ঢাকা ০৩:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

খাবার খেয়ে টাকা না দেয়ায় পুলিশ কর্মকর্তাকে পেটালো হোটেল কর্মচারীরা

নিউজ ডেস্ক:-
  • আপডেট সময় ১২:৩৩:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • / ৮৯ বার পড়া হয়েছে

পুলিশ কর্মকর্তা মেহেদী হাসান

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে এক খাবার হোটেলের মালিকের ছেলে ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ট্রাফিক পুলিশের এক পরিদর্শককে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সিভিল পোশাকে থাকার কারণে তাকে না চেনায় এ ঘটনা ঘটে।

শুক্রবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সফিপুর বাজার এলাকায়। এ ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই হোটেলের ছয় কর্মচারীকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।

আহত ওই পুলিশের নাম মো. মেহেদী হাসান (৪২)। তিনি গাজীপুর জেলা ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত আছেন।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক মেহেদী হাসান কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর বাজার এলাকায় একটি বাড়িতে সপরিবারে ভাড়া থাকেন। শুক্রবার তার বাড়িতে কেউ না থাকায় তিনি দায়িত্ব পালন শেষে রাত ১০টার দিকে ইমা হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে রাতের খাবার খেতে যান। ওই সময় তিনি সিভিল পোশাকে থাকায় হোটেল মালিকের ছেলে বা কর্মচারীরা কেউ জানতেন না তিনি পুলিশ কর্মকর্তা।

রাতের খাবারের জন্য তাকে রুটি, ডাল ও হালিম পরিবেশন করা হয়। ডাল ও হালিম ভালো না লাগায় সেই খাবার তিনি ফেরত দেন। ওই খাবার ফেরত দিলেও হোটেলের ক্যাশে থাকা হোটেল মালিকের ছেলে অলিউল্লাহ ওরফে শান্ত তার কাছে বিল দাবি করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে অলিউল্লাহ কাচের গ্লাসের কিছু অংশ ভেঙে তার মুখে আঘাত করেন।

এ সময় হোটেলে থাকা অন্য কর্মচারীরাও ওই পুলিশ কর্মকর্তার ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করেন। পরে আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সফিপুর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেয়। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়।

খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে হোটেল মালিকের মেয়ের জামাই সাইফুল্লাহ সুমন, মমিনুল ইসলাম, শাফায়েত হোসেন, আব্দুল রাজ্জাক, জাহিদ হোসেন ও রাকিবকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় আহত ওই পুলিশ কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় একটি মামলা করেন। তবে ঘটনার মূল হোতা অলিউল্লাহ পালিয়ে যাওয়ায় তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

আহত ট্রাফিক পরিদর্শক মেহেদী হাসান বলেন, ক্যাশে থাকা ছেলেকে আমি জিজ্ঞেস করেছি ভালো না লাগায় আমি হালিম ও ডাল খাইনি তার পরও কেন বিল ধরেছেন? তখন সে আমার সঙ্গে উত্তেজিত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে গ্লাস ভেঙে আমার মুখে আঘাত করে।

কালিয়াকৈর থানার ওসি এএফএম নাসিম জানান, এ ঘটনায় আহত পুলিশ সদস্য বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে ঘটার মূল হোতা হোটেল মালিকের ছেলেকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

খাবার খেয়ে টাকা না দেয়ায় পুলিশ কর্মকর্তাকে পেটালো হোটেল কর্মচারীরা

আপডেট সময় ১২:৩৩:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে এক খাবার হোটেলের মালিকের ছেলে ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ট্রাফিক পুলিশের এক পরিদর্শককে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সিভিল পোশাকে থাকার কারণে তাকে না চেনায় এ ঘটনা ঘটে।

শুক্রবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সফিপুর বাজার এলাকায়। এ ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই হোটেলের ছয় কর্মচারীকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।

আহত ওই পুলিশের নাম মো. মেহেদী হাসান (৪২)। তিনি গাজীপুর জেলা ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত আছেন।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক মেহেদী হাসান কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর বাজার এলাকায় একটি বাড়িতে সপরিবারে ভাড়া থাকেন। শুক্রবার তার বাড়িতে কেউ না থাকায় তিনি দায়িত্ব পালন শেষে রাত ১০টার দিকে ইমা হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে রাতের খাবার খেতে যান। ওই সময় তিনি সিভিল পোশাকে থাকায় হোটেল মালিকের ছেলে বা কর্মচারীরা কেউ জানতেন না তিনি পুলিশ কর্মকর্তা।

রাতের খাবারের জন্য তাকে রুটি, ডাল ও হালিম পরিবেশন করা হয়। ডাল ও হালিম ভালো না লাগায় সেই খাবার তিনি ফেরত দেন। ওই খাবার ফেরত দিলেও হোটেলের ক্যাশে থাকা হোটেল মালিকের ছেলে অলিউল্লাহ ওরফে শান্ত তার কাছে বিল দাবি করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে অলিউল্লাহ কাচের গ্লাসের কিছু অংশ ভেঙে তার মুখে আঘাত করেন।

এ সময় হোটেলে থাকা অন্য কর্মচারীরাও ওই পুলিশ কর্মকর্তার ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করেন। পরে আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সফিপুর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেয়। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়।

খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে হোটেল মালিকের মেয়ের জামাই সাইফুল্লাহ সুমন, মমিনুল ইসলাম, শাফায়েত হোসেন, আব্দুল রাজ্জাক, জাহিদ হোসেন ও রাকিবকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় আহত ওই পুলিশ কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় একটি মামলা করেন। তবে ঘটনার মূল হোতা অলিউল্লাহ পালিয়ে যাওয়ায় তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

আহত ট্রাফিক পরিদর্শক মেহেদী হাসান বলেন, ক্যাশে থাকা ছেলেকে আমি জিজ্ঞেস করেছি ভালো না লাগায় আমি হালিম ও ডাল খাইনি তার পরও কেন বিল ধরেছেন? তখন সে আমার সঙ্গে উত্তেজিত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে গ্লাস ভেঙে আমার মুখে আঘাত করে।

কালিয়াকৈর থানার ওসি এএফএম নাসিম জানান, এ ঘটনায় আহত পুলিশ সদস্য বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে ঘটার মূল হোতা হোটেল মালিকের ছেলেকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।