ঢাকা ০৩:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নোয়াখালীতে পাবলিক টয়লেট দখল করে বিএনপির কার্যালয়

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০১:৪৪:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৮ বার পড়া হয়েছে

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবিলী ইউনিয়নের ১০নং দীঘি বাজারে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে সরকারি অর্থায়নে নির্মিত জনসাধারণের ব্যবহারের দুই কক্ষের টয়লেট ভেঙে বিএনপির দলীয় কার্যালয় নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, টয়লেটটি ভেঙে দুটি ঘর নির্মাণ করে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে। এতে বাজারে আসা সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা শৌচাগার ব্যবহারে ভোগান্তিতে পড়েছেন। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, নোয়াখালী ৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শাহজাহানের ছবিযুক্ত সাইনবোর্ডসহ ঘরটি তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখা যায়। দুটি ঘরই দলীয় কার্যালয় বোঝানোর জন্য সাইনবোর্ডটি দুই ঘরের মাঝে স্থাপন করা হয়।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, টয়লেটটি ভেঙে ফেলায় বাজারে আগত মানুষ শৌচাগার ব্যবহারে ভোগান্তিতে পড়েছেন। তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে সরকারি স্থাপনা ভেঙে জায়গাটি দখলের চেষ্টা করা হয়েছে। সরকারি খাস জায়গায় জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য নির্মিত স্থাপনা ভেঙে রাজনৈতিক কার্যালয় স্থাপনের ঘটনাকে তারা নিন্দনীয় ও দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার খবর পেয়ে কথিত দখলকারীদের কয়েকজন আড়ালে থাকলেও তাদের বিএনপি সমর্থিত লোকজন সেখানে জড়ো হন। তারা ঘটনাটি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলা ও বিষয়টি প্রকাশ্যে আসা ঠেকানোর চেষ্টা করেন। এমনকি সাংবাদিকদের কাছে কে বিষয়টি জানিয়েছেন, তা জানতে স্থানীয় কয়েকজনকে চাপ ও শাসানো হয়েছে বলেও দাবি তাদের।

এ ঘটনায় বিএনপির ৫নং ওয়ার্ডের সাবেক কমিটির সহসভাপতি মো. কামাল ও বিএনপি নেতা মো. রাজিবের নাম স্থানীয়দের অভিযোগে উঠে এসেছে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে অভিযোগের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো মতামত দেননি।

তাদের ঘনিষ্ঠজনরা বলেন, ‘কামাল টয়লেটটি প্রথমে ভেঙে ফেলেন। তাকে ভাঙার খরচ দিয়ে সেখানে রাজিব দুটি ঘর তুলেন। পরে সেই ঘরে দলীয় কার্যালয়ের সাইনবোর্ড টাঙানোর বিষয়টি প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে পরে স্বীকার করেন। তবে এখানে দলীয় কার্যক্রম এখনো করা হয়নি বলে তারা দাবি করেন।’

জায়গাটির দখল নিয়েও স্থানীয়দের মতামতের ভিন্নতা রয়েছে। ব্যবসায়ী নেছার সেখানে দীর্ঘদিন শাকসবজি চাষ করে আসছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ জানান, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর সরকারি খাস জায়গাটি বিভিন্ন ব্যক্তি নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

এ বিষয়ে চরজুবিলী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন উল্টো সাংবাদিককে প্রশ্ন করেন, পূর্বের ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের সময় উক্ত জায়গায় টয়লেটটি নির্মাণের সময় সংবাদ করা হয়নি, এখন ভাঙার বিষয়টি কেন সংবাদ করা হচ্ছে? দলীয় কার্যালয় বানানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি নিশ্চিতভাবে খবর নেবেন বলে ফোনকল রেখে দেন।

স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতা বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “দলের নাম ব্যবহার করে সরকারি জায়গা দখল বা জনসাধারণের সুবিধা নষ্ট করলে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী সরকারি টয়লেট ভাঙার বিষয়টি তদন্ত করে সরকারি সম্পত্তি রক্ষা, জনসাধারণের সুবিধা ফিরিয়ে দেওয়া এবং দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।”

