ঢাকা ০৬:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হত্যায় মুখ খুললেন ছাত্রদল নেতা মোকাররম

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০১:৪৬:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৭ বার পড়া হয়েছে

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম ওরফে জাহাঙ্গীর (৫২) হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ছাত্রদলের বহিষ্কৃত নেতা মোকাররম হোসেন খোকা।

বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিও বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তথ্য-প্রমাণ ছাড়া তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিতে প্রশাসন ও বিএনপির শীর্ষ নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

মোকাররম দাবি করেন, হামলার ঘটনায় আটক এক ব্যক্তি তার নাম উল্লেখ করেছেন বলে তিনি জেনেছেন। তবে ওই ব্যক্তির সঙ্গে তার কখনো দেখা হয়নি বা ফোনে কথাও হয়নি।

তিনি বলেন, ‘জাহাঙ্গীর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবং তিনি উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক। তাদের রাজনৈতিক অবস্থান ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনী এলাকা ভিন্ন হওয়ায় জাহাঙ্গীরের সঙ্গে তার কোনো রাজনৈতিক বিরোধ ছিল না।’

মোকাররম বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যদি কোনো তথ্য-প্রমাণ থাকে, তাহলে আইন অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া হোক। কিন্তু কোনো ব্যক্তির কথার ভিত্তিতে যেন আমার ওপর জুলুম করা না হয়।’

আত্মগোপনে থাকার বিষয়ে তিনি দাবি করেন, হত্যাকাণ্ডে তার নাম জড়ানোর কথা শোনার পর অযথা হয়রানির আশঙ্কায় তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।

অর্থ লেনদেনের অভিযোগও অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডে অর্থনৈতিকভাবে জড়িত থাকার অভিযোগ সত্য নয়। প্রশাসন চাইলে তার আর্থিক লেনদেন তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য বের করতে পারে।’

তিনি আরও দাবি করেন, প্রায় ২০ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন। কৃষক পরিবারের সন্তান হিসেবে নানা সময়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। এ বিষয়ে তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও দেশবাসীর কাছে দোয়া চান।

এদিকে জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় তার নাম আসার পর মোকাররম হোসেনকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে জেলা ছাত্রদল।

জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রাহাত ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠনের সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাফিউল ইসলাম বলেন, ‘জাহিদুল আলম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জনতার হাতে আটক হেলালের জবানবন্দিতে মোকাররমের নাম এসেছে। এছাড়া পুলিশের হাতে আটক তিন আসামি তার স্বজনদের বাড়িতে তিনদিন অবস্থান করেছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের পরও তিনি সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ না করে আত্মগোপনে থাকায় সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’

তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ জুলাই রাত সাড়ে ৯টার দিকে মিঠামইন সদর এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলমের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হামলার পর স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে বরগুনার বামনা উপজেলার চাকাতাসুনিয়া গ্রামের মো. হেলালকে (২৪) আটক করেন। পরে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। এরপর অভিযানে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার সুধামপুর গ্রামের মহিন উদ্দিন (৩২) এবং মধ্যপাড়া গ্রামের মো. শাহিন আলমকে (২৭) গ্রেফতার করে।

এ ঘটনায় নিহত জাহিদুল আলমের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার চৌধুরী বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয়ে আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে মিঠামইন থানায় হত্যা মামলা করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হত্যায় মুখ খুললেন ছাত্রদল নেতা মোকাররম

আপডেট সময় ০১:৪৬:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম ওরফে জাহাঙ্গীর (৫২) হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ছাত্রদলের বহিষ্কৃত নেতা মোকাররম হোসেন খোকা।

বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিও বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তথ্য-প্রমাণ ছাড়া তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিতে প্রশাসন ও বিএনপির শীর্ষ নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

মোকাররম দাবি করেন, হামলার ঘটনায় আটক এক ব্যক্তি তার নাম উল্লেখ করেছেন বলে তিনি জেনেছেন। তবে ওই ব্যক্তির সঙ্গে তার কখনো দেখা হয়নি বা ফোনে কথাও হয়নি।

তিনি বলেন, ‘জাহাঙ্গীর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবং তিনি উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক। তাদের রাজনৈতিক অবস্থান ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনী এলাকা ভিন্ন হওয়ায় জাহাঙ্গীরের সঙ্গে তার কোনো রাজনৈতিক বিরোধ ছিল না।’

মোকাররম বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যদি কোনো তথ্য-প্রমাণ থাকে, তাহলে আইন অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া হোক। কিন্তু কোনো ব্যক্তির কথার ভিত্তিতে যেন আমার ওপর জুলুম করা না হয়।’

আত্মগোপনে থাকার বিষয়ে তিনি দাবি করেন, হত্যাকাণ্ডে তার নাম জড়ানোর কথা শোনার পর অযথা হয়রানির আশঙ্কায় তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।

অর্থ লেনদেনের অভিযোগও অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডে অর্থনৈতিকভাবে জড়িত থাকার অভিযোগ সত্য নয়। প্রশাসন চাইলে তার আর্থিক লেনদেন তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য বের করতে পারে।’

তিনি আরও দাবি করেন, প্রায় ২০ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন। কৃষক পরিবারের সন্তান হিসেবে নানা সময়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। এ বিষয়ে তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও দেশবাসীর কাছে দোয়া চান।

এদিকে জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় তার নাম আসার পর মোকাররম হোসেনকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে জেলা ছাত্রদল।

জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রাহাত ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠনের সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাফিউল ইসলাম বলেন, ‘জাহিদুল আলম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জনতার হাতে আটক হেলালের জবানবন্দিতে মোকাররমের নাম এসেছে। এছাড়া পুলিশের হাতে আটক তিন আসামি তার স্বজনদের বাড়িতে তিনদিন অবস্থান করেছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের পরও তিনি সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ না করে আত্মগোপনে থাকায় সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’

তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ জুলাই রাত সাড়ে ৯টার দিকে মিঠামইন সদর এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলমের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হামলার পর স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে বরগুনার বামনা উপজেলার চাকাতাসুনিয়া গ্রামের মো. হেলালকে (২৪) আটক করেন। পরে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। এরপর অভিযানে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার সুধামপুর গ্রামের মহিন উদ্দিন (৩২) এবং মধ্যপাড়া গ্রামের মো. শাহিন আলমকে (২৭) গ্রেফতার করে।

এ ঘটনায় নিহত জাহিদুল আলমের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার চৌধুরী বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয়ে আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে মিঠামইন থানায় হত্যা মামলা করেন।