলছে। সোমবার (০৪ মে) সন্ধ্যায় উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের লালডোবা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে লিমনের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

এর আগে সকাল ৮টা ৪৭ মিনিটে লিমনের নিথর দেহ বহনকারী একটি ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে তার মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিমানবন্দরে পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের হৃদয়বিদারক আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

পরে লিমনের মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে তার গ্রামের বাড়ি জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের লালডোবা গ্রামে নেওয়া হচ্ছে। লিমন ওই এলাকার জহুরুল ইসলামের ছেলে।

লিমনের চাচা জিয়াউল হক জানান, লিমন উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন এবং সেখানেই তিনি নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবারে শোকের মাতম চলছে। সকালে লিমনের লাশ ঢাকা বিমানবন্দরে পৌঁছে। সেখান থেকে তার লাশ গ্রামে আনা হচ্ছে। কবর খননের কাজ শেষ পর্যায়ে। লাশ বিকাল ৩-৪ মধ্যে এখানে আসবে, বাদ মাগরিব জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর হোসাইন জানান, লিমন আমাদের গর্ব ছিল। তাকে নিষ্ঠুর ভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে তিনি বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

জানা গেছে, লিমনের বাবা জহুরুল হক ১৯৯৪ সালে পরিবারসহ ঢাকায় চলে যান এবং সেখানেই বসবাস করতেন। তিনি একটি টেক্সটাইল কারখানায় চাকরি করেন। মাঝে মধ্যে তারা গ্রামের বাড়িতে আসতেন।

লিমন ২০১৪ সালে গাজীপুরের মাওনা মডেল হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং ২০১৬ সালে বীরশ্রেষ্ঠ আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে পিএইচডি করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভর্তি হন।

গত ১৬ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে জামিল আহমেদ লিমন (২৭) ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি (২৭) নিখোঁজ হন। পরদিন তাদের এক বন্ধু বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে আনেন। পরে ২৪ এপ্রিল ফ্লোরিডার ট্যাম্পার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ থেকে লিমনের লাশ উদ্ধার করা হয়। সেই ব্রিজের আশপাশে ডুবুরি দলের অনুসন্ধানের পর তার ক্ষতবিক্ষত লাশ পাওয়া যায়। লিমন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতিমালা বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে লিমনের রুমমেট মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুগারবিয়েহকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে, হত্যাকাণ্ডের শিকার আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ ঢাকায় পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা যায়। আগামী ৬ মে ফ্লোরিডার ট্যাম্পায় বৃষ্টির প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফিরলেন লিমন, এলাকায় শোকের ছায়া

আপডেট সময় ০২:৫৩:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের গ্রামের বাড়ি জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় জানাজা ও দাফনের প্রস্তুতি চলছে। সোমবার (০৪ মে) সন্ধ্যায় উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের লালডোবা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে লিমনের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

এর আগে সকাল ৮টা ৪৭ মিনিটে লিমনের নিথর দেহ বহনকারী একটি ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে তার মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিমানবন্দরে পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের হৃদয়বিদারক আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

পরে লিমনের মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে তার গ্রামের বাড়ি জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের লালডোবা গ্রামে নেওয়া হচ্ছে। লিমন ওই এলাকার জহুরুল ইসলামের ছেলে।

লিমনের চাচা জিয়াউল হক জানান, লিমন উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন এবং সেখানেই তিনি নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবারে শোকের মাতম চলছে। সকালে লিমনের লাশ ঢাকা বিমানবন্দরে পৌঁছে। সেখান থেকে তার লাশ গ্রামে আনা হচ্ছে। কবর খননের কাজ শেষ পর্যায়ে। লাশ বিকাল ৩-৪ মধ্যে এখানে আসবে, বাদ মাগরিব জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর হোসাইন জানান, লিমন আমাদের গর্ব ছিল। তাকে নিষ্ঠুর ভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে তিনি বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

জানা গেছে, লিমনের বাবা জহুরুল হক ১৯৯৪ সালে পরিবারসহ ঢাকায় চলে যান এবং সেখানেই বসবাস করতেন। তিনি একটি টেক্সটাইল কারখানায় চাকরি করেন। মাঝে মধ্যে তারা গ্রামের বাড়িতে আসতেন।

লিমন ২০১৪ সালে গাজীপুরের মাওনা মডেল হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং ২০১৬ সালে বীরশ্রেষ্ঠ আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে পিএইচডি করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভর্তি হন।

গত ১৬ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে জামিল আহমেদ লিমন (২৭) ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি (২৭) নিখোঁজ হন। পরদিন তাদের এক বন্ধু বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে আনেন। পরে ২৪ এপ্রিল ফ্লোরিডার ট্যাম্পার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ থেকে লিমনের লাশ উদ্ধার করা হয়। সেই ব্রিজের আশপাশে ডুবুরি দলের অনুসন্ধানের পর তার ক্ষতবিক্ষত লাশ পাওয়া যায়। লিমন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতিমালা বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে লিমনের রুমমেট মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুগারবিয়েহকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে, হত্যাকাণ্ডের শিকার আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ ঢাকায় পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা যায়। আগামী ৬ মে ফ্লোরিডার ট্যাম্পায় বৃষ্টির প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।