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

নোয়াখালীতে পাবলিক টয়লেট দখল করে বিএনপির কার্যালয়

আপডেট সময় ০১:৪৪:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবিলী ইউনিয়নের ১০নং দীঘি বাজারে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে সরকারি অর্থায়নে নির্মিত জনসাধারণের ব্যবহারের দুই কক্ষের টয়লেট ভেঙে বিএনপির দলীয় কার্যালয় নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, টয়লেটটি ভেঙে দুটি ঘর নির্মাণ করে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে। এতে বাজারে আসা সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা শৌচাগার ব্যবহারে ভোগান্তিতে পড়েছেন। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, নোয়াখালী ৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শাহজাহানের ছবিযুক্ত সাইনবোর্ডসহ ঘরটি তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখা যায়। দুটি ঘরই দলীয় কার্যালয় বোঝানোর জন্য সাইনবোর্ডটি দুই ঘরের মাঝে স্থাপন করা হয়।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, টয়লেটটি ভেঙে ফেলায় বাজারে আগত মানুষ শৌচাগার ব্যবহারে ভোগান্তিতে পড়েছেন। তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে সরকারি স্থাপনা ভেঙে জায়গাটি দখলের চেষ্টা করা হয়েছে। সরকারি খাস জায়গায় জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য নির্মিত স্থাপনা ভেঙে রাজনৈতিক কার্যালয় স্থাপনের ঘটনাকে তারা নিন্দনীয় ও দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার খবর পেয়ে কথিত দখলকারীদের কয়েকজন আড়ালে থাকলেও তাদের বিএনপি সমর্থিত লোকজন সেখানে জড়ো হন। তারা ঘটনাটি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলা ও বিষয়টি প্রকাশ্যে আসা ঠেকানোর চেষ্টা করেন। এমনকি সাংবাদিকদের কাছে কে বিষয়টি জানিয়েছেন, তা জানতে স্থানীয় কয়েকজনকে চাপ ও শাসানো হয়েছে বলেও দাবি তাদের।

এ ঘটনায় বিএনপির ৫নং ওয়ার্ডের সাবেক কমিটির সহসভাপতি মো. কামাল ও বিএনপি নেতা মো. রাজিবের নাম স্থানীয়দের অভিযোগে উঠে এসেছে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে অভিযোগের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো মতামত দেননি।

তাদের ঘনিষ্ঠজনরা বলেন, ‘কামাল টয়লেটটি প্রথমে ভেঙে ফেলেন। তাকে ভাঙার খরচ দিয়ে সেখানে রাজিব দুটি ঘর তুলেন। পরে সেই ঘরে দলীয় কার্যালয়ের সাইনবোর্ড টাঙানোর বিষয়টি প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে পরে স্বীকার করেন। তবে এখানে দলীয় কার্যক্রম এখনো করা হয়নি বলে তারা দাবি করেন।’

জায়গাটির দখল নিয়েও স্থানীয়দের মতামতের ভিন্নতা রয়েছে। ব্যবসায়ী নেছার সেখানে দীর্ঘদিন শাকসবজি চাষ করে আসছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ জানান, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর সরকারি খাস জায়গাটি বিভিন্ন ব্যক্তি নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

এ বিষয়ে চরজুবিলী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন উল্টো সাংবাদিককে প্রশ্ন করেন, পূর্বের ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের সময় উক্ত জায়গায় টয়লেটটি নির্মাণের সময় সংবাদ করা হয়নি, এখন ভাঙার বিষয়টি কেন সংবাদ করা হচ্ছে? দলীয় কার্যালয় বানানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি নিশ্চিতভাবে খবর নেবেন বলে ফোনকল রেখে দেন।

স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতা বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “দলের নাম ব্যবহার করে সরকারি জায়গা দখল বা জনসাধারণের সুবিধা নষ্ট করলে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী সরকারি টয়লেট ভাঙার বিষয়টি তদন্ত করে সরকারি সম্পত্তি রক্ষা, জনসাধারণের সুবিধা ফিরিয়ে দেওয়া এবং দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।”