ঢাকা ০৪:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাবিতে সাড়ে চার দশকে হত্যাকাণ্ডের শিকার ১৯ শিবির নেতা সহ ৩৯ শিক্ষক-শিক্ষার্থী

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০২:৪৯:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬
  • / ২৪ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গত সাড়ে চার দশকে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ৩৭ শিক্ষক-শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে রয়েছেন চার শিক্ষক ও ৩৩ শিক্ষার্থী। ১৯৮২ সাল থেকে ২০২৬ পর্যন্ত ছাত্রশিবিরের ১৯ নেতাকর্মী, ছাত্রদলের দুজন, ছাত্রলীগের সাত এবং বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর চারজনসহ মোট ৩৭ জন খুনের শিকার হয়েছেন। এসব হত্যাকাণ্ডের মধ্যে কয়েকটি ছাড়া বাকিগুলোর বিচার আজও হয়নি। এসব হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা কখনো রাজনৈতিক আশ্রয়, ক্ষমতার পালাবদল বা বিচারকাজ তদারকিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আন্তরিকতার অভাবসহ বিভিন্ন কারণে বেঁচে গেছেন।
বিভিন্ন সময়ে ছাত্র সংগঠনগুলোর ক্যাম্পাস দখল, আধিপত্য বিস্তার, হল দখল, সিটবাণিজ্য, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি নিয়ে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থে আন্দোলনের সময় কয়েকটি খুনের ঘটনা ঘটেছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, স্বাধীনতার এক দশক পর ১৯৮২ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ বছরের ১১ মার্চ শিবিরের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে ‘সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ নামে ছাত্রলীগ, জাসদ ছাত্রলীগ, ছাত্রমৈত্রী ও ছাত্র ইউনিয়ন সম্মিলিত হামলা চালালে দুই পক্ষের সংঘর্ষে চার শিবিরকর্মী নিহত হন। তারা হলেন— সাব্বির আহমদ, আব্দুল হামিদ, আইয়ুব আলী ও আব্দুল জব্বার। এ সময় মীর মোশতাক এলাহী নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীও নিহত হন।

এরপর ১৯৮৮ সালের নভেম্বরে আবারও ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হন শিবিরকর্মী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী গোলাম আসলাম হোসাইন। পরদিন আবারও সংঘর্ষে নিহত হন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও শিবিরকর্মী আজগর আলী। এরপর ১৯৮৯ সালের ১৮ এপ্রিল পুনরায় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ও শিবিরের সংঘর্ষে নিহত হন গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী শিবিরকর্মী শফিকুল ইসলাম। ১৯৯০ সালের ২২ জুন নিহত হন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী শিবির নেতা খলিলুর রহমান।

১৯৯২ সালে উপাচার্য ভবনের সামনে ছাত্রলীগ কর্মী মুহাম্মদ আলী নিহত হন। একই দিন সৈয়দ আমির আলী হল ও নবাব আব্দুল লতিফ হলের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এতে জাসদ ছাত্রলীগ নেতা ইয়াসির আরাফাত পিটু নিহত হন। একই বছরের ৭ মে নগরীর নতুন বুধপাড়ায় বোমা বিস্ফোরণে শিবিরের আজিবুর রহমান ও মোহাম্মদ ইয়াহিয়া নামে আরো দুজন নিহত হন।

১৯৯৩ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি শিবিরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য ও শিবিরের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে নিহত হন ছাত্রদল নেতা বিশ্বজিৎ, ছাত্র ইউনিয়ন নেতা তপন, শিবির নেতা অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ও উদ্ভিদবিদ্যার রবিউল ইসলাম। এরপর ১৯৯৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ইসমাইল হোসেন সিরাজী ও মুস্তাফিজুর রহমান নামে আরো দুই শিক্ষার্থীকে ঘুমন্ত অবস্থায় হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। তারা দুজনই শিবির নেতা ছিলেন। পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী চৌদ্দপাই এলাকায় ঢাকাগামী বাস থেকে নামিয়ে কুপিয়ে ও ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে ছাত্রমৈত্রীর নেতা দেবাশীষ ভট্টাচার্য রূপমকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

