ঢাকা ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আ.লীগের দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বে বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না পাঁচ শিক্ষার্থী

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ১০:১০:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
  • / ২৫ বার পড়া হয়েছে

সিলেটের ওসমানীনগরে আওয়ামী লীগের দুই বলয়ের দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের বাড়ির একমাত্র চলাচলের পথে দেওয়াল নির্মাণ করে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এতে পাঁচ বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীসহ কয়েকজন শিক্ষার্থীর নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে। নিরাপত্তাহীনতা ও চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অভিভাবকেরা সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে পারছেন না।

পরিস্থিতির প্রতিকার চেয়ে গত ৯ জুলাই সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের কাছে লিখিত আবেদনও দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নের সিকন্দরপুর পশ্চিমগাঁও এলাকায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শফিকুল ইসলামের বলয়ের সঙ্গে সাবেক ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী নুর হোসেনের পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছে। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে অতীতে এলাকায় একাধিকবার অস্ত্রের মহড়া, গুলিবর্ষণ, হামলা ও প্রাণনাশের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিরোধটি দীর্ঘদিন ধরে চলমান রয়েছে। এবার সেই বিরোধের প্রভাব পড়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর।

অভিযোগ রয়েছে, হাজী নুর হোসেনের বাড়ির কেয়ারটেকার সুবোধ সূত্রধরসহ কয়েকটি পরিবারের চলাচলের একমাত্র রাস্তায় গোলাম কিবরিয়া ও শফিকুল ইসলামের সমর্থকেরা কয়েক দিন আগে জোরপূর্বক দেওয়াল নির্মাণ করে পথ বন্ধ করে দেন। ফলে ওই পরিবারের পাঁচ শিক্ষার্থীসহ আশপাশের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়ে যাতায়াত সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বিরোধে জড়িত দুই পক্ষের পরিবারের কোনো শিক্ষার্থীই নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হচ্ছে না। শাহ সিকন্দর আলহাজ্ব আব্দুল হাফিজ উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রুদ্র সূত্রধর এবং ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ঈশা সূত্রধর দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত রয়েছে। একইভাবে সিকন্দরপুর শাহ সিদ্দিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী জয় সূত্রধর, তৈশী সূত্রধর ও নিলয় সূত্রধরও বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না।

অভিভাবকদের দাবি, হাওড়বেষ্টিত এ গ্রামটির চারদিকে পানি থাকায় বিকল্প কোনো চলাচলের পথ নেই। এর মধ্যে একমাত্র রাস্তাটিও দেওয়াল নির্মাণ করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চলমান বিরোধের কারণে সন্তানদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতের পথে অপহরণ, গুম কিংবা হত্যার আশঙ্কা করছেন তারা। প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে যেকোনো সময় তাদের সন্তানদের লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন অভিভাবকেরা। এ কারণে সন্তানদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তারা বিদ্যালয়ে পাঠানো বন্ধ রেখেছেন।

এসএসসি পরীক্ষার্থী রুদ্র সূত্রধরের বাবা প্রণধীর সূত্রধর বলেন, “কিবরিয়া ও শফিকুল ইসলামের সশস্ত্র ক্যাডারদের কারণে আমরা সন্তানদের নিরাপদ মনে করছি না। বিশেষ করে আমার এসএসসি পরীক্ষার্থী ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা চরম উদ্বিগ্ন।”

সিকন্দরপুর শাহ সিদ্দিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা নাজমা বেগম বলেন, “শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে প্রথমে আবেদনটি গ্রহণ করেছিলাম। পরে বিষয়টি দুই পক্ষের বিরোধের সঙ্গে সম্পৃক্ত জানতে পেরে আবেদনকারীদের কাগজটি প্রত্যাহার করে নিতে বলি।”

এ বিষয়ে ওসমানীনগর থানার ওসি গাজী মোস্তফা বলেন, “এটি মূলত দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধের জের। এ-সংক্রান্ত সাতটি মামলা থানা ও আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধানে পুলিশ উভয় পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে মীমাংসার চেষ্টা করছে।”

স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক বিরোধের বলি হয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা যেন ব্যাহত না হয়, সে জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। পাশাপাশি অবরুদ্ধ চলাচলের পথ দ্রুত উন্মুক্ত করে শিক্ষার্থীদের নিরাপদে বিদ্যালয়ে যাতায়াত নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আ.লীগের দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বে বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না পাঁচ শিক্ষার্থী

