ঢাকা ১০:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাংসের দাম নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপি নেতা বহিষ্কার

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৬:৫৪:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
  • / ৪৩ বার পড়া হয়েছে

সিলেট নগরের মদিনা মার্কেট এলাকায় গরুর মাংসের দাম নির্ধারণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপি এক নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃত ওই নেতার নাম গিয়াস উদ্দিন।

রোববার (২০ জুলাই) বিকেলে সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীর সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৯ মার্চ রাত প্রায় ৮টার দিকে মদিনা মার্কেট এলাকায় গরুর মাংসের মূল্য নির্ধারণকে কেন্দ্র করে একটি অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ ছড়িয়ে পড়লে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দল আজিজ খান সজিব, গোলাম রব্বানী ও রাসেল আহমদ খানকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব সাংগঠনিক পদ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করে।

পরবর্তীতে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সিলেট মহানগর বিএনপি দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটিতে ছিলেন সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম ইয়াহিয়া চৌধুরী সুহেল এবং মহানগর দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট বদরুল ইসলাম চৌধুরী।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গরুর মাংসের মূল্য নির্ধারণকে কেন্দ্র করে প্রথমে ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি গিয়াস উদ্দিন ও মহানগর যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক রিপন চৌধুরীর মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ ঘটনায় দলীয় শৃঙ্খলা ও সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তবে তদন্তে আজিজ খান সজিব, গোলাম রব্বানী ও রাসেল আহমদ খানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী তাদের দায়মুক্ত ঘোষণা করা হয়। একই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গিয়াস উদ্দিনকে দল থেকে বহিষ্কার এবং রিপন চৌধুরীর বিরুদ্ধে বহিষ্কারের প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট নেতাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজ খান সজিব কালবেলাকে বলেন, মদিনা মার্কেটের ঘটনার পর সুনির্দিষ্ট তদন্ত ছাড়াই তাকে, গোলাম রব্বানী ও আরও কয়েকজন নেতাকে বহিষ্কার ও শোকজ করা হয়েছিল, যা সিলেটজুড়ে রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দেয়।

তিনি বলেন, ‘বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় গঠিত তদন্ত কমিটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করেছে, ঘটনার সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। মূল ঘটনা ছিল গিয়াস উদ্দিন ও রিপন চৌধুরীর ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব। আমরা প্রশাসনের অনুরোধে পরিস্থিতি শান্ত করতে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। কিন্তু গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাদের দোষী হিসেবে উপস্থাপন করায় সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়েছে।’

আজিজ খান সজিব আরও বলেন, ‘তদন্তের মাধ্যমে সত্য প্রকাশ পাওয়ায় আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি। ভবিষ্যতে কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে তদন্ত ছাড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত নয়। দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোরতা প্রয়োজন, তবে তা অবশ্যই নিরপেক্ষ তদন্তের ভিত্তিতে হওয়া উচিত, যাতে কোনো নির্দোষ নেতাকর্মী অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন।’

নিউজটি শেয়ার করুন

মাংসের দাম নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপি নেতা বহিষ্কার

আপডেট সময় ০৬:৫৪:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

সিলেট নগরের মদিনা মার্কেট এলাকায় গরুর মাংসের দাম নির্ধারণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপি এক নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃত ওই নেতার নাম গিয়াস উদ্দিন।

রোববার (২০ জুলাই) বিকেলে সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীর সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৯ মার্চ রাত প্রায় ৮টার দিকে মদিনা মার্কেট এলাকায় গরুর মাংসের মূল্য নির্ধারণকে কেন্দ্র করে একটি অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ ছড়িয়ে পড়লে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দল আজিজ খান সজিব, গোলাম রব্বানী ও রাসেল আহমদ খানকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব সাংগঠনিক পদ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করে।

পরবর্তীতে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সিলেট মহানগর বিএনপি দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটিতে ছিলেন সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম ইয়াহিয়া চৌধুরী সুহেল এবং মহানগর দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট বদরুল ইসলাম চৌধুরী।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গরুর মাংসের মূল্য নির্ধারণকে কেন্দ্র করে প্রথমে ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি গিয়াস উদ্দিন ও মহানগর যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক রিপন চৌধুরীর মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ ঘটনায় দলীয় শৃঙ্খলা ও সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তবে তদন্তে আজিজ খান সজিব, গোলাম রব্বানী ও রাসেল আহমদ খানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী তাদের দায়মুক্ত ঘোষণা করা হয়। একই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গিয়াস উদ্দিনকে দল থেকে বহিষ্কার এবং রিপন চৌধুরীর বিরুদ্ধে বহিষ্কারের প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট নেতাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজ খান সজিব কালবেলাকে বলেন, মদিনা মার্কেটের ঘটনার পর সুনির্দিষ্ট তদন্ত ছাড়াই তাকে, গোলাম রব্বানী ও আরও কয়েকজন নেতাকে বহিষ্কার ও শোকজ করা হয়েছিল, যা সিলেটজুড়ে রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দেয়।

তিনি বলেন, ‘বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় গঠিত তদন্ত কমিটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করেছে, ঘটনার সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। মূল ঘটনা ছিল গিয়াস উদ্দিন ও রিপন চৌধুরীর ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব। আমরা প্রশাসনের অনুরোধে পরিস্থিতি শান্ত করতে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। কিন্তু গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাদের দোষী হিসেবে উপস্থাপন করায় সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়েছে।’

আজিজ খান সজিব আরও বলেন, ‘তদন্তের মাধ্যমে সত্য প্রকাশ পাওয়ায় আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি। ভবিষ্যতে কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে তদন্ত ছাড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত নয়। দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোরতা প্রয়োজন, তবে তা অবশ্যই নিরপেক্ষ তদন্তের ভিত্তিতে হওয়া উচিত, যাতে কোনো নির্দোষ নেতাকর্মী অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন।’