আবার নাগরিকত্ব ছাড়ার আবেদন এস আলমের
- আপডেট সময় ১২:৪৯:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
- / ২৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে আবারও আবেদন করেছেন এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম। নিজের, স্ত্রী ফারজানা পারভীন এবং দুই ছেলে আশরাফুল আলম ও আসাদুল আলম মাহিরের নাগরিকত্ব পরিত্যাগের আবেদন করেছেন তিনি। বিএনপি সরকার গঠনের পর গত ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ আবেদন করা হয়।
তবে চলমান আইনি ও আর্থিক জটিলতার কারণে সরকার আপাতত সাইফুল আলম (এস আলম) পরিবারের নাগরিকত্ব পরিত্যাগের আবেদন মঞ্জুর করতে চাইছে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন মঞ্জুর করা হলে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা, দেশে থাকা সম্পদ ও সম্পত্তির ওপর ব্যবস্থা নেওয়া এবং আন্তর্জাতিক সালিসি মামলায় বাংলাদেশের আইনি অবস্থান—সব ক্ষেত্রেই জটিলতা তৈরি হতে পারে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এস আলমের আবেদন পর্যালোচনা করে সরকার প্রাথমিকভাবে দুটি বড় ঝুঁকি দেখছে। প্রথমত, তাঁর বিরুদ্ধে বিদেশে বিপুল অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। নাগরিকত্ব পরিত্যাগের আবেদন মঞ্জুর হলে সেই অর্থ ফেরত আনার আইনি প্রক্রিয়া জটিল হতে পারে। দ্বিতীয়ত, সাইফুল আলম নিজের সম্পদ সুরক্ষার দাবি তুলে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সালিসি আদালতে মামলা করেছেন। নাগরিকত্বের প্রশ্নে তাঁর অবস্থান শক্তিশালী হলে ওই মামলায় বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল হতে পারে বলে সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন।
এর আগে ২০২০ সালেও বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পরিত্যাগের আবেদন করেছিলেন এস আলম গ্রুপের কর্ণধার। তাঁর আইনজীবীদের দাবি, ওই সময় আওয়ামী লীগ সরকার তাঁর আবেদন মঞ্জুর করেছিল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের ২০২০ সালের ১৯ জুলাইয়ের একটি স্মারক দেখিয়ে বলা হয়, সাইপ্রাসের নাগরিকত্ব গ্রহণের কারণে সাইফুল আলমের বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পরিত্যাগের আবেদন তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার মঞ্জুর করেছিল।
তবে ওই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ইসলামী ব্যাংক গত বছরের নভেম্বরে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করে। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে সাইফুল আলমের নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন মঞ্জুর হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া (আওয়ামী লীগ সরকার আমলের) স্মারক স্থগিত করেন হাইকোর্ট। ফলে সাইফুল আলমের (এস আলম) বাংলাদেশের নাগরিকত্বের প্রশ্নটি এখনো অমীমাংসিত রয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে এস আলমের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। সেই সূত্রে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করে তিনি ব্যাংক দখল, ঋণ অনিয়ম, অর্থ পাচার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এস আলম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বিদেশে অবস্থান করছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি আর দেশে ফেরেননি।





