১৯৯৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের (জাসাস) বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক আমান উল্লাহ আমানকে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা করে। আট বছর পর ২০০৪ সালে চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষের পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪ এপ্রিল মারা যান শিবিরের সাইফুদ্দিন।

এরপর ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকাবস্থায় হত্যাকাণ্ডের শিকার হন ছয় শিক্ষার্থী। ২০০৯ সালের ১৩ মার্চ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিবির সেক্রেটারি শরিফুজ্জামান নোমানীকে কুপিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। পরে তৎকালীন সরকার অভিযুক্তদের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এরপর ২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে দুর্বৃত্তরা ছাত্রলীগ কর্মী ফারুক হোসেনকে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়। ফারুক হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশের কথিত বন্দুক যুদ্ধে শিবির নেতা হাফিজুর রহমান শাহীন নিহত হন। একই বছর দলীয় কর্মীরা হলের ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করে ছাত্রলীগ কর্মী নাসরুল্লাহ নাসিমকে।

দুবছর পর ২০১২ সালের ১৫ জুলাই টাকা ভাগাভাগির ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ সভাপতি আহমেদ আলী ও সাধারণ সম্পাদক আবু হুসাইন বিপু গ্রুপের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ছাত্রলীগ কর্মী আব্দুল্লাহ আল হাসান নিহত হন। এর দুবছর পর ২০১৪ সালে নিজ কক্ষে দলীয় কর্মীদের গুলিতে নিহত হন ছাত্রলীগ নেতা রুস্তম আলী আকন্দ। এই হত্যা মামলায় অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারায় ১২ আসামির সবাই অব্যাহতি পান।

সবশেষ ২০১৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব আব্দুল লতিফ হলের ড্রেন থেকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মোতালেব হোসেন লিপুর লাশ উদ্ধার করা হয়। এদিন বিকালেই লিপুর চাচা মো. বশীর বাদী হয়ে নগরীর মতিহার থানায় অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে হত্যাকাণ্ডের কোনো আসামিকে আজও চিহ্নিত করতে পারেনি পুলিশ।

শিক্ষক হত্যা

২০১৬ সালের ২৩ এপ্রিল রাজশাহীর শালবাগান এলাকায় নিজের বাড়ি থেকে মাত্র ৫০ গজ দূরে কুপিয়ে ও গলাকেটে হত্যা করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে। এ ঘটনায় তার ছেলে রিয়াসাত ইমতিয়াজ সৌরভ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে ২০১৮ সালের ৮ মে এ মামলায় রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শিরীন কবিতা আখতার হত্যা মামলায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনের যাবজ্জীবনের রায় দেন। তবে পরে এ রায় উচ্চ আদালতে আটকে আছে বলে জানা যায়।

২০১৪ সালের ১৫ নভেম্বর দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন চৌদ্দপাই এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে খুন হন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শফিউল ইসলাম লিলন। পরদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এন্তাজুল হক বাদী হয়ে অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে মতিহার থানায় হত্যা মামলা করেন। ২০১৯ সালের ১৫ এপ্রিল লিলন হত্যা মামলায় তিন আসামির ফাঁসির আদেশ দেয় আদালত।
২০০৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় কোয়ার্টারের ম্যানহোল থেকে অধ্যাপক তাহেরের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে সানজিদ আলভি আহমেদ মতিহার থানায় অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। ২০০৮ সালের ২২ মে রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল চারজনের মৃত্যুদণ্ড দেয়। পরে দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল ও দুজনকে যাবজ্জীবন দেওয়া হলে দুজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

২০০৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর বিনোদপুর এলাকায় প্রাতঃভ্রমণের সময় অর্থনীতি বিভাগের এই প্রবীণ শিক্ষক অধ্যাপক ইউনুসকে বাসার ৩০০ গজ দূরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পরদিন তার ছোট ভাই আবদুল হালিম বাদী হয়ে মতিহার থানায় অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। পরে ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল দুজনের মৃত্যুদণ্ড দেয়।

