ঢাকা ০১:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজধানীতে প্রতি রুটে চলবে নির্দিষ্ট এক কোম্পানির বাস

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ১১:৫৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২৪ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা আনার মাধ্যমে যানজট কমাতে ছয় মাসের মধ্যে বাস রুট রেশনালাইজেশন বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ পদ্ধতিতে একটি রুটে একাধিক নয়; মাত্র একটি কোম্পানির ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক বাস চলবে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে ঢাকা মহানগরের গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি এ নির্দেশ দেন।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, আগামী দুই মাসে বাস স্টপেজ নির্ধারণ, লক্কড়ঝক্কড় বাস মেরামত এবং চালকদের মাসিক বেতনের ভিত্তিতে নিয়োগ করা হবে। এই সময়ে কয়েকটি রুট চালু করা হবে। এরই মধ্যে ঢাকাকে ৩২টি রুটে বিভক্ত করে সবকটিতে ছয় মাসের মধ্যে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক বাস চালু করা হবে। এ পদ্ধতিতে কাউন্টারভিত্তিক যাত্রীসেবা, ই-টিকেটিং ও জিপিএস ট্র্যাকিং থাকবে।

এ ছাড়া পৃথক এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী দুই মাসের মধ্যে সারাদেশে কমপক্ষে এক হাজার খেলার মাঠ করতে বলেছেন তিনি। ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দুই থেকে তিনটি ওয়ার্ডের জন্য অন্তত একটি খেলার মাঠ নিশ্চিত করারও নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

রাজধানীতে একই রুটে একাধিক কোম্পানির বাস চলায় যানজট ও বাসে বাসে অসুস্থ প্রতিযোগিতা হয়। তাই একটি রুটে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক একটি কোম্পানির বাস চালাতে ২০১৫ সালে কমিটি করে তৎকালীন সরকার। এর আগে ২০০৪ সালে কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনায় (এসটিপি) প্রস্তাব করা ‘বাস ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতি’ (বিএফএস) রাজধানীতে চালুর দায়িত্ব দেয়া হয় কমিটিকে।

২০২১ সালের ডিসেম্বরে রাজধানীর ঘাটারচর থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত ২৬ নম্বর রুটে পরীক্ষামূলক ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক বাস চালু করা হয়। বেসরকারি কোম্পানি ট্রান্স-সিলভা এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বিআরটিসি যৌথভাবে তা চালু করে। কাউন্টারভিত্তিক ই-টিকেটিং সেবা ছিল। নির্ধারিত স্টপেজ থেকে টিকিট নিয়ে যাত্রীকে নির্ধারিত স্থানে নামতে হতো। এই রুটের অন্যান্য কোম্পানির বাস একীভূত না হওয়ায় সেবাটি বন্ধ হয়ে যায়। বেহাল পড়ে থাকে কয়েক কোটি টাকায় নির্মিত যাত্রী ছাউনিগুলো।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও এই পদ্ধতিতে বাস চালুর প্রচেষ্টা সফল হয়নি বাস মালিকরা সাড়া না দেয়ায়। তারেক রহমানের সরকার নতুন করে জোর দিয়েছে বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজিতে। ইতোমধ্যে সম্ভাব্য ৩২টি রুট নির্ধারণ করেছে ঢাকা পরিবহন কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। গত ৩০ সেপ্টেম্বর মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময়, সংস্থাটি রুটভিত্তিক বাসের সংখ্যা, পরিচালনাকারী কোম্পানি, কাউন্টার, ডিপো ও লে-ওভার পার্কিং নির্ধারণের পাশাপাশি বাসের জন্য নির্দিষ্ট ও ন্যূনতম মানদণ্ডের পরিকল্পনা তুলে ধরে।

সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) পরিবহন খাতের নিয়ন্ত্রক হলেও বাস চলাচলের রুট কী হবে, কত বাস চলবে, তা নির্ধারণ করে আঞ্চলিক পরিবহন কমিটি (আরটিসি)। ঢাকায় এর সভাপতি মহানগর পুলিশ কমিশনার।

সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির হিসাবে রাজধানীতে বাস কোম্পানির সংখ্যা ১২০। চলাচলের অনুমোদন রয়েছে সাত হাজারের বেশি বাসের। অধিকাংশ রুট এবং কোম্পানি বাস্তবে নেই। আবার একই রুটে আট-দশটি পর্যন্ত কোম্পানির বাস চলে।

ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক পদ্ধতিতে বিদ্যমান রুটগুলোতে যেসব কোম্পানির বাস চলছে, সেগুলোকে একীভূত করে একটি কোম্পানি গঠন করা হবে। বিনিয়োগের অনুপাতে বাস মালিকরা মুনাফা পাবেন। চালক-শ্রমিকরা চুক্তিতে নয়, কোম্পানির মাসিক বেতনভুক্ত হবেন। বাসগুলো নির্ধারিত সময়ে ছাড়বে; নির্ধারিত স্থানে দাঁড়াবে ও যাত্রী তুলবে। কেউ কাউকে ওভারটেক করতে পারবে না।

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠকে ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক (সচিব) মোহাম্মদ মশিউর রহমান জানান, ঢাকায় অনুমোদিত ৪১৮টি বাস রুটের মধ্যে বর্তমানে ৯৮টি সচল। এসব রুটে ৬৬টি কোম্পানির প্রায় সাড়ে সাত হাজার বাস চলছে। এগুলোকে ঢেলে সাজিয়ে ৩২টি রুট করতে চায় ঢাকা পরিবহন কর্তৃপক্ষ।

বৈঠকে অংশ নেয়া সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম বলেন, আগামী দুই মাসে রুট নির্ধারণ করা হবে। এসব রুটে বাসের স্টপেজ ঠিক করা হবে। যাত্রীসেবার মান বৃদ্ধিতে যত লক্কড়ঝক্কড় বাস রয়েছে, সেগুলো মেরামত করতে হবে। যেসব বাসের আয়ুষ্কাল রয়েছে, সেগুলো চলবে। অন্যগুলো উচ্ছেদ হয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন– দুই মাসে কয়েকটি রুট চালু করা হবে। ছয় মাসের মধ্যে পুরো পদ্ধতি বাস্তবায়ন করতে হবে। তা বাস্তবায়নে পরিবহন মালিকরা রোববার থেকে কাজ শুরু করবেন।

সভায় আলোচনা হয়, আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে ঠিক করা হবে কোন দুটি রুটে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক বাস সেবা চালু হবে। বাসে ফিটনেস, শৃঙ্খলা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি তারাই নিশ্চিত করবেন।

সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সভায় জানান, গত ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি বাস কোম্পানিগুলোর মালিক ও সমিতির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। দুই মাসের মধ্যে প্রস্তাবিত ৩২টি রুটে বাস চলাচল শুরু করা সম্ভব। ছয় মাসের মধ্যে নিয়ন্ত্রিত ফ্র্যাঞ্চাইজি সেবা চালু হতে পারে।

ঢাকা পরিবহন কর্তৃপক্ষ সমীক্ষার ভিত্তিতে রুট পুনর্বিন্যাসের এ পরিকল্পনা তৈরি করেছে। ৫২টি স্থানে টানা ৭২ ঘণ্টা যানবাহন গণনা করা হয় এতে।

গতকাল বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে বৈঠকে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ৪০টি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ৯০টি মাঠ খেলাধুলার উপযোগী করে নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম চালু করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে জানানো হয়, দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে খেলার মাঠ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ২৭টি জেলায় খেলার মাঠের জন্য ৪০৩টি খাসজমি চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিটি মাঠের আয়তন সর্বনিম্ন তিন বিঘা থেকে সর্বোচ্চ আট বিঘা নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। মাঠগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে প্রতিটি উপজেলায় একজন ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এ ছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ে ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, ব্যাডমিন্টনসহ ১০ ধরনের ক্রীড়ায় প্রায় ১৪ লাখ কিশোর-কিশোরীকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী ৫ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী খুলনা থেকে একযোগে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় এ ক্রীড়া কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।

এদিকে গতকাল বিকেলে প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী নিহত আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যরা। সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সাক্ষাৎকালে আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে রায় কার্যকর বিষয়ে সহযোগিতা কামনা করেন। প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, মামলাটি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। আদালত স্বাধীনভাবে মামলার বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন। এ ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে তার পরিবারকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

এ সময় মো. বরকত উল্লাহর সঙ্গে ছিলেন আবরার ফাহাদের মা রোকেয়া খাতুন, ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ, এক মামা ও এক চাচা। উল্লেখ্য, ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ) নেতাকর্মীরা ২০১৯ সালে নৃশংসভাবে তাকে হত্যা করে।

গতকাল সচিবালয়ে ঢাকা মহানগরের গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ, পরিবহন মালিক নেতাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

