ঢাকা ১০:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাবিপ্রবিতে সরকারবিরোধী ফেসবুক পোস্টের জেরে ২ কর্মচারীকে মারধর করল ছাত্রদল

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৮:৫৭:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬
  • / ২৩ বার পড়া হয়েছে

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) ফেসবুকে সরকারের সমালোচনা করে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই কর্মচারীকে মারধর ও হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। আজ রোববার (৩ মে) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন- মো. ওলিউল্লাহ: যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, ইইই বিভাগ; নয়ন খান (ইউআরপি), হৃদয় খান ও স্বপ্নীল পোদ্দার (বিবিএ), রনি (রসায়ন) এবং রঙ্গণ (ইইই)।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. ওলিউল্লাহর নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী প্রথমে মেডিকেল সেন্টারের কম্পাউন্ডার সৈকত হোসাইনকে তার অফিসে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ফেসবুক পোস্টের বিষয়ে স্বীকারোক্তি দেওয়ার পরপরই তাকে মারধর করা হয়। পরবর্তীতে শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের কর্মচারী আশরাফ উদ্দিন অপুকেও একইভাবে পথ আটকে কিল-ঘুষি মেরে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়।

পরবর্তীতে দুই কর্মচারীকে মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ছাত্রদলের সভাপতি মুজাহিদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম এবং কয়েকজন কর্মকর্তার উপস্থিতিতে ‘ভবিষ্যতে আর পোস্ট দেবেন না’ মর্মে তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়।

মারধরের শিকার সৈকত হোসাইন জানান, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হঠ্যাৎ করে আমার অফিসে এসেই আমাকে বলেন যে এই ফেসবুক পোস্ট আপনার কিনা। আমি হ্যাঁ, বলার সঙ্গে সঙ্গেই আমাকে মারধর শুরু করে। ওই ফেসবুক পোস্ট আমি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে দিয়েছিলাম। পরে এই পোস্ট ডিলেটও করে দিয়েছিলাম। কিন্তু ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এই পোস্ট নিয়েই আমাকে মারধর করল।

অন্য ভুক্তভোগী আশরাফ উদ্দিন অপু বলেন, “আমি ট্রেজারার স্যারের অফিস থেকে বের হয়ে ব্যাংকের দিকে যাচ্ছিলাম। তৃতীয় তলার সিঁড়ির পাশে পৌঁছালে পেছন থেকে কয়েকজন আমাকে ঘিরে ধরে। তারা একটি ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশর্ট দেখিয়ে জানতে চায় সেটি আমার কিনা। আমি স্বীকার করলে তারা বলে—সরকারি চাকরিজীবী হয়ে কেন সরকারের সমালোচনা করেছি। এরপর তারা আমাকে কিল-ঘুষি মারতে থাকে। পরে অন্য কর্মকর্তারা এগিয়ে এলে তারা চলে যায়।

অভিযুক্ত ওলিউল্লাহ মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, কিছু শিক্ষার্থী সেখানে গিয়েছিল কিন্তু কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম দাবি করেছেন, বিষয়টি মীমাংসা হয়ে গেছে এবং ওই কর্মচারীরা তাদের ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা চেয়েছেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি মোজাহিদ হোসেন বলেন, ‘কর্মচারীদের মারার বিষয়ে আমি কিছুই অবগত নই। আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। তুমি যেহেতু বললা আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখতেছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, দপ্তর প্রধানদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে। ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

পাবিপ্রবিতে সরকারবিরোধী ফেসবুক পোস্টের জেরে ২ কর্মচারীকে মারধর করল ছাত্রদল

আপডেট সময় ০৮:৫৭:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) ফেসবুকে সরকারের সমালোচনা করে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই কর্মচারীকে মারধর ও হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। আজ রোববার (৩ মে) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন- মো. ওলিউল্লাহ: যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, ইইই বিভাগ; নয়ন খান (ইউআরপি), হৃদয় খান ও স্বপ্নীল পোদ্দার (বিবিএ), রনি (রসায়ন) এবং রঙ্গণ (ইইই)।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. ওলিউল্লাহর নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী প্রথমে মেডিকেল সেন্টারের কম্পাউন্ডার সৈকত হোসাইনকে তার অফিসে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ফেসবুক পোস্টের বিষয়ে স্বীকারোক্তি দেওয়ার পরপরই তাকে মারধর করা হয়। পরবর্তীতে শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের কর্মচারী আশরাফ উদ্দিন অপুকেও একইভাবে পথ আটকে কিল-ঘুষি মেরে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়।

পরবর্তীতে দুই কর্মচারীকে মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ছাত্রদলের সভাপতি মুজাহিদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম এবং কয়েকজন কর্মকর্তার উপস্থিতিতে ‘ভবিষ্যতে আর পোস্ট দেবেন না’ মর্মে তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়।

মারধরের শিকার সৈকত হোসাইন জানান, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হঠ্যাৎ করে আমার অফিসে এসেই আমাকে বলেন যে এই ফেসবুক পোস্ট আপনার কিনা। আমি হ্যাঁ, বলার সঙ্গে সঙ্গেই আমাকে মারধর শুরু করে। ওই ফেসবুক পোস্ট আমি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে দিয়েছিলাম। পরে এই পোস্ট ডিলেটও করে দিয়েছিলাম। কিন্তু ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এই পোস্ট নিয়েই আমাকে মারধর করল।

অন্য ভুক্তভোগী আশরাফ উদ্দিন অপু বলেন, “আমি ট্রেজারার স্যারের অফিস থেকে বের হয়ে ব্যাংকের দিকে যাচ্ছিলাম। তৃতীয় তলার সিঁড়ির পাশে পৌঁছালে পেছন থেকে কয়েকজন আমাকে ঘিরে ধরে। তারা একটি ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশর্ট দেখিয়ে জানতে চায় সেটি আমার কিনা। আমি স্বীকার করলে তারা বলে—সরকারি চাকরিজীবী হয়ে কেন সরকারের সমালোচনা করেছি। এরপর তারা আমাকে কিল-ঘুষি মারতে থাকে। পরে অন্য কর্মকর্তারা এগিয়ে এলে তারা চলে যায়।

অভিযুক্ত ওলিউল্লাহ মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, কিছু শিক্ষার্থী সেখানে গিয়েছিল কিন্তু কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম দাবি করেছেন, বিষয়টি মীমাংসা হয়ে গেছে এবং ওই কর্মচারীরা তাদের ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা চেয়েছেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি মোজাহিদ হোসেন বলেন, ‘কর্মচারীদের মারার বিষয়ে আমি কিছুই অবগত নই। আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। তুমি যেহেতু বললা আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখতেছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, দপ্তর প্রধানদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে। ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।