ঢাকা ০২:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাঁদা না দেয়ায় প্রবাসীর মৎস্য প্রকল্পে বিষ দিয়ে মাছ নিধনের অভিযোগে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ১০:৫৯:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২৯ বার পড়া হয়েছে

রাজবাড়ীর পাংশায় জমি নিয়ে বিরোধ ও চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে সিঙ্গাপুরপ্রবাসী এক ব্যক্তির মৎস্য প্রকল্পে ভাঙচুর, কলাগাছ কেটে নেওয়া এবং পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে যশাই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কালাম মন্ডলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) গভীর রাতে পাংশা উপজেলার যশাই ইউনিয়নের নিভাকেষ্টপুর গ্রামের সিঙ্গাপুরপ্রবাসী আসাদ মন্ডলের মৎস্য প্রকল্পের একটি পুকুরে বিষ প্রয়োগ করা হয়। এতে পুকুরে থাকা প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা মূল্যের মাছ মারা গেছে বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

আসাদ মন্ডল জানান, প্রায় ১৬ থেকে ১৭ বছর সিঙ্গাপুরে শ্রম দিয়ে উপার্জন করা অর্থ দেশে এনে তিনি একটি মৎস্য প্রকল্প গড়ে তোলেন। সম্প্রতি যশাই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান প্রামাণিক ও সাধারণ সম্পাদক কালাম মন্ডল তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তার ভাষ্য, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালে বহিরাগত লোকজন নিয়ে তার মৎস্য প্রকল্পে প্রবেশ করে সীমানাপ্রাচীর ও তারকাঁটার বেড়া ভাঙচুর করা হয়। এ সময় পুকুরপাড়ের প্রায় ৫০ কাঁদি কলাগাছও কেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ঘটনার পর পুলিশকে খবর দিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তবে প্রকল্প থেকে চলে যাওয়ার সময় হামলাকারীরা তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করেন আসাদ মন্ডল।

পরে মঙ্গলবার রাতের কোনো একসময় পুকুরে বিষ প্রয়োগ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। বুধবার সকালে পুকুরে বিপুলসংখ্যক মাছ মরে ভেসে উঠতে দেখা যায় বলে জানান ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

আসাদ মন্ডলের চাচাতো ভাই রফিক মন্ডল অভিযোগ করেন, যশাই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান প্রামাণিক ও সাধারণ সম্পাদক কালাম মন্ডল লোকজন নিয়ে এবং অস্ত্রসহ তার ভাইয়ের মৎস্য প্রকল্পে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালান। পরে বাড়িতেও গিয়ে হুমকি দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি। পরদিন সকালে পুকুরে মাছ মরে ভেসে থাকতে দেখা যায়।

আসাদ মন্ডলের বাবা মোহাম্মদ আলী মন্ডল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কালাম মন্ডল তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছেন। বিভিন্ন সময়ে চাঁদা দাবির অভিযোগও করেন তিনি। তার দুই ছেলে প্রবাসে থাকেন জানিয়ে তিনি বলেন, “মঙ্গলবারও এসে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মাছ মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।”

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, ঘটনার সঙ্গে যে বা যারাই জড়িত থাকুক, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করা জরুরি।

পাংশা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় কুমার ঘোষ বলেন, “পুকুরের চারপাশের তারকাঁটার বেড়া ও সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর করা হয়েছে। একই দিন রাতে ওই পুকুরের মাছও নিধন করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পেয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ এবং প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে কালাম মন্ডলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

চাঁদা না দেয়ায় প্রবাসীর মৎস্য প্রকল্পে বিষ দিয়ে মাছ নিধনের অভিযোগে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

আপডেট সময় ১০:৫৯:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

রাজবাড়ীর পাংশায় জমি নিয়ে বিরোধ ও চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে সিঙ্গাপুরপ্রবাসী এক ব্যক্তির মৎস্য প্রকল্পে ভাঙচুর, কলাগাছ কেটে নেওয়া এবং পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে যশাই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কালাম মন্ডলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) গভীর রাতে পাংশা উপজেলার যশাই ইউনিয়নের নিভাকেষ্টপুর গ্রামের সিঙ্গাপুরপ্রবাসী আসাদ মন্ডলের মৎস্য প্রকল্পের একটি পুকুরে বিষ প্রয়োগ করা হয়। এতে পুকুরে থাকা প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা মূল্যের মাছ মারা গেছে বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

আসাদ মন্ডল জানান, প্রায় ১৬ থেকে ১৭ বছর সিঙ্গাপুরে শ্রম দিয়ে উপার্জন করা অর্থ দেশে এনে তিনি একটি মৎস্য প্রকল্প গড়ে তোলেন। সম্প্রতি যশাই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান প্রামাণিক ও সাধারণ সম্পাদক কালাম মন্ডল তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তার ভাষ্য, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালে বহিরাগত লোকজন নিয়ে তার মৎস্য প্রকল্পে প্রবেশ করে সীমানাপ্রাচীর ও তারকাঁটার বেড়া ভাঙচুর করা হয়। এ সময় পুকুরপাড়ের প্রায় ৫০ কাঁদি কলাগাছও কেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ঘটনার পর পুলিশকে খবর দিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তবে প্রকল্প থেকে চলে যাওয়ার সময় হামলাকারীরা তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করেন আসাদ মন্ডল।

পরে মঙ্গলবার রাতের কোনো একসময় পুকুরে বিষ প্রয়োগ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। বুধবার সকালে পুকুরে বিপুলসংখ্যক মাছ মরে ভেসে উঠতে দেখা যায় বলে জানান ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

আসাদ মন্ডলের চাচাতো ভাই রফিক মন্ডল অভিযোগ করেন, যশাই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান প্রামাণিক ও সাধারণ সম্পাদক কালাম মন্ডল লোকজন নিয়ে এবং অস্ত্রসহ তার ভাইয়ের মৎস্য প্রকল্পে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালান। পরে বাড়িতেও গিয়ে হুমকি দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি। পরদিন সকালে পুকুরে মাছ মরে ভেসে থাকতে দেখা যায়।

আসাদ মন্ডলের বাবা মোহাম্মদ আলী মন্ডল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কালাম মন্ডল তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছেন। বিভিন্ন সময়ে চাঁদা দাবির অভিযোগও করেন তিনি। তার দুই ছেলে প্রবাসে থাকেন জানিয়ে তিনি বলেন, “মঙ্গলবারও এসে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মাছ মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।”

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, ঘটনার সঙ্গে যে বা যারাই জড়িত থাকুক, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করা জরুরি।

পাংশা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় কুমার ঘোষ বলেন, “পুকুরের চারপাশের তারকাঁটার বেড়া ও সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর করা হয়েছে। একই দিন রাতে ওই পুকুরের মাছও নিধন করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পেয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ এবং প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে কালাম মন্ডলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।”