রাজধানীতে প্রতি রুটে চলবে নির্দিষ্ট এক কোম্পানির বাস

আপডেট সময় ১১:৫৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা আনার মাধ্যমে যানজট কমাতে ছয় মাসের মধ্যে বাস রুট রেশনালাইজেশন বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ পদ্ধতিতে একটি রুটে একাধিক নয়; মাত্র একটি কোম্পানির ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক বাস চলবে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে ঢাকা মহানগরের গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি এ নির্দেশ দেন।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, আগামী দুই মাসে বাস স্টপেজ নির্ধারণ, লক্কড়ঝক্কড় বাস মেরামত এবং চালকদের মাসিক বেতনের ভিত্তিতে নিয়োগ করা হবে। এই সময়ে কয়েকটি রুট চালু করা হবে। এরই মধ্যে ঢাকাকে ৩২টি রুটে বিভক্ত করে সবকটিতে ছয় মাসের মধ্যে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক বাস চালু করা হবে। এ পদ্ধতিতে কাউন্টারভিত্তিক যাত্রীসেবা, ই-টিকেটিং ও জিপিএস ট্র্যাকিং থাকবে।

এ ছাড়া পৃথক এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী দুই মাসের মধ্যে সারাদেশে কমপক্ষে এক হাজার খেলার মাঠ করতে বলেছেন তিনি। ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দুই থেকে তিনটি ওয়ার্ডের জন্য অন্তত একটি খেলার মাঠ নিশ্চিত করারও নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

রাজধানীতে একই রুটে একাধিক কোম্পানির বাস চলায় যানজট ও বাসে বাসে অসুস্থ প্রতিযোগিতা হয়। তাই একটি রুটে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক একটি কোম্পানির বাস চালাতে ২০১৫ সালে কমিটি করে তৎকালীন সরকার। এর আগে ২০০৪ সালে কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনায় (এসটিপি) প্রস্তাব করা ‘বাস ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতি’ (বিএফএস) রাজধানীতে চালুর দায়িত্ব দেয়া হয় কমিটিকে।

২০২১ সালের ডিসেম্বরে রাজধানীর ঘাটারচর থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত ২৬ নম্বর রুটে পরীক্ষামূলক ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক বাস চালু করা হয়। বেসরকারি কোম্পানি ট্রান্স-সিলভা এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বিআরটিসি যৌথভাবে তা চালু করে। কাউন্টারভিত্তিক ই-টিকেটিং সেবা ছিল। নির্ধারিত স্টপেজ থেকে টিকিট নিয়ে যাত্রীকে নির্ধারিত স্থানে নামতে হতো। এই রুটের অন্যান্য কোম্পানির বাস একীভূত না হওয়ায় সেবাটি বন্ধ হয়ে যায়। বেহাল পড়ে থাকে কয়েক কোটি টাকায় নির্মিত যাত্রী ছাউনিগুলো।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও এই পদ্ধতিতে বাস চালুর প্রচেষ্টা সফল হয়নি বাস মালিকরা সাড়া না দেয়ায়। তারেক রহমানের সরকার নতুন করে জোর দিয়েছে বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজিতে। ইতোমধ্যে সম্ভাব্য ৩২টি রুট নির্ধারণ করেছে ঢাকা পরিবহন কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। গত ৩০ সেপ্টেম্বর মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময়, সংস্থাটি রুটভিত্তিক বাসের সংখ্যা, পরিচালনাকারী কোম্পানি, কাউন্টার, ডিপো ও লে-ওভার পার্কিং নির্ধারণের পাশাপাশি বাসের জন্য নির্দিষ্ট ও ন্যূনতম মানদণ্ডের পরিকল্পনা তুলে ধরে।

সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) পরিবহন খাতের নিয়ন্ত্রক হলেও বাস চলাচলের রুট কী হবে, কত বাস চলবে, তা নির্ধারণ করে আঞ্চলিক পরিবহন কমিটি (আরটিসি)। ঢাকায় এর সভাপতি মহানগর পুলিশ কমিশনার।

সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির হিসাবে রাজধানীতে বাস কোম্পানির সংখ্যা ১২০। চলাচলের অনুমোদন রয়েছে সাত হাজারের বেশি বাসের। অধিকাংশ রুট এবং কোম্পানি বাস্তবে নেই। আবার একই রুটে আট-দশটি পর্যন্ত কোম্পানির বাস চলে।

ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক পদ্ধতিতে বিদ্যমান রুটগুলোতে যেসব কোম্পানির বাস চলছে, সেগুলোকে একীভূত করে একটি কোম্পানি গঠন করা হবে। বিনিয়োগের অনুপাতে বাস মালিকরা মুনাফা পাবেন। চালক-শ্রমিকরা চুক্তিতে নয়, কোম্পানির মাসিক বেতনভুক্ত হবেন। বাসগুলো নির্ধারিত সময়ে ছাড়বে; নির্ধারিত স্থানে দাঁড়াবে ও যাত্রী তুলবে। কেউ কাউকে ওভারটেক করতে পারবে না।

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠকে ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক (সচিব) মোহাম্মদ মশিউর রহমান জানান, ঢাকায় অনুমোদিত ৪১৮টি বাস রুটের মধ্যে বর্তমানে ৯৮টি সচল। এসব রুটে ৬৬টি কোম্পানির প্রায় সাড়ে সাত হাজার বাস চলছে। এগুলোকে ঢেলে সাজিয়ে ৩২টি রুট করতে চায় ঢাকা পরিবহন কর্তৃপক্ষ।

বৈঠকে অংশ নেয়া সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম বলেন, আগামী দুই মাসে রুট নির্ধারণ করা হবে। এসব রুটে বাসের স্টপেজ ঠিক করা হবে। যাত্রীসেবার মান বৃদ্ধিতে যত লক্কড়ঝক্কড় বাস রয়েছে, সেগুলো মেরামত করতে হবে। যেসব বাসের আয়ুষ্কাল রয়েছে, সেগুলো চলবে। অন্যগুলো উচ্ছেদ হয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন– দুই মাসে কয়েকটি রুট চালু করা হবে। ছয় মাসের মধ্যে পুরো পদ্ধতি বাস্তবায়ন করতে হবে। তা বাস্তবায়নে পরিবহন মালিকরা রোববার থেকে কাজ শুরু করবেন।

সভায় আলোচনা হয়, আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে ঠিক করা হবে কোন দুটি রুটে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক বাস সেবা চালু হবে। বাসে ফিটনেস, শৃঙ্খলা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি তারাই নিশ্চিত করবেন।

সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সভায় জানান, গত ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি বাস কোম্পানিগুলোর মালিক ও সমিতির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। দুই মাসের মধ্যে প্রস্তাবিত ৩২টি রুটে বাস চলাচল শুরু করা সম্ভব। ছয় মাসের মধ্যে নিয়ন্ত্রিত ফ্র্যাঞ্চাইজি সেবা চালু হতে পারে।

ঢাকা পরিবহন কর্তৃপক্ষ সমীক্ষার ভিত্তিতে রুট পুনর্বিন্যাসের এ পরিকল্পনা তৈরি করেছে। ৫২টি স্থানে টানা ৭২ ঘণ্টা যানবাহন গণনা করা হয় এতে।

গতকাল বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে বৈঠকে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ৪০টি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ৯০টি মাঠ খেলাধুলার উপযোগী করে নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম চালু করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে জানানো হয়, দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে খেলার মাঠ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ২৭টি জেলায় খেলার মাঠের জন্য ৪০৩টি খাসজমি চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিটি মাঠের আয়তন সর্বনিম্ন তিন বিঘা থেকে সর্বোচ্চ আট বিঘা নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। মাঠগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে প্রতিটি উপজেলায় একজন ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এ ছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ে ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, ব্যাডমিন্টনসহ ১০ ধরনের ক্রীড়ায় প্রায় ১৪ লাখ কিশোর-কিশোরীকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী ৫ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী খুলনা থেকে একযোগে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় এ ক্রীড়া কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।

এদিকে গতকাল বিকেলে প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী নিহত আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যরা। সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সাক্ষাৎকালে আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে রায় কার্যকর বিষয়ে সহযোগিতা কামনা করেন। প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, মামলাটি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। আদালত স্বাধীনভাবে মামলার বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন। এ ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে তার পরিবারকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

এ সময় মো. বরকত উল্লাহর সঙ্গে ছিলেন আবরার ফাহাদের মা রোকেয়া খাতুন, ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ, এক মামা ও এক চাচা। উল্লেখ্য, ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ) নেতাকর্মীরা ২০১৯ সালে নৃশংসভাবে তাকে হত্যা করে।

গতকাল সচিবালয়ে ঢাকা মহানগরের গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ, পরিবহন মালিক নেতাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।