ঢাকা ১০:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের লিজকৃত জমি দখল করল সাবেক বিএনপি নেতা

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৮:৩৮:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
  • / ২৮ বার পড়া হয়েছে

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে রেলওয়ের মালিকানাধীন ও ব্যক্তি নামে লিজ নেওয়া একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সাবেক (বহিষ্কৃত) সহ-সভাপতি শামসুদ্দীন মিয়া ওরফে ঝুনুর বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেছেন, সংশ্লিষ্ট জমি তাদের পূর্বপুরুষের দখলে রয়েছে এবং অভিযোগকারীদের লিজ বাতিল হয়েছে।

রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে বোয়ালমারী পৌরসভার পাঞ্জেরী মডেল মাদরাসা ও হেফজখানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ তুলে ধরেন বোয়ালমারী পৌর জামায়াতের আমির ও মাদরাসার অধ্যক্ষ সৈয়দ নিয়ামুল হাসান।

লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, রেলওয়ের লিজ নেওয়া জমি অবৈধভাবে দখল করে রাখা হয়েছে এবং সেখানে যেতে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি লোকজন দিয়ে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। জমি বুঝে পেতে তিনি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

তিনি জানান, পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে পরিচালিত পাঞ্জেরী মডেল মাদরাসা ও হেফজখানার স্বার্থে ১৯৯৩ সালে তৎকালীন অধ্যক্ষ আবুল কাশেম মাহমুদের নামে বাংলাদেশ রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় কার্যালয় থেকে বোয়ালমারী স্টেশন এলাকায় কৃষিজমি হিসেবে পৃথক স্থানে এক একর ও ৬৬ শতক জমি লিজ নেওয়া হয়। পরে পরিচালনা পর্ষদ নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করে ওই জমিতে উৎপাদিত ফসলের আয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় ব্যয় করত।

তার দাবি, ২০০৫ সাল পর্যন্ত এক একর জমির খাজনা পরিশোধ করা হলেও পরে রেলওয়ে খাজনা গ্রহণ বন্ধ করে দেয়। এরপর শামসুদ্দীন মিয়া ওই জমি দখল করে দোকানঘর নির্মাণ করে অন্যদের কাছে হস্তান্তর করেন। এছাড়া ৬৬ শতক জমির লিজ ২০২৭ সাল পর্যন্ত বৈধ থাকলেও বর্তমানে সেখানে তাদের প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় এ-সংক্রান্ত কাগজপত্রও উপস্থাপন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিজগ্রহীতা আবুল কাশেম মাহমুদ, মাদরাসার সভাপতি মো. জাকির হোসেন, পরিচালক মো. আতিয়ার রহমান মিয়া ও মানছুর আহমেদ এবং কোষাধ্যক্ষ আবু নাছের মোল্লাসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ নিয়ামুল হাসান বলেন, জমিটির লিজগ্রহীতা আবুল কাশেম তাদের দলের কর্মী হলেও জমিটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনার স্বার্থেই ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

অভিযোগের বিষয়ে শামসুদ্দীন মিয়া বলেন, অভিযোগকারীদের ওই স্থানে কোনো লিজের জমি নেই। তার দাবি, জমিটি তাদের পূর্বপুরুষের এবং তারা রেলওয়ের অনুমতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে আছেন। তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগকারীরা আগে মামলা করলেও আদালত তা খারিজ করে দিয়েছেন। এছাড়া ২০০৫ সালে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ তাদের এক একর জমির লিজ বাতিল করেছে বলেও দাবি করেন। তবে ৬৬ শতক জমির বৈধ লিজ থাকলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সেটি বুঝিয়ে দিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ বিষয়ে পাকশী রেলওয়ের ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর কোনো ফৌজদারি অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকলে ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ করতে পারেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের লিজকৃত জমি দখল করল সাবেক বিএনপি নেতা

আপডেট সময় ০৮:৩৮:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে রেলওয়ের মালিকানাধীন ও ব্যক্তি নামে লিজ নেওয়া একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সাবেক (বহিষ্কৃত) সহ-সভাপতি শামসুদ্দীন মিয়া ওরফে ঝুনুর বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেছেন, সংশ্লিষ্ট জমি তাদের পূর্বপুরুষের দখলে রয়েছে এবং অভিযোগকারীদের লিজ বাতিল হয়েছে।

রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে বোয়ালমারী পৌরসভার পাঞ্জেরী মডেল মাদরাসা ও হেফজখানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ তুলে ধরেন বোয়ালমারী পৌর জামায়াতের আমির ও মাদরাসার অধ্যক্ষ সৈয়দ নিয়ামুল হাসান।

লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, রেলওয়ের লিজ নেওয়া জমি অবৈধভাবে দখল করে রাখা হয়েছে এবং সেখানে যেতে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি লোকজন দিয়ে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। জমি বুঝে পেতে তিনি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

তিনি জানান, পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে পরিচালিত পাঞ্জেরী মডেল মাদরাসা ও হেফজখানার স্বার্থে ১৯৯৩ সালে তৎকালীন অধ্যক্ষ আবুল কাশেম মাহমুদের নামে বাংলাদেশ রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় কার্যালয় থেকে বোয়ালমারী স্টেশন এলাকায় কৃষিজমি হিসেবে পৃথক স্থানে এক একর ও ৬৬ শতক জমি লিজ নেওয়া হয়। পরে পরিচালনা পর্ষদ নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করে ওই জমিতে উৎপাদিত ফসলের আয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় ব্যয় করত।

তার দাবি, ২০০৫ সাল পর্যন্ত এক একর জমির খাজনা পরিশোধ করা হলেও পরে রেলওয়ে খাজনা গ্রহণ বন্ধ করে দেয়। এরপর শামসুদ্দীন মিয়া ওই জমি দখল করে দোকানঘর নির্মাণ করে অন্যদের কাছে হস্তান্তর করেন। এছাড়া ৬৬ শতক জমির লিজ ২০২৭ সাল পর্যন্ত বৈধ থাকলেও বর্তমানে সেখানে তাদের প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় এ-সংক্রান্ত কাগজপত্রও উপস্থাপন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিজগ্রহীতা আবুল কাশেম মাহমুদ, মাদরাসার সভাপতি মো. জাকির হোসেন, পরিচালক মো. আতিয়ার রহমান মিয়া ও মানছুর আহমেদ এবং কোষাধ্যক্ষ আবু নাছের মোল্লাসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ নিয়ামুল হাসান বলেন, জমিটির লিজগ্রহীতা আবুল কাশেম তাদের দলের কর্মী হলেও জমিটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনার স্বার্থেই ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

অভিযোগের বিষয়ে শামসুদ্দীন মিয়া বলেন, অভিযোগকারীদের ওই স্থানে কোনো লিজের জমি নেই। তার দাবি, জমিটি তাদের পূর্বপুরুষের এবং তারা রেলওয়ের অনুমতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে আছেন। তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগকারীরা আগে মামলা করলেও আদালত তা খারিজ করে দিয়েছেন। এছাড়া ২০০৫ সালে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ তাদের এক একর জমির লিজ বাতিল করেছে বলেও দাবি করেন। তবে ৬৬ শতক জমির বৈধ লিজ থাকলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সেটি বুঝিয়ে দিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ বিষয়ে পাকশী রেলওয়ের ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর কোনো ফৌজদারি অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকলে ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ করতে পারেন।