অধিকাংশ হত্যা মামলার আসামি খালাস পেয়েছে, প্রায় সব মামলাই খারিজ হয়ে গেছে। এদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত শিবির নেতা শরীফুজ্জামান নোমানী হত্যায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় খালাস পায় ২৭ আসামির সবাই।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, রাজনৈতিক চাপ আর তদারকির অভাবেই মামলাগুলো থেকে আসামিরা খালাস পেয়ে যায়। মামলা পরিচালনায় কিছুদিন পর থেকে তেমন কোনো ভূমিকা রাখে না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে ২৪-এর জুলাই-পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থী হত্যার মতো ভয়াবহ স্মৃতি আর ফিরে না আসুক।

পুলিশ বলছে, প্রয়োজনীয় সাক্ষীর অভাব ও বাদী পক্ষের তদারকি নেই। আরো সমস্যা হচ্ছে তারা সাক্ষ্য দিতে চায় না।

এ বিষয়ে রাবি শিবির সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, আমাদের অনেক ভাইকে এই ক্যাম্পাসে শহীদ করা হয়েছে। ছাত্রশিবিরের শত শত নেতাকর্মী আহত হয়েছেন; কারো হাত, কারো পা কেটে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু একজনেরও সঠিক বিচার হয়নি। নবীনবরণে বিনা উসকানিতে ছাত্রশিবিরের ওপর হামলা করে চারজনকে শহীদ করার মাধ্যমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে হত্যার রাজনীতি শুরু হয়েছিল।

তিনি বলেন, ঘুমন্ত ও রোজা রাখা অবস্থায় আমাদের ভাইদের হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু আমরা বিচার পাইনি। ২০০৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবির সেক্রেটারি শরিফুজ্জামান নোমানী ভাইকে কুপিয়ে শহীদ করা হয়েছে। সে মামলার সব আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। বরং পুরস্কারস্বরূপ বিভিন্ন জায়গায় তাদের পদায়ন করা হয়েছে।

মুজাহিদ ফয়সাল আরো বলেন, আমরা আর এমন ক্যাম্পাস চাই না, যেখানে পড়াশোনা করতে এসে মায়ের বুক খালি হবে। আমরা সুস্থধারার রাজনীতি চর্চা চাই। যেখানে সব ছাত্রসংগঠনের মধ্যে প্রতিযোগিতা হবে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে। শিক্ষাঙ্গনে অস্ত্রের ঝনঝনানি বন্ধ হোক। সবাই শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করুক—এটাই প্রত্যাশা।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক সরদার জহুরুল বলেন, ১৯৯৩ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি গুপ্তবাহিনী ছাত্রদল নেতা বিশ্বজিৎকে নির্মমভাবে হত্যা করে। আবার ১৯৯৬ সালে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে জাসাস বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক আমান উল্লাহ আমানকে গুপ্তভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

তিনি আরো বলেন, এই ক্যাম্পাসসহ সারা দেশে গুপ্তবাহিনীর ইতিহাস হত্যার ইতিহাস। তারা সুযোগ পেলেই গুপ্তহত্যা করেছে। তাদের পূর্বপুরুষ যেমন পাকিস্তানিদের সহযোগী হিসেবে এ দেশের মুক্তিকামী মানুষকে হত্যা করেছিল, তারাও তেমনি ক্যাম্পাসগুলোতে হত্যার ইতিহাস কায়েম করেছে। আমি তাদের বলতে চাই, আপনারা রাজনীতি করতে চাইলে সুস্থভাবে রাজনীতি করুন। গুপ্তপথ পরিহার করে সাধারণ শিক্ষার্থীর কাতারে আসুন। নয়তো এ দেশের ছাত্রসমাজ আপনাদের উপযুক্ত জবাব দেবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, নিহত শিক্ষার্থীদের ঘটনাগুলো সম্পর্কে আমার কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। এসব ঘটনার বিচার প্রক্রিয়ায় সাধারণত বাদী-বিবাদীর মধ্যে হয়ে থাকে এবং বিষয়গুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আদালতের মাধ্যমেই নিষ্পত্তি হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিজে থেকে বাদী হয়ে কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য নেই বলেও জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ নয়। জুলাই বিপ্লবের পর ছাত্ররাজনীতির যে নতুন ধারা চালু হয়েছে, তা বহাল থাকবে। আশা করছি ভবিষ্যতে ছাত্ররাজনীতির আগের সেই ধারা ক্যাম্পাসে আর ফিরবে না।

 