আপডেট সময় ১০:১০:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

সিলেটের ওসমানীনগরে আওয়ামী লীগের দুই বলয়ের দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের বাড়ির একমাত্র চলাচলের পথে দেওয়াল নির্মাণ করে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এতে পাঁচ বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীসহ কয়েকজন শিক্ষার্থীর নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে। নিরাপত্তাহীনতা ও চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অভিভাবকেরা সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে পারছেন না।

পরিস্থিতির প্রতিকার চেয়ে গত ৯ জুলাই সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের কাছে লিখিত আবেদনও দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নের সিকন্দরপুর পশ্চিমগাঁও এলাকায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শফিকুল ইসলামের বলয়ের সঙ্গে সাবেক ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী নুর হোসেনের পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছে। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে অতীতে এলাকায় একাধিকবার অস্ত্রের মহড়া, গুলিবর্ষণ, হামলা ও প্রাণনাশের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিরোধটি দীর্ঘদিন ধরে চলমান রয়েছে। এবার সেই বিরোধের প্রভাব পড়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর।

অভিযোগ রয়েছে, হাজী নুর হোসেনের বাড়ির কেয়ারটেকার সুবোধ সূত্রধরসহ কয়েকটি পরিবারের চলাচলের একমাত্র রাস্তায় গোলাম কিবরিয়া ও শফিকুল ইসলামের সমর্থকেরা কয়েক দিন আগে জোরপূর্বক দেওয়াল নির্মাণ করে পথ বন্ধ করে দেন। ফলে ওই পরিবারের পাঁচ শিক্ষার্থীসহ আশপাশের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়ে যাতায়াত সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বিরোধে জড়িত দুই পক্ষের পরিবারের কোনো শিক্ষার্থীই নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হচ্ছে না। শাহ সিকন্দর আলহাজ্ব আব্দুল হাফিজ উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রুদ্র সূত্রধর এবং ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ঈশা সূত্রধর দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত রয়েছে। একইভাবে সিকন্দরপুর শাহ সিদ্দিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী জয় সূত্রধর, তৈশী সূত্রধর ও নিলয় সূত্রধরও বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না।

অভিভাবকদের দাবি, হাওড়বেষ্টিত এ গ্রামটির চারদিকে পানি থাকায় বিকল্প কোনো চলাচলের পথ নেই। এর মধ্যে একমাত্র রাস্তাটিও দেওয়াল নির্মাণ করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চলমান বিরোধের কারণে সন্তানদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতের পথে অপহরণ, গুম কিংবা হত্যার আশঙ্কা করছেন তারা। প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে যেকোনো সময় তাদের সন্তানদের লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন অভিভাবকেরা। এ কারণে সন্তানদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তারা বিদ্যালয়ে পাঠানো বন্ধ রেখেছেন।

এসএসসি পরীক্ষার্থী রুদ্র সূত্রধরের বাবা প্রণধীর সূত্রধর বলেন, “কিবরিয়া ও শফিকুল ইসলামের সশস্ত্র ক্যাডারদের কারণে আমরা সন্তানদের নিরাপদ মনে করছি না। বিশেষ করে আমার এসএসসি পরীক্ষার্থী ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা চরম উদ্বিগ্ন।”

সিকন্দরপুর শাহ সিদ্দিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা নাজমা বেগম বলেন, “শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে প্রথমে আবেদনটি গ্রহণ করেছিলাম। পরে বিষয়টি দুই পক্ষের বিরোধের সঙ্গে সম্পৃক্ত জানতে পেরে আবেদনকারীদের কাগজটি প্রত্যাহার করে নিতে বলি।”

এ বিষয়ে ওসমানীনগর থানার ওসি গাজী মোস্তফা বলেন, “এটি মূলত দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধের জের। এ-সংক্রান্ত সাতটি মামলা থানা ও আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধানে পুলিশ উভয় পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে মীমাংসার চেষ্টা করছে।”

স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক বিরোধের বলি হয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা যেন ব্যাহত না হয়, সে জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। পাশাপাশি অবরুদ্ধ চলাচলের পথ দ্রুত উন্মুক্ত করে শিক্ষার্থীদের নিরাপদে বিদ্যালয়ে যাতায়াত নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।