ঢাকা ০৫:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
জীবিত জেলে সরকারি নথিতে মৃত

প্রকৃত জেলে বাদ দিয়ে অ-জেলেদের কার্ড, শিবচরে জেলে তালিকায় স্বজনপ্রীতি

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৪:৩৫:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ২১ বার পড়া হয়েছে

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পদ্মা নদীবেষ্টিত চরজানাজাত ইউনিয়নে সরকারি জেলে কার্ড বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে পদ্মায় মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করা অনেক প্রকৃত জেলে সরকারি তালিকা থেকে বঞ্চিত হলেও অ-জেলে ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা কৌশলে হস্তগত করেছেন সরকারি কার্ড। এমনকি এক জীবিত জেলেকে সরকারি নথিতে ‘মৃত’ বানিয়ে তার সহায়তার চাল বন্ধ করে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্যও উঠে এসেছে।

স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, মাছ ধরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা বা দুর্যোগকালীন এই কার্ড ও চালই তাদের টিকে থাকার একমাত্র সম্বল। তবে চরজানাজাত ইউনিয়নে প্রকৃত জেলেদের বাদ দিয়ে এমন অনেককে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যারা পেশায় জেলে নন। বহু জেলে একাধিকবার ছবি ও নাগরিক সনদ জমা দিয়েও তালিকার মুখ দেখেননি।

রহিম মাদবর নামের এক ভুক্তভোগী আক্ষেপ করে জানান, চার-পাঁচবার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েও তিনি কার্ড পাননি।

রাকিব নামের এক তরুণ জেলে জানান, তার পেশাদার জেলে বাবা জীবনভর কার্ড পাননি; বাবার মৃত্যুর পর একই পেশায় থাকলেও তিনিও সরকারি সহায়তার বাইরে রয়ে গেছেন। ১৮ বছর ধরে মাছ ধরে সংসার চালানো এক প্রবীণ জেলেও প্রশ্ন তোলেন জেলে কার্ড পাওয়ার প্রকৃত মানদণ্ড নিয়ে।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় ঘটে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেলের ক্ষেত্রে। আগে তিনি নিয়মিত সরকারি সহায়তা পেলেও গত দুই বছর ধরে হঠাৎ তা বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, সরকারি নথিপত্রে তাকে ‘মৃত’ হিসেবে দেখা দেখানো হয়েছে! বর্তমানে জীবিত ও পেশায় সক্রিয় থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এমন তথ্য নথিবদ্ধ হলো, তা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে চরম ক্ষোভের।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সমাজসেবক অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন বেপারী বলেন, পদ্মায় মাছ শিকার করে যারা জীবিকা নির্বাহ করে, সরকারি সহায়তার প্রথম অধিকার তাদেরই। অনতিবিলম্বে জেলে তালিকা পুনঃযাচাই করে ভুয়া কার্ডধারীদের বাদ দেওয়া এবং বঞ্চিত প্রকৃত জেলেদের সহায়তার আওতায় আনা প্রয়োজন।

অভিযোগ স্বীকার করে শিবচর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সত্যজিৎ মজুমদার জানান, অপেশাদার বা অযোগ্য ব্যক্তিদের জেলে কার্ডের বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে অযোগ্যদের নাম বাদ দিয়ে প্রকৃত জেলেদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

ইউএনও এএইচএম ইবনে মিজান জানান, প্রকৃত জেলেরা বঞ্চিত হচ্ছেন এমন অভিযোগ আমরাও পেয়েছি। ইতোমধ্যে অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে কাজ শুরু হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

জীবিত জেলে সরকারি নথিতে মৃত

প্রকৃত জেলে বাদ দিয়ে অ-জেলেদের কার্ড, শিবচরে জেলে তালিকায় স্বজনপ্রীতি

আপডেট সময় ০৪:৩৫:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পদ্মা নদীবেষ্টিত চরজানাজাত ইউনিয়নে সরকারি জেলে কার্ড বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে পদ্মায় মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করা অনেক প্রকৃত জেলে সরকারি তালিকা থেকে বঞ্চিত হলেও অ-জেলে ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা কৌশলে হস্তগত করেছেন সরকারি কার্ড। এমনকি এক জীবিত জেলেকে সরকারি নথিতে ‘মৃত’ বানিয়ে তার সহায়তার চাল বন্ধ করে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্যও উঠে এসেছে।

স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, মাছ ধরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা বা দুর্যোগকালীন এই কার্ড ও চালই তাদের টিকে থাকার একমাত্র সম্বল। তবে চরজানাজাত ইউনিয়নে প্রকৃত জেলেদের বাদ দিয়ে এমন অনেককে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যারা পেশায় জেলে নন। বহু জেলে একাধিকবার ছবি ও নাগরিক সনদ জমা দিয়েও তালিকার মুখ দেখেননি।

রহিম মাদবর নামের এক ভুক্তভোগী আক্ষেপ করে জানান, চার-পাঁচবার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েও তিনি কার্ড পাননি।

রাকিব নামের এক তরুণ জেলে জানান, তার পেশাদার জেলে বাবা জীবনভর কার্ড পাননি; বাবার মৃত্যুর পর একই পেশায় থাকলেও তিনিও সরকারি সহায়তার বাইরে রয়ে গেছেন। ১৮ বছর ধরে মাছ ধরে সংসার চালানো এক প্রবীণ জেলেও প্রশ্ন তোলেন জেলে কার্ড পাওয়ার প্রকৃত মানদণ্ড নিয়ে।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় ঘটে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেলের ক্ষেত্রে। আগে তিনি নিয়মিত সরকারি সহায়তা পেলেও গত দুই বছর ধরে হঠাৎ তা বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, সরকারি নথিপত্রে তাকে ‘মৃত’ হিসেবে দেখা দেখানো হয়েছে! বর্তমানে জীবিত ও পেশায় সক্রিয় থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এমন তথ্য নথিবদ্ধ হলো, তা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে চরম ক্ষোভের।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সমাজসেবক অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন বেপারী বলেন, পদ্মায় মাছ শিকার করে যারা জীবিকা নির্বাহ করে, সরকারি সহায়তার প্রথম অধিকার তাদেরই। অনতিবিলম্বে জেলে তালিকা পুনঃযাচাই করে ভুয়া কার্ডধারীদের বাদ দেওয়া এবং বঞ্চিত প্রকৃত জেলেদের সহায়তার আওতায় আনা প্রয়োজন।

অভিযোগ স্বীকার করে শিবচর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সত্যজিৎ মজুমদার জানান, অপেশাদার বা অযোগ্য ব্যক্তিদের জেলে কার্ডের বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে অযোগ্যদের নাম বাদ দিয়ে প্রকৃত জেলেদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

ইউএনও এএইচএম ইবনে মিজান জানান, প্রকৃত জেলেরা বঞ্চিত হচ্ছেন এমন অভিযোগ আমরাও পেয়েছি। ইতোমধ্যে অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে কাজ শুরু হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।