সূত্র: আমার দেশ

নিউজটি শেয়ার করুন

রাবিতে সাড়ে চার দশকে হত্যাকাণ্ডের শিকার ১৯ শিবির নেতা সহ ৩৯ শিক্ষক-শিক্ষার্থী

আপডেট সময় ০২:৪৯:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গত সাড়ে চার দশকে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ৩৭ শিক্ষক-শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে রয়েছেন চার শিক্ষক ও ৩৩ শিক্ষার্থী। ১৯৮২ সাল থেকে ২০২৬ পর্যন্ত ছাত্রশিবিরের ১৯ নেতাকর্মী, ছাত্রদলের দুজন, ছাত্রলীগের সাত এবং বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর চারজনসহ মোট ৩৭ জন খুনের শিকার হয়েছেন। এসব হত্যাকাণ্ডের মধ্যে কয়েকটি ছাড়া বাকিগুলোর বিচার আজও হয়নি। এসব হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা কখনো রাজনৈতিক আশ্রয়, ক্ষমতার পালাবদল বা বিচারকাজ তদারকিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আন্তরিকতার অভাবসহ বিভিন্ন কারণে বেঁচে গেছেন।
বিভিন্ন সময়ে ছাত্র সংগঠনগুলোর ক্যাম্পাস দখল, আধিপত্য বিস্তার, হল দখল, সিটবাণিজ্য, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি নিয়ে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থে আন্দোলনের সময় কয়েকটি খুনের ঘটনা ঘটেছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, স্বাধীনতার এক দশক পর ১৯৮২ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ বছরের ১১ মার্চ শিবিরের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে ‘সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ নামে ছাত্রলীগ, জাসদ ছাত্রলীগ, ছাত্রমৈত্রী ও ছাত্র ইউনিয়ন সম্মিলিত হামলা চালালে দুই পক্ষের সংঘর্ষে চার শিবিরকর্মী নিহত হন। তারা হলেন— সাব্বির আহমদ, আব্দুল হামিদ, আইয়ুব আলী ও আব্দুল জব্বার। এ সময় মীর মোশতাক এলাহী নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীও নিহত হন।

এরপর ১৯৮৮ সালের নভেম্বরে আবারও ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হন শিবিরকর্মী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী গোলাম আসলাম হোসাইন। পরদিন আবারও সংঘর্ষে নিহত হন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও শিবিরকর্মী আজগর আলী। এরপর ১৯৮৯ সালের ১৮ এপ্রিল পুনরায় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ও শিবিরের সংঘর্ষে নিহত হন গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী শিবিরকর্মী শফিকুল ইসলাম। ১৯৯০ সালের ২২ জুন নিহত হন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী শিবির নেতা খলিলুর রহমান।

১৯৯২ সালে উপাচার্য ভবনের সামনে ছাত্রলীগ কর্মী মুহাম্মদ আলী নিহত হন। একই দিন সৈয়দ আমির আলী হল ও নবাব আব্দুল লতিফ হলের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এতে জাসদ ছাত্রলীগ নেতা ইয়াসির আরাফাত পিটু নিহত হন। একই বছরের ৭ মে নগরীর নতুন বুধপাড়ায় বোমা বিস্ফোরণে শিবিরের আজিবুর রহমান ও মোহাম্মদ ইয়াহিয়া নামে আরো দুজন নিহত হন।

১৯৯৩ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি শিবিরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য ও শিবিরের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে নিহত হন ছাত্রদল নেতা বিশ্বজিৎ, ছাত্র ইউনিয়ন নেতা তপন, শিবির নেতা অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ও উদ্ভিদবিদ্যার রবিউল ইসলাম। এরপর ১৯৯৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ইসমাইল হোসেন সিরাজী ও মুস্তাফিজুর রহমান নামে আরো দুই শিক্ষার্থীকে ঘুমন্ত অবস্থায় হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। তারা দুজনই শিবির নেতা ছিলেন। পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী চৌদ্দপাই এলাকায় ঢাকাগামী বাস থেকে নামিয়ে কুপিয়ে ও ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে ছাত্রমৈত্রীর নেতা দেবাশীষ ভট্টাচার্য রূপমকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

