ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প
ধ্বংসস্তূপের নিচে ৪৮ ঘণ্টা কাটিয়েও আশা হারাননি তরুণী
- আপডেট সময় ০৪:৪০:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
- / ৩৩ বার পড়া হয়েছে
গত সপ্তাহে ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা আটকা পড়েও শান্ত থাকার চেষ্টা করেছিলেন ২৩ বছর বয়সি আন্দ্রেয়া ক্যানোনিকো। শেষ পর্যন্ত উদ্ধারকারীরা তাকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শহর লা গুইরার লস কোরালেস এলাকার বাসিন্দা আন্দ্রেয়া বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আমি কখনো আশা হারাইনি।’
তবে, তার ২০ বছর বয়সি ভাই এবং ৯১ বছর বয়সি ফুফু এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
গত বুধবার দেশটিতে রিখটার স্কেলে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হাতে ব্যান্ডেজ বাঁধা আন্দ্রেয়া বলেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে তিনি নিজেকে বলেছিলেন, ‘আমি ঘুমিয়ে পড়ব।’
আন্দ্রেয়া আরও বলেন, ‘আমি নিজেকে বলেছিলাম, এখন একটি ভয়াবহ দুর্যোগের মধ্যে আছি। নিশ্চয়ই আবারও কম্পন হবে। আমি শান্ত থাকব, উদ্বিগ্ন হব না।’
তিনি জানান, প্রায় ছয় মিটার ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়লেও তিনি বসে থাকতে পেরেছিলেন। তার সঙ্গে মোবাইল ফোন থাকায় সময় জানতে ও কিছুটা আলো পেতে সুবিধা হয়।
আন্দ্রেয়া আরও জানান, তার চেয়ে কিছুটা ওপরে আটকে থাকা আরেক ব্যক্তির সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করতে সক্ষম হন। ওই ব্যক্তি উদ্ধার হওয়ার পর উদ্ধারকর্মীদের জানান যে নিচে আরও একজন জীবিত রয়েছেন।
আন্দ্রেয়া বলেন, ‘আমার ওপরে একটি ফাঁকা জায়গা ছিল, যেটি দিয়ে আমি ওপরে উঠতে পেরেছিলাম। এরপর উদ্ধারকারীরা যে পথ তৈরি করছিলেন সেখানে পৌঁছে ধীরে ধীরে ওপরে উঠি। তারা আমাকে টেনে তুললে আমি বেরিয়ে আসতে সক্ষম হই।’
এদিকে একই এলাকায় ধ্বংসস্তূপের মধ্যে জীবিত মানুষের সন্ধানে নিরলসভাবে কাজ করছেন ২৬ বছর বয়সি সাবেক খনিশ্রমিক মোইসেস ফারামায়া।
ধ্বংসস্তূপের মধ্যে তিনি চিৎকার করে বলেন, ‘এখানে কেউ কি জীবিত আছেন?’
মোইসেস জানান, তিনি এখন পর্যন্ত লা গুইরায় ১৬ জনকে জীবিতিএবং ২২টি লাশ উদ্ধার করেছেন।
কর্তৃপক্ষ এলাকাটিকে ‘দুর্যোগ অঞ্চল’ ঘোষণা করেছে।
মোইসেস বলেন, ‘একজনের দেয়ালে আঁচড়ানোর শব্দ শুনতে পাই। তিনি আটকে ছিলেন, কিন্তু হাত নাড়াতে পারছিলেন। পরে তাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়।’
মোইসেস জানান, তিনি শুধু একটি গাঁইতি ও একটি কোদাল ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরান। বলিভার রাজ্যের এল কায়াও অঞ্চলের খনিতে ছয় বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা তাকে এ কাজে দক্ষ করে তুলেছে। এ কারণে উদ্ধারকাজে দমকল বাহিনী ও বিশেষজ্ঞরাও তার সহায়তা নেন।
‘দ্য মোল’ নামে পরিচিত মোইসেস বলেন, তিনি প্রায় না খেয়েই এবং না ঘুমিয়েই উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, ‘এই কাজ সহজ নয়। ধুলাবালি আর পচে যাওয়া লাশের গন্ধের মধ্যে কাজ করতে হয়। তার পরও আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
অন্যদিকে আন্দ্রেয়ার ভবনের সবাই মারা গেছেন বলে সম্প্রতি কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দেয়।
৪৪ বছর বয়সি রেস্তোরাঁ কর্মী আলেকজান্ডার গার্সিয়া জানান, তিনি দমকলকর্মীদের ‘কোড-১৪’ ঘোষণা করতে শুনেছিলেন, যার অর্থ ছিল সেখানে আর কোনো জীবিত ব্যক্তি নেই।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ধারকারী দল ও স্পেনের প্রশিক্ষিত অনুসন্ধানী কুকুর জীবিত মানুষের উপস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়ার পর ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা তার দুই ভাইকে জীবিত উদ্ধারের আশা আবারও জেগে ওঠে।
গার্সিয়া বলেন, ‘সবাই তাদের আওয়াজ শুনেছিল, সবাই।’
তার মা ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার হলেও পরে মারা যান।
রাত নামার পরও টর্চের আলোয় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে মঙ্গলবার সকালের ভারি বৃষ্টিতে উদ্ধারকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং উদ্ধারকর্মীদের মনোবলেও প্রভাব পড়ে।
ভূমিকম্পের পর জীবিত উদ্ধার পাওয়ার সম্ভাব্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা শনিবার সন্ধ্যায় শেষ হয়ে গেছে।
মঙ্গলবারের মধ্যে জীবিত কাউকে উদ্ধারের আশা অনেকটাই ক্ষীণ হয়ে পড়েছে।









