জাবি উপাচার্যকে বামপন্থী নেত্রীর ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা, ছাত্রদলের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ
- আপডেট সময় ০১:২৪:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
- / ২০ বার পড়া হয়েছে
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার প্রেক্ষিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানকে এক বামপন্থী নেত্রীর ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দেয়াকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
এমন মন্তব্যকে ‘সত্যের অপলাপ, দায়িত্বজ্ঞানহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ উল্লেখ করে সংগঠনটি বলেছে, সংবেদনশীল একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে এ ধরনের ব্যক্তিগত আক্রমণ ও রাজনৈতিক বিদ্বেষ ছড়ানো অত্যন্ত অনভিপ্রেত।
রোববার (১৭ মে) জাবি শাখা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক আব্দুল্লাহ অন্তর স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দীন মোহাম্মদ বাবর ও সদস্যসচিব ওয়াসিম আহমেদ অনীকের বরাত দিয়ে এ বিবৃতি প্রদান করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক অনাকাঙ্ক্ষিত ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় জাবি ছাত্রদল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে এবং শিক্ষার্থীদের যেকোনো যৌক্তিক আন্দোলনে তারা পাশে রয়েছে। তবে আন্দোলনের একপর্যায়ে উপাচার্যকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দেয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।
উপাচার্যের অতীত ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ছাত্রদলের বিবৃতিতে বলা হয়, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সম্মুখসারির একজন সংগ্রামী ব্যক্তিত্ব হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন। বিগত সময়ে ক্যাম্পাসে সংঘটিত অনিয়ম, নির্যাতন, দমন-পীড়ন ও স্বৈরাচারী আচরণের বিরুদ্ধে তিনি সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার রাজনৈতিক ও আদর্শিক অবস্থান এবং ত্যাগের ইতিহাস বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের নিকট সুপরিচিত।
শাখা ছাত্রদলের নেতারা আরও জানান, স্পর্শকাতর এই ঘটনার শুরু থেকেই অপরাধীকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিচার নিশ্চিত করার পরিবর্তে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে উপাচার্যকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দেয়া একটি দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ।
এর আগে গত মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হলের পাশের রাস্তায় এক নারী শিক্ষার্থীকে টেনেহিঁচড়ে অন্ধকারে নিয়ে ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টা করে এক বহিরাগত ব্যক্তি। এসময় পথচারী শিক্ষার্থীদের সাহসী বাধায় ওই ব্যক্তি পালিয়ে যায়। পরদিন দুপুরে আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা দায়ের করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে ও অপরাধীকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন। তারা হুঁশিয়ারি দেন যে, এসময়ের মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে না পারলে প্রক্টরকে পদত্যাগ করতে হবে।
আলটিমেটামের সময় শেষ হওয়ার আগেই শুক্রবার (১৫ মে) দিবাগত রাত ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টারজান পয়েন্টে জড়ো হতে থাকেন আন্দোলনকারীরা। পরে রাত ৩টার দিকে সময়সীমা শেষ হলে তারা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গিয়ে প্রক্টরের পদত্যাগের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন।
টানা অবস্থানের পর শনিবার (১৬ মে) সকালে উপাচার্য আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এই বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে আন্দোলনে উপস্থিত বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, জাবি সংসদ সমর্থিত ‘জাহাঙ্গীরনগর বাঁচাও আন্দোলন’ প্ল্যাটফর্মের একজন অন্যতম সংগঠক ফারিয়া জামান নিকি উপাচার্যকে ‘ফ্যাসিস্ট’ বলে আখ্যা দেন।
এমন মন্তব্যের জবাবে ক্ষুব্ধ উপাচার্য তাৎক্ষণিকভাবে বলেন, ১৭ বছরের মূল্যবোধের অবক্ষয়ের দায় আমি টানছি। ১৭ বছর ফ্যাসিস্টের মধ্যে ছিলাম। সব অন্যায়কারীর বিচার হবে, একটা লোককেও ছাড়া হবে না। যেটা ন্যায্য আমি সেটাই করব, নিয়মের বাইরে আমি যাব না।
তিনি শিক্ষার্থীদের স্মরণ করিয়ে দিয়ে আরও বলেন, ২৪-এ ফ্যাসিস্টের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী ছিলাম। আমার মতো আর কোনো উপাচার্য পেয়েছিলে, যে ওই কয়দিন দাঁড়িয়ে ছিল? আগের উপাচার্য, ২৪-এর আন্দোলনের সময় যখন এই গেটের সামনে বাচ্চাগুলোকে মারা হচ্ছিল—ওই লোকটা ভেতরে বসে ছিলেন। কার সাথে কাকে মেলাও? আমি রাস্তার লোক।



















