সার সংকটে বোরো ফসল নিয়ে শঙ্কা, কৃষকদের হয়রানি
- আপডেট সময় ০৬:৩৮:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
- / ৩৩ বার পড়া হয়েছে
নাটোরের সিংড়া উপজেলার শেরকোল শাহী বাজারের মেসার্স সাফী এন্টারপ্রাইজ। বুধবার সকালে প্রতিষ্ঠানটির সামনে গিয়ে দেখা যায় নারী-পুরুষসহ শতাধিক কৃষক সার নিতে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। তখনো ওই দোকানের শাটারে তালা লাগানো। প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারি রাণীনগর গ্রামের বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান। তার ভাড়াটে দু-একজন লোক কৃষকদের সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক ও খারাপ আচরণ করছে। ওই লাইনের প্রথমে দাঁড়ানো চকপুর গ্রামের কৃষাণী শামসুন নাহার বেওয়া।
তিনি বলেন, আমি প্রায় ৪০ বিঘা জমিতে রবিশস্য ও বোরো ধান চাষ করি। আমার স্বামী-সন্তান কেউ নেই। সারের প্রয়োজনে বাধ্য হয়েই লাইনে দাঁড়িয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত সার পাইনি। মনে হচ্ছে না সার পাব। হয়তো খালি হাতেই বাড়ি ফিরতে হবে।’
খরমকুড়ি গ্রামের দুই কৃষক জাহেদুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে নানা অবান্তর কথা ও গালি শুনতে হয়েছে ওই ডিলারের ছেলের মুখে। সারা দিন খাওয়া-দাওয়া নেই। পাঁচশ টাকায় একটি ভ্যানগাড়িও গ্রাম থেকে ভাড়ায় এনেছিলেন। পরে সন্ধ্যায় চার বস্তা সারের দাম জমা নিয়ে দুই বস্তা সার পেয়েছি। কিন্তু টাকা জমা কিংবা ফেরতের কোনো রসিদ দেওয়া হয়নি।
বুধবার আবার সকালে জমা রাখা টাকার সার নিতে এসেছি। ডিলারের ছেলে ও তাদের লোকজন খারাপ ব্যবহার করছে। এই হয়রানি যেন দেখার কেউ নেই।’ তবে ডিলার মিজানুর রহমান কৃষকদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে একই ঘটনা দেখা গেছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, সার ডিলার আবদুর রাজ্জাক বেশ কিছুদিন ধরে সার সংকটের অজুহাত দিয়ে আসছিলেন। একপর্যায়ে কৃষকদের সার দেওয়ার কথা জানালে সেই আশ্বাসের ভিত্তিতে বুধবার সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকরা দোকানের সামনে জড়ো হন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে কৃষকের সংখ্যা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে শত শত কৃষকের সমাগম দেখে আতঙ্কিত হয়ে ডিলার সার বিক্রি বন্ধ করে পুলিশে খবর দেন। এতে অপেক্ষমাণ কৃষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কিছু কৃষক সারের গোডাউনে প্রবেশের চেষ্টা করেন।
সিংড়ায় রবি-বোরো মৌসুম সামনে রেখে সার পেতে কৃষকদের মাঝে হাহাকার দেখা দিয়েছে। এক বস্তা সারের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে অনেক কৃষককে। অভিযোগ উঠেছে, ডিলারদের ভাড়াটে লোকজন কৃষকদের হয়রানি করছে। তারা গালাগালিসহ নানা খারাপ কথা বলছে। টিএসপি সারের চাহিদা বেশি থাকায় না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে ডিএপি সার নিতে গেলে ইউরিয়া সার নিতে বাধ্য করা হচ্ছে।
সিধাখালী গ্রামের কৃষক জিয়াউর রহমান জিয়া অভিযোগ করেন, তাকে সার দেওয়া হয়নি। অথচ সার দেওয়া হয়েছে বলে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
ভাগনাগরকান্দি গ্রামের কৃষক আবুল বাসার বলেন, জমিতে এখন সরিষা, ভুট্টা ও আলু লাগানোর উপযোগী সময় হয়ে গেছে। কিন্তু ওই ডিলারের কাছে দুদিন ঘুরেও সার পাননি তিনি। তাছাড়া তাদের ব্যবহারও খুব খারাপ।
দৌলতপুর উপজেলার কলিয়া ইউনিয়নে সারের জন্য চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকরা। সেখানে আবদুর রাজ্জাক ডিলারের দোকানের সামনে উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হলে পুলিশ আসে। দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রবীর বিশ্বাস ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. লুৎফে আল মুঈজকেও দেখা যায়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, ডিলার ৭০৬ বস্তা সার বরাদ্দ পেয়েছেন। বিভিন্ন ধরনের সার বিতরণের সময় কয়েকশ কৃষক হুমড়ি খেয়ে পড়ে। একপর্যায়ে কৃষকরা গোডাউনের দরজা-জানালা ভেঙে ফেলার চেষ্টা করলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে গ্রাম পুলিশ দিয়ে কৃষকদের মাঝে সার বিতরণ করা হয়।





