১৯৯৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের (জাসাস) বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক আমান উল্লাহ আমানকে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা করে। আট বছর পর ২০০৪ সালে চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষের পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪ এপ্রিল মারা যান শিবিরের সাইফুদ্দিন।

এরপর ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকাবস্থায় হত্যাকাণ্ডের শিকার হন ছয় শিক্ষার্থী। ২০০৯ সালের ১৩ মার্চ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিবির সেক্রেটারি শরিফুজ্জামান নোমানীকে কুপিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। পরে তৎকালীন সরকার অভিযুক্তদের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এরপর ২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে দুর্বৃত্তরা ছাত্রলীগ কর্মী ফারুক হোসেনকে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়। ফারুক হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশের কথিত বন্দুক যুদ্ধে শিবির নেতা হাফিজুর রহমান শাহীন নিহত হন। একই বছর দলীয় কর্মীরা হলের ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করে ছাত্রলীগ কর্মী নাসরুল্লাহ নাসিমকে।

দুবছর পর ২০১২ সালের ১৫ জুলাই টাকা ভাগাভাগির ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ সভাপতি আহমেদ আলী ও সাধারণ সম্পাদক আবু হুসাইন বিপু গ্রুপের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ছাত্রলীগ কর্মী আব্দুল্লাহ আল হাসান নিহত হন। এর দুবছর পর ২০১৪ সালে নিজ কক্ষে দলীয় কর্মীদের গুলিতে নিহত হন ছাত্রলীগ নেতা রুস্তম আলী আকন্দ। এই হত্যা মামলায় অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারায় ১২ আসামির সবাই অব্যাহতি পান।

সবশেষ ২০১৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব আব্দুল লতিফ হলের ড্রেন থেকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মোতালেব হোসেন লিপুর লাশ উদ্ধার করা হয়। এদিন বিকালেই লিপুর চাচা মো. বশীর বাদী হয়ে নগরীর মতিহার থানায় অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে হত্যাকাণ্ডের কোনো আসামিকে আজও চিহ্নিত করতে পারেনি পুলিশ।

শিক্ষক হত্যা

২০১৬ সালের ২৩ এপ্রিল রাজশাহীর শালবাগান এলাকায় নিজের বাড়ি থেকে মাত্র ৫০ গজ দূরে কুপিয়ে ও গলাকেটে হত্যা করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে। এ ঘটনায় তার ছেলে রিয়াসাত ইমতিয়াজ সৌরভ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে ২০১৮ সালের ৮ মে এ মামলায় রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শিরীন কবিতা আখতার হত্যা মামলায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনের যাবজ্জীবনের রায় দেন। তবে পরে এ রায় উচ্চ আদালতে আটকে আছে বলে জানা যায়।

২০১৪ সালের ১৫ নভেম্বর দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন চৌদ্দপাই এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে খুন হন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শফিউল ইসলাম লিলন। পরদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এন্তাজুল হক বাদী হয়ে অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে মতিহার থানায় হত্যা মামলা করেন। ২০১৯ সালের ১৫ এপ্রিল লিলন হত্যা মামলায় তিন আসামির ফাঁসির আদেশ দেয় আদালত।
২০০৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় কোয়ার্টারের ম্যানহোল থেকে অধ্যাপক তাহেরের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে সানজিদ আলভি আহমেদ মতিহার থানায় অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। ২০০৮ সালের ২২ মে রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল চারজনের মৃত্যুদণ্ড দেয়। পরে দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল ও দুজনকে যাবজ্জীবন দেওয়া হলে দুজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

২০০৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর বিনোদপুর এলাকায় প্রাতঃভ্রমণের সময় অর্থনীতি বিভাগের এই প্রবীণ শিক্ষক অধ্যাপক ইউনুসকে বাসার ৩০০ গজ দূরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পরদিন তার ছোট ভাই আবদুল হালিম বাদী হয়ে মতিহার থানায় অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। পরে ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল দুজনের মৃত্যুদণ্ড দেয়।

