ঢাকা ০৭:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুবিতে গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতি বন্ধে শাখা ছাত্রশিবিরের ৫ দফা দাবি

কুবি প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় ০৫:১৩:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৫ বার পড়া হয়েছে

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) আবাসিক হলগুলোতে গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতি বন্ধ, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত এবং স্বচ্ছ ও নীতিভিত্তিক আসন বরাদ্দের দাবিতে পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

শনিবার (২ আগস্ট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীমের কাছে দেওয়া এক স্মারকলিপিতে এসব দাবি জানায় সংগঠনটি। এসময় সংগঠনটি সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন আবির ও সেক্রেটারি মো. সাইফুল ইসলামসহ অসংখ্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, সম্প্রতি বিজয়-২৪ হলে নিয়মবহির্ভূতভাবে শিক্ষার্থী ওঠানোর অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া এর আগে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলে সিট বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনায় আবাসিক হলের স্বচ্ছতা, সমতা ও ন্যায়ভিত্তিক পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

স্মারকলিপিতে উত্থাপিত পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- মেধা, দূরত্ব, আর্থিক অসচ্ছলতা ও অন্যান্য যৌক্তিক মানদণ্ডের ভিত্তিতে স্বচ্ছ আসন বরাদ্দ নীতিমালা প্রণয়ন, আবাসিক হলকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা, গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতি প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য র‍্যাগিংমুক্ত ও নিরাপদ আবাসিক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং হলসংক্রান্ত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ ।

শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোজাম্মেল হোসাইন আবির বলেন, “আবাসিক হলে শিক্ষার্থী ওঠানোর একক কর্তৃত্ব হল প্রশাসনের হাতে থাকতে হবে। গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে, ছাত্রত্ব শেষ হওয়া ব্যক্তিদের হল ছাড়াতে হবে এবং নতুন শিক্ষার্থীদের ন্যায্যতার ভিত্তিতে আসন বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে। প্রশাসন আমাদের জানিয়েছে, বিষয়টি প্রভোস্ট কমিটির সভায় আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেন, “তারা আবাসিক হলের সিট বরাদ্দের নীতিমালাসহ কয়েকটি দাবি জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে আজই প্রভোস্ট কমিটির সঙ্গে আলোচনা করব। এরপর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

স্মারকলিপিতে ছাত্রশিবির নেতারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সময়োপযোগী উদ্যোগ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে ন্যায়ভিত্তিক, স্বচ্ছ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে তারা দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য উপাচার্যের প্রতি আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে বিজয়-২৪ হলে হল প্রশাসনের পূর্বানুমতি ছাড়াই ছাত্রদলের দুই নেতার মাধ্যমে দুটি কক্ষে ২৪ জন শিক্ষার্থীকে আবাসনের অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি নিয়ে ক্যাম্পাসে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এরই প্রেক্ষাপটে আবাসিক হল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতি বন্ধের দাবিতে স্মারকলিপি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির।

নিউজটি শেয়ার করুন

কুবিতে গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতি বন্ধে শাখা ছাত্রশিবিরের ৫ দফা দাবি

আপডেট সময় ০৫:১৩:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) আবাসিক হলগুলোতে গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতি বন্ধ, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত এবং স্বচ্ছ ও নীতিভিত্তিক আসন বরাদ্দের দাবিতে পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

শনিবার (২ আগস্ট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীমের কাছে দেওয়া এক স্মারকলিপিতে এসব দাবি জানায় সংগঠনটি। এসময় সংগঠনটি সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন আবির ও সেক্রেটারি মো. সাইফুল ইসলামসহ অসংখ্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, সম্প্রতি বিজয়-২৪ হলে নিয়মবহির্ভূতভাবে শিক্ষার্থী ওঠানোর অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া এর আগে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলে সিট বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনায় আবাসিক হলের স্বচ্ছতা, সমতা ও ন্যায়ভিত্তিক পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

স্মারকলিপিতে উত্থাপিত পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- মেধা, দূরত্ব, আর্থিক অসচ্ছলতা ও অন্যান্য যৌক্তিক মানদণ্ডের ভিত্তিতে স্বচ্ছ আসন বরাদ্দ নীতিমালা প্রণয়ন, আবাসিক হলকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা, গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতি প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য র‍্যাগিংমুক্ত ও নিরাপদ আবাসিক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং হলসংক্রান্ত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ ।

শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোজাম্মেল হোসাইন আবির বলেন, “আবাসিক হলে শিক্ষার্থী ওঠানোর একক কর্তৃত্ব হল প্রশাসনের হাতে থাকতে হবে। গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে, ছাত্রত্ব শেষ হওয়া ব্যক্তিদের হল ছাড়াতে হবে এবং নতুন শিক্ষার্থীদের ন্যায্যতার ভিত্তিতে আসন বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে। প্রশাসন আমাদের জানিয়েছে, বিষয়টি প্রভোস্ট কমিটির সভায় আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেন, “তারা আবাসিক হলের সিট বরাদ্দের নীতিমালাসহ কয়েকটি দাবি জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে আজই প্রভোস্ট কমিটির সঙ্গে আলোচনা করব। এরপর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

স্মারকলিপিতে ছাত্রশিবির নেতারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সময়োপযোগী উদ্যোগ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে ন্যায়ভিত্তিক, স্বচ্ছ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে তারা দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য উপাচার্যের প্রতি আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে বিজয়-২৪ হলে হল প্রশাসনের পূর্বানুমতি ছাড়াই ছাত্রদলের দুই নেতার মাধ্যমে দুটি কক্ষে ২৪ জন শিক্ষার্থীকে আবাসনের অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি নিয়ে ক্যাম্পাসে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এরই প্রেক্ষাপটে আবাসিক হল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতি বন্ধের দাবিতে স্মারকলিপি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির।