ছিনতাইয়ের নগরী ঢাকা? ১৪০০ ছিনতাইকারীর ৪০০ হটস্পট
- আপডেট সময় ০২:৪৪:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ২৫ বার পড়া হয়েছে
রাজধানী ঢাকার নতুন মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ছিনতাই। একেবারে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ছিনতাইকারীদের বিভিন্ন চক্র। এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের তৎপরতার কমতি নেই বলা হলেও, কমছে না ছিনতাই। বরং বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
ডিএমপির তথ্য বলছে, ঢাকার তালিকাভুক্ত ছিনতাইকারীর সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৪০০। ৫০টি থানায় ছিনতাইয়ের হটস্পট রয়েছে অন্তত ৪০০। সবচেয়ে বেশি তালিকাভুক্ত ছিনতাইকারী রয়েছে ওয়ারী এলাকায়। আর ছিনতাইয়ের ঘটনা বেশি সক্রিয় তেজগাঁও ও উত্তরায়।
সম্প্রতি জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইয়ের ঘটনায় বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলার বাগবারী বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রনজিনা পারভীন প্রাণ হারান। ২৯ আগস্ট সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তিনি চিকিৎসার উদ্দেশ্যে স্বামীর সঙ্গে গাবতলী থেকে রিকশাযোগে রাজধানীর ফার্মগেট এলাকার ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে যাচ্ছিলেন। রিকশাটি জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে আসলে একটি মোটরসাইকেলে থাকা দুই ছিনতাইকারী পেছন থেকে রনজিনা পারভীনের ব্যাগ ধরে টান দেয়। এতে তিনি রিকশা থেকে ছিটকে নিচে পড়ে মাথায় আঘাত পান। পরে তাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
সংসদ ভবনের যে সড়কে ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে প্রাণ হারান শিক্ষিকা রনজিলা পারভিন, সেই সড়কের ট্রাফিক বক্সের সামনে দু-একজন পুলিশ সদস্যের দেখা মিললেও আশপাশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তেমন উপস্থিতি দেখা যায়নি।
এর আগে, ১৮ আগস্ট রাজধানীর চাঁদ উদ্যানের এক নম্বর সড়কে ব্যবসায়ী আবুল হোসেনকে হঠাৎ ঘিরে ধরেন মোটরসাইকেলে থাকা তিন যুবক। কিছু বুঝে ওঠার আগেই চাপাতি দিয়ে আঘাত করে তার কাছ থেকে ৯৮ লাখ টাকা ও মোটরসাইকেলটি ছিনিয়ে নেয় তারা।
রাজধানীতে এসব ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলার পাশাপাশি গ্রেপ্তারও করা হচ্ছে অপরাধীদের। কিন্তু কোনোভাবেই লাগাম টানা যাচ্ছে না। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
একজন ভুক্তভোগী বলেন, প্রতিনিয়তই ছিনতাই হচ্ছে। এখন মনে হয়, আমরা জিম্মি হয়ে আছি। আরেকজন বলেন, আমি সারাক্ষণ ভয়ভীতির মধ্যে থাকি।
ডিএমপি ডিসি মো. আকতার হোসেন বলেন, রাতে কোথায় কোথায় চেকপোস্ট হবে বা কোথায় কোথায় মোবাইল পার্টি থাকবে, তা তদারকির জন্য আমাদের এসি, এডিসি ও ডিসিরা মাঠপর্যায়ে থাকেন। তারা কোনো ব্যত্যয় দেখলে সেই বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেন।
অপরাধ বিশ্লেষকের মতে, ছিনতাই কমাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর থাকলেও জামিন সিন্ডিকেটের কারণে তা কমানো যাচ্ছে না।
অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, যারা অর্থ দিতে পারেন না, তাদেরকে বাকিতে বের করে আনা হয়। এসব অপরাধী বের হয়ে আবার নানা ধরনের অপরাধ করে। এই যে চক্র এদেরকে কারা জামিনে বের করে আনেন এবং তাদের অর্থ পরিশোধ করেন, সেটিও দেখতে হবে।
রাতে ছিনতাইসহ নানা অপরাধ বেশি সংঘটিত হওয়ায় সাধারণ মানুষকে সচেতন ও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন অপরাধ বিশ্লেষক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।



















