লোডশেডিং নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেয়ায় ছাত্রদলের মারধর, মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ
- আপডেট সময় ০৯:৩৭:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
- / ২৩ বার পড়া হয়েছে
বিদ্যুতের লোডশেডিং নিয়ে ফেইসবুকে লেখা শেয়ার করায় নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে এক তরুণকে তুলে নিয়ে মারধর ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে।
রোববার দুপুরে আড়াইহাজার বাজার এলাকায় থানার পাশে একটি ক্লাব ঘরে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান আড়াইহাজার থানার ওসি মো. সবজেল হোসেন।
ভুক্তভোগী ২২ বছরের তরুণ আরাফাত হোসেন (২২) উপজেলার বিশনন্দী ইউনিয়নের কড়ইতলার বেনু ফকিরের ছেলে। তিনি সরকারি সফর আলী কলেজের স্নাতকের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।
যার বিরুদ্ধে অভিযোগ সেই আতাউর রহমান সানি ছাত্রদলের আড়াইহাজার পৌরসভার সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক।
আরাফাতের চাচা শ্রমিক দলের বিশনন্দী ইউনিয়ন শাখার সহসভাপতি দাইয়ান ফকির বলেন, আড়াইহাজার থানার ভেতরে মোটরসাইকেল রেখে জিমে গিয়েছিলেন আরাফাত। পরে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হওয়ার পর তাকে ধরে পাশের ‘নজরুল ইসলাম আজাদ জনকল্যাণ পরিষদ’ নামে একটি ক্লাবের ভেতরে নিয়ে যায়।
এ ক্লাবের ভেতরে ছাত্রদলের নেতা সানির নেতৃত্বে তার অনুসারীরা আরাফাতকে মারধর করে। এবং তারা দুই দফায় মুক্তিপণ হিসেবে বিকাশের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা নেয় বলেও অভিযোগ করেন দাইয়ান।
“আমার ভাতিজা লোডশেডিং নিয়া একটা পোস্ট শেয়ার করছে। এজন্য তারে ছাত্রলীগ বইলা মারধর করছে। কিন্তু আমি নিজে রাজনীতি করি শ্রমিক দলের। আমার বড়ভাইও (আরাফাতের বাবা) বিএনপি করেন। আমার ভাতিজাকে মারধর কইরা ‘ও ছাত্রলীগ করে, বাবুর (সাবেক সংসদ সদস্য) লোক’ বলে জোরপূর্বক একটা ভিডিও করছে মোবাইলে।”
মুক্তিপণ পেয়ে আরাফাতকে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ছাড়া হয় বলে জানান দাইয়ান ফকির। পরে আরাফাতকে নিয়ে থানায় গিয়ে মৌখিক অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা।
আরাফাতকে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তারা।
আড়াইহাজার থানার ওসি সবজেল হোসেন বলেন, “অভিযোগ পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। ক্লাবের ভেতরে আটকে রেখে ছেলেটিকে মারধর করা হয়েছে। মুক্তিপণ আদায়ের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী পরিবারকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ করলে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে, বিষয়টি পুলিশে জানানোর পর থেকে ছাত্রদলের নেতার পক্ষে ‘অনেকে ভয় দেখাচ্ছেন’ বলে মোবাইল ফোনে অভিযোগ করেন দাইয়ান ফকির।
এ বিষয়ে জানতে ছাত্রদল নেতা আতাউর রহমান সানির মোবাইলে ফোন করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে, আড়াইহাজার উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্যসচিব মোবারক হোসেন বলেন, “আরাফাত নামে ছেলেটিকে মারধর করার খবর পেয়েছি। ছাত্রদলের সানিকেও আমি চিনি। আমি আড়াইহাজার ছিলাম না। আমাকে ফোনে জানানো হইছে।
“অপরাধমূলক কোনো কর্মকাণ্ড করলে সে ছাত্রদল কিংবা যেই হোক, তাদের বিরুদ্ধে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নিবে প্রশাসন। বিষয়টি তদন্ত করে সাংগঠনিকভাবেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে, আরাফাত হোসেন নামে তরুণ বিদ্যুৎ বিভ্রাটসহ নানা বিষয় নিয়ে বিএনপি সরকার ও প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে ফেইসবুকে লেখা ও ভিডিও শেয়ার করেছেন বলেও অভিযোগ করেন মোবারক।



