অধিকাংশ হত্যা মামলার আসামি খালাস পেয়েছে, প্রায় সব মামলাই খারিজ হয়ে গেছে। এদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত শিবির নেতা শরীফুজ্জামান নোমানী হত্যায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় খালাস পায় ২৭ আসামির সবাই।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, রাজনৈতিক চাপ আর তদারকির অভাবেই মামলাগুলো থেকে আসামিরা খালাস পেয়ে যায়। মামলা পরিচালনায় কিছুদিন পর থেকে তেমন কোনো ভূমিকা রাখে না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে ২৪-এর জুলাই-পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থী হত্যার মতো ভয়াবহ স্মৃতি আর ফিরে না আসুক।

পুলিশ বলছে, প্রয়োজনীয় সাক্ষীর অভাব ও বাদী পক্ষের তদারকি নেই। আরো সমস্যা হচ্ছে তারা সাক্ষ্য দিতে চায় না।

এ বিষয়ে রাবি শিবির সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, আমাদের অনেক ভাইকে এই ক্যাম্পাসে শহীদ করা হয়েছে। ছাত্রশিবিরের শত শত নেতাকর্মী আহত হয়েছেন; কারো হাত, কারো পা কেটে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু একজনেরও সঠিক বিচার হয়নি। নবীনবরণে বিনা উসকানিতে ছাত্রশিবিরের ওপর হামলা করে চারজনকে শহীদ করার মাধ্যমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে হত্যার রাজনীতি শুরু হয়েছিল।

তিনি বলেন, ঘুমন্ত ও রোজা রাখা অবস্থায় আমাদের ভাইদের হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু আমরা বিচার পাইনি। ২০০৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবির সেক্রেটারি শরিফুজ্জামান নোমানী ভাইকে কুপিয়ে শহীদ করা হয়েছে। সে মামলার সব আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। বরং পুরস্কারস্বরূপ বিভিন্ন জায়গায় তাদের পদায়ন করা হয়েছে।

মুজাহিদ ফয়সাল আরো বলেন, আমরা আর এমন ক্যাম্পাস চাই না, যেখানে পড়াশোনা করতে এসে মায়ের বুক খালি হবে। আমরা সুস্থধারার রাজনীতি চর্চা চাই। যেখানে সব ছাত্রসংগঠনের মধ্যে প্রতিযোগিতা হবে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে। শিক্ষাঙ্গনে অস্ত্রের ঝনঝনানি বন্ধ হোক। সবাই শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করুক—এটাই প্রত্যাশা।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক সরদার জহুরুল বলেন, ১৯৯৩ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি গুপ্তবাহিনী ছাত্রদল নেতা বিশ্বজিৎকে নির্মমভাবে হত্যা করে। আবার ১৯৯৬ সালে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে জাসাস বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক আমান উল্লাহ আমানকে গুপ্তভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

তিনি আরো বলেন, এই ক্যাম্পাসসহ সারা দেশে গুপ্তবাহিনীর ইতিহাস হত্যার ইতিহাস। তারা সুযোগ পেলেই গুপ্তহত্যা করেছে। তাদের পূর্বপুরুষ যেমন পাকিস্তানিদের সহযোগী হিসেবে এ দেশের মুক্তিকামী মানুষকে হত্যা করেছিল, তারাও তেমনি ক্যাম্পাসগুলোতে হত্যার ইতিহাস কায়েম করেছে। আমি তাদের বলতে চাই, আপনারা রাজনীতি করতে চাইলে সুস্থভাবে রাজনীতি করুন। গুপ্তপথ পরিহার করে সাধারণ শিক্ষার্থীর কাতারে আসুন। নয়তো এ দেশের ছাত্রসমাজ আপনাদের উপযুক্ত জবাব দেবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, নিহত শিক্ষার্থীদের ঘটনাগুলো সম্পর্কে আমার কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। এসব ঘটনার বিচার প্রক্রিয়ায় সাধারণত বাদী-বিবাদীর মধ্যে হয়ে থাকে এবং বিষয়গুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আদালতের মাধ্যমেই নিষ্পত্তি হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিজে থেকে বাদী হয়ে কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য নেই বলেও জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ নয়। জুলাই বিপ্লবের পর ছাত্ররাজনীতির যে নতুন ধারা চালু হয়েছে, তা বহাল থাকবে। আশা করছি ভবিষ্যতে ছাত্ররাজনীতির আগের সেই ধারা ক্যাম্পাসে আর ফিরবে না।

 

সূত্র: আমার দেশ