আওয়ামী লীগেই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ সাকিব, ‘পল্টি দেওয়ার অভ্যাস নেই’
- আপডেট সময় ০৭:৫৭:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬
- / ২৮ বার পড়া হয়েছে
ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষে রাজনীতি নিয়েই ব্যস্ত থাকতে চান সাকিব আল হাসান এবং সেখানে তার একমাত্র পছন্দ আওয়ামী লীগ। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ বলছেন, দল পরিবর্তনের কোনো ইচ্ছে তার নেই এবং কখনোই ছিল না। দেশে আওয়ামী রাজনীতি এখন নিষিদ্ধ হলেও সবসময় নিষিদ্ধ থাকবে না বলেই বিশ্বাস তার।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা-১ আসন থেকে আওয়ামী লিগের টিকেটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন সাকিব। ওই বছরের ৫ অগাস্ট সরকার পতনের সময় তিনি পরিবারের সঙ্গে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে এবং এরপর আর দেশে ফিরতে পারেননি।
সম্প্রতি তিনি একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের ইভেন্টে এসেছিলেন মুম্বাইয়ে। রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ আওয়ামী লীগের প্রতিই নিবেদিত কি না, এই প্রশ্নেই তিনি সোজাসাপ্টা শোনালেন নিজের ভাবনা।
“সেটাই তো হওয়ার কথা (আওয়ামী লীগে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ), তাই না? আমার এত দল পরিবর্তন করার শখ নেই, ইচ্ছা নেই এবং কোনো কালেও ছিল না। আমি এই জিনিস কখনও করিনি। ঠিক আছে? আমি যদি একটা ছোট দলেও কোনো দিন নাম লিখিয়েছি তো ওই দলের প্রতি সবসময় অনুগত ছিলাম। পল্টি দেওয়ার অভ্যাস নেই।”
আওয়ামী লিগের রাজনীতি এখন নিষিদ্ধ হলেও সবসময় তা থাকবে না বলেই বিশ্বাস সাকিবের। ৩৯ বছর বয়সী ক্রিকেটার বলছেন, কোনো দলকে জোর করে দমিয়ে রাখার চেষ্টা শুভ হয় না।
“এখন নিষিদ্ধ, তাই বলে আজীবন নিষিদ্ধ থাকবে নাকি? আজীবন কি কেউ কাউকে নিষিদ্ধ করে রাখতে পারে! এটা তো মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার। দেশের একটা বড় অংশকে তো দাবিয়ে রাখতে পারবেন না। হ্যাঁ, জোর করে কিছুদিন সম্ভব আটকে রাখা বা যতদিন সম্ভব দমিয়ে রাখতে পারেন। কিন্তু এটাতে আসলে দেশের কোনো উন্নতি বা রাজনীতির ভালো আছে বলে আমার মনে হয় না।”
আওয়ামী লিগও তো একসময় বিরোধীদের দমিয়ে রাখতে চেষ্টা করেছে, এই প্রশ্নে সাকিব বললেন, কোনো একটি পক্ষকে একটি জায়গা থেকে এই ধারা বদলের সূচনা করতে হবে।
“এই ভুলটা যদি আমরা করে থাকি, ১০-১৫-২০ বছর আগের রাজনীতির সেই সময়ে দলের ভাবনা তো আমি জানি না, কিন্তু আমরা যদি এরকম ভুল করে থাকি, সেই ভুলেরও তো তাহলে এখন পুনরাবৃত্তি হচ্ছে! পরে যদি আবার অন্য কোনো দল ক্ষমতায় আসে বা আমরা আসি এবং পুনরাবৃত্তি করি, তাহলে এই খেলা তো চলতেই থাকবে। কাউকে না কাউকে এগুলো শেষ করতে হবে।
“যে দলই এগুলো শেষ করবে, আমি বিশ্বাস করি, তারা দারুণভাবে লাভবান হবে। দৃষ্টান্ত স্থাপন করে মানুষের মনে জায়গা করে নিতে পারবে। সত্যিকারের রাজনৈতিক সচেতন মানুষগুলো এমনই চায়। সবার সুযোগ থাকবে, সবাই মাঠে নেমে ন্যায্যভাবে লড়াই করবে তাদের নীতি নিয়ে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সবকিছু হবে এবং লোকে যাকে পছন্দ করবে, তাকে ভোট দেবে।”



















