ডাকসুর কার্যক্রম ও জবাবদিহি প্রতিবেদন তুলে ধরলেন ভিপি-জিএস, অনেক উদ্যোগ আটকে দেওয়ার অভিযোগ
- আপডেট সময় ০৩:৪৭:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৭ বার পড়া হয়েছে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) এক বছর মেয়াদ পূর্তি উপলক্ষে কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন নির্বাচিত নেতারা। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ডাকসু ভবনের সামনে এক অনুষ্ঠানে ডাকসু সহসভাপতি (ভিপি) আবু সাদিক কায়েম কার্যক্রম ও জবাবদিহি প্রতিবেদন তুলে ধরেন। এ সময় ইশতেহার অনুযায়ী অনেক কাজ সম্পন্ন করেছেন বলে জানান তিনি। তবে প্রশাসন ও সরকারের অসহযোগিতায় অনেক কাজ আটকে আছে বলেও তিনি জানান।
অনুষ্ঠানে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদও প্রতিবেদনের কিছু অংশ তুলে ধরেন। ডাকসুর অন্য নেতারাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। সাদিক কায়েম বলেন, দায়িত্ব পালনকালে তারা পরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও সেবার পরিসর বৃদ্ধি করেছেন। পাঁচটি নতুন হল ও ১০ ভবন নির্মাণ, শাটল চালু, মেডিকেল সেন্টার ও সেন্ট্রাল মসজিদের আধুনিকায়ন করেছেন।
উচ্চ শিক্ষা ও স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের পাশাপাশি ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের মতো কার্যক্রম চালিয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, এক বছরে ৪০০-এর অধিক শিক্ষার্থীকে আইনি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। হলে হলে ছারপোকা নিধন, মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি চালানোয় শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের কষ্ট অনেকটা কমেছে। হল সংস্কারের বাজেটও আদায় করা হয়েছে।
১৩টি হলের রিডিংরুমে এসি স্থাপন ও আধুনিকায়ন করা হয়েছে উল্লেখ করে সাদিক কায়েম বলেন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে ডাকসু নির্বাচনকে অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডারের অংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং বাস্তবায়নের অপেক্ষায় আছে। মাতৃত্বকালীন ছুটি, ডে কেয়ার, জিমনেসিয়াম স্থাপন করা হয়েছে। ব্রেস্টফিডিং রুম ও ডে কেয়ারের বাজেট আনা হয়েছে। ছাত্রী হলের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
যৌন হয়রানি ও সাইবার বুলিং প্রতিরোধের বিষয়ে তিনি বলেন, যৌন হয়রানি ও সাইবার বুলিং প্রতিরোধে সরকারি পদক্ষেপ ও সামাজিক প্রতিরোধের পরিবেশ তৈরির দাবি জানিয়ে করণীয় প্রস্তাব করা হয়েছে ডিএমপি কমিশনারের কাছে। যৌন হয়রানি ও সাইবার বুলিংয়ের শিকার শতাধিক শিক্ষার্থীকে সরাসরি আইনি সহায়তার পাশাপাশি কমিটি গঠনসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কমনরুম আধুনিকায়ন ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়েছে। গবেষণা ও উচ্চশিক্ষায় উদ্বুদ্ধকরণ এবং সহযোগিতামূলক কার্যক্রম নিয়েছে ডাকসু। মেডিকেল সেন্টার আধুনিকীকরণ ও মানসিক স্বাস্থ্যসহ স্বাস্থ্যসেবায় পরিচালিত কার্যক্রমের বিস্তারিতও তুলে ধরেন তিনি।
বিষয়ভিত্তিক সাহিত্য, সাময়িকী ও বই প্রকাশ করা হয়েছে জানিয়ে ডাকসু নেতারা বলেন, ক্যাম্পাসে চলা বিভিন্ন বাহনের চালকের তালিকা, পোশাক ও ভাড়ার চার্ট তৈরি; ৮টি গেটে ট্রাফিক সহায়তার জন্য ডিএমপির সঙ্গে সমন্বয়ের প্রস্তাব করা হয়। তবে সরকার বদলের পর প্রকল্প স্থগিত আছে। সুফিয়া কামাল হলের ঝুঁকিপূর্ণ ফুটওভার ব্রিজ ও একটি যাত্রীছাউনি অপসারণ, অন্যটি সংস্কারসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বহিরাগত নিয়ন্ত্রিত ক্যাম্পাস বাস্তবায়নের চেষ্টার কথাও জানান।

তারা আরও বলেন, শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্রের আধুনিকায়ন ও ক্রীড়া ইভেন্ট আয়োজন করেছে ডাকসু। স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং ক্যাফেটেরিয়া ও ক্যান্টিনের মান বৃদ্ধির প্রচেষ্টা অব্যাহত ছিল। টিএসসিতে স্বল্পমূল্যে ভালো খাবারের ব্যবস্থা করা গেলেও স্বল্পমূল্যে টিসিবির পণ্য বিক্রিসহ কয়েকটি উদ্যোগ আটকে আছে কিংবা বাস্তবায়নের অপেক্ষায়। পরিবেশ ও প্রতিবেশের সংরক্ষণ এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে গ্রিন ক্যাম্পাস নিশ্চিতে ডাস্টবিন স্থাপনসহ কয়েকটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালুর বিষয়ে তারা বলেন, এসএমটি ও অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে পাশের পর সিন্ডিকেটে উত্থাপিত হয়েছে। তবে নিয়মিত দাবির পরও প্রশাসনের গড়িমসিতে এখনো বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ করে তারা আরও বলেন, প্রশাসনের অপেক্ষা না করে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে ডাকসুর নিজস্ব উদ্যোগে সাইট চালু করা হয়েছে।
রেজিস্ট্রার বিল্ডিংয়ের সেবা সহজীকরণে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানিয়ে ডাকসু নেতারা বলেন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকর্মী ও ফ্যাসিবাদের দোসর শিক্ষকদের বিচার নিশ্চিতের উদ্যোগ নিয়েছে ডাকসু। ডাকসুর দ্বিতীয় কার্যনির্বাহী সভায় শেখ হাসিনার আজীবন সদস্যপদের এখতিয়ারবহির্ভূত রেজুলেশন বাতিল করা হয়। ১৭ জুলাই হামলায় জড়িত নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মী; ব্যানার টাঙানোর ঘটনায় প্রক্টর অফিস ঘেরাও করা হয়েছে। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকর্মী ও ফ্যাসিবাদের দোসর শিক্ষকদের বিচার নিশ্চিতের চেষ্টার কথাও জানান।
কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি সম্প্রসারণ ও লাইব্রেরিসমূহে সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন তারা। তাদের ভাষ্য, বিভিন্ন সেবামূলক উদ্যোগে অ্যালামনাইদের যুক্ত করা হয়েছে। মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়সমূহ সংস্কার করা হয়েছে। মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করেছে ডাকসু। ফার্স্ট এইড বুট ক্যাম্পে হলের সিকবয়সহ কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মাধ্যমে সুযোগ সহজলভ্যকরণ করা হয়েছে।
আরও খবর: প্রশাসনের অসহযোগিতায় আটকে আছে জিমনেসিয়াম-৬ আইটি প্রকল্প-মাঠ সংস্কার-খাবার মানোন্নয়নসহ ৩৩ উদ্যোগ’
জুলাই বিপ্লব বার্ষিকী উপলক্ষে ডাকসু আয়োজিত অনুষ্ঠানমালার কথা তুলে ধরেন নেতারা। তারা জানান, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ডাকসুর নিজেদের দৃড় অবস্থান তুলে ধরেছে। হল সংসদসমূহ এবং ক্রিয়াশীল সামাজিক সংগঠনসমূহের কার্যক্রম সমন্বয় করেছে ডাকসু। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে ডাকসুর আবেদনের পর যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ঐতিহাসিক মুঘল স্থাপনাটির সংস্কারে বাজেট বরাদ্দের পাশাপাশি ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে নানা উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন তারা।
রাষ্ট্রদূত এবং ইন্টারন্যাশনাল ডেলিগেশনসমূহের সঙ্গে ডাকসুর সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়ের কথাও তুলে ধরেন তারা। ডাকসু নেতারা বলেন, জনঘনিষ্ঠ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশে নিয়ে ডাকসুর বিভিন্ন কার্যক্রম ছিল। জাতীয় দিবসসহ গুরুত্বপূর্ণ দিবস উদ্যাপন করেছে ডাকসু।
সিনেট অধিবেশনে ডাকসুর প্রতিনিধিত্ব ছিল জানিয়ে তারা বলেন, ফ্যাসিবাদের আইকনদের নাম বিভিন্ন স্থাপনা থেকে না সরানোর প্রতিবাদে ডাকসু নেতৃবৃন্দ সিনেট অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন। ডাকসুর সব সদস্য এবং সব হল সংসদের সদস্যরা একসঙ্গে বসে নিজেদের কাজের বিবরণ তুলে ধরেছেন — এক বছরে দুবার।
ক্যাম্পাসের অস্থিতিশীলতার কারণে একটি দিনের জন্যও ক্লাস বা পরীক্ষা স্থগিত করতে হয়নি জানিয়ে তারা বলেন, এ সময়ে ডাকসু ভবনও সংস্কার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বাধার মুখে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ডাকসুর গৃহীত কাজ আটকে আছে বলেও তারা অভিযোগ করেনে।
ডাকসু নেতারা বলেন, সব হলে কম্পিউটার ল্যাব, এআই-প্রোগ্রামিং প্রশিক্ষণ, ইন্টার্নশিপ, সার্টিফিকেশন সহায়তা, ইনোভেশন হাব ও জব ফেয়ার আটকে আছে। মাঠ সংস্কার প্রকল্প ও ডিজিটাল সার্ভের কাজ নানা অজুহাতে বন্ধ রাখা হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ ও ডিএসসিসির ৫ প্রকল্প: এ এফ রহমান হলের প্রবেশদ্বার, ডাকসু ক্যাফেটেরিয়া সংস্কার, পুকুরপাড় বাঁধাই, ওয়াকওয়ে, লাইটিং ও সৌন্দর্যবর্ধন আটেক আছে। রেজিস্টার্ড রিকশা, পুলিশ কর্মকর্তা নিয়োগ এবং পুরোনো যানবাহন নিলামে দিয়ে ২টি মিনিবাস ও ২টি মাইক্রোবাস কেনা— অনুমোদনের পরও আটকে রয়েছে। রাজনৈতিক সরকার কর্তৃক ডাকসুর উদ্যোগ হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ডাকসুর ভিপি-জিএস।


















