ঐতিহাসিক জয়ের পথে বিজেপি, পতন হচ্ছে তৃণমূলের ১৫ বছরের সাম্রাজ্যের
- আপডেট সময় ০৫:৫৮:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
- / ২৯ বার পড়া হয়েছে
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) পশ্চিমবঙ্গে ইতিহাস গড়ার পথে এগোচ্ছে। স্বাধীনতার পর এই প্রথম রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, প্রায় ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস বড় পরাজয়ের মুখে। এটি এমন এক নির্বাচন, যা অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক ভোটার বাদ দেয়ার পর।
এ ঘটনা এই ভোটকে আরও গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত করে তুলেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের সরাসরি লড়াই হয়েছে বিজেপির সঙ্গে।
ভারতের নির্বাচন নিয়ে আরো পড়ুন
তামিলনাড়ুর নয়া ‘সেনাপতি’ হতে চলেছেন অভিনেতা বিজয় থালাপতি
বিজেপির মুখ হিসেবে উঠে এসেছেন তারই সাবেক ঘনিষ্ঠ সহযোগী, বর্তমানে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এই নির্বাচনে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শক্তির মধ্যে রয়েছে কংগ্রেস এবং বামফ্রন্ট। রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মোড় এনেছে একটি নতুন দল, যা গঠন করেছেন তৃণমূল থেকে বরখাস্ত হওয়া বিধায়ক হুমায়ুন কবির। তিনি ‘বাবরি’ নামের একটি মসজিদ নির্মাণ উদ্যোগের কারণে আলোচনায় এসেছিলেন। পশ্চিমবঙ্গে ভোটগ্রহণ হয়েছে দুই দফায় ২৩ এপ্রিল ও ২৯ এপ্রিল। এছাড়া ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র এবং আরও কিছু বুথে পুনর্ভোটের নির্দেশ দেয়া হয়।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় মোট আসন সংখ্যা ২৯৪। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন সরল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্থাৎ ১৪৮টি আসন। যে কোনো দল বা জোটকে এই ‘ম্যাজিক ফিগার’ ছুঁতে হবে সরকার গঠন করতে। ২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ২১৫টি আসন জিতে বিপুল জয় পেয়েছিল। বিজেপি ৭৭টি আসন পেয়ে প্রথমবারের মতো রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলে পরিণত হয়। কংগ্রেস ও বামফ্রন্ট কোনো আসনই পায়নি তখন। সে সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হলেও পরে ভবানীপুর থেকে উপনির্বাচনে জিতে বিধানসভায় ফেরেন।
এবার শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি ভবানীপুরে মমতার ঘাঁটিতেই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন, যা গণনার এ পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ছে। তবে লড়াই শুধু একটি কেন্দ্রে সীমাবদ্ধ ছিল না। পুরো বাংলাজুড়েই ছিল তীব্র আদর্শিক সংঘর্ষ, তৃণমূল পর্যায়ের রাজনীতি, নানা প্রতিশ্রুতি, উন্নয়ন ও ভাতার প্রতিযোগিতা এবং পরিবর্তনের নতুন ডাক। বিশেষ করে এমন এক রাজ্যে, যেখানে ১৫ বছর আগে বামফ্রন্টের দীর্ঘদিনের দুর্গ ভেঙে পড়েছিল, সেখানে এবারের নির্বাচন এক নতুন রাজনৈতিক মোড়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সংবাদ ২৪৭/ এজে























