আপিল বিভাগে মামলা চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত করায় গভীর বিস্ময় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। বুধবার (২০ মে) সকালে বিচারপতি আহমেদ সোহেলের একক বেঞ্চে বিলুপ্তির প্রজ্ঞাপনটি নজরে আনা হলে আদালত রাষ্ট্রপক্ষকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘এটি কিভাবে সম্ভব?’
পরে পৃথক সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে রিটকারী জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, আপিল বিভাগে মামলা চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগেই সচিবালয়ের কার্যক্রম বিলুপ্ত করায় সরকার আদালত অবমাননা করেছে।
এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার (২১ মে) সরকারের সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন দাখিল করা হবে।তিনি আরো বলেন, এই ধরনের খামখেয়ালি ঘটনার কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এবং বিদেশিদের কাছেও বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার (১৯ মে) সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত ঘোষণা করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। একই প্রজ্ঞাপনে ওই সচিবালয়ে কর্মরত ১৫ জন বিচারককে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়।
নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও পৃথকীকরণের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করেছিল। তবে পরবর্তীতে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে ওই অধ্যাদেশটি বাতিল করে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করা হলে, হাইকোর্ট বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের পক্ষে রায় দেন। যদিও হাইকোর্ট বিচার বিভাগ পৃথককরণের রায়ে বলেন, ৩ মাসের মধ্যে সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সিদ্ধান্ত নেয় রাষ্ট্রপক্ষ, যদিও এখন পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আনুষ্ঠানিক কোনো আপিল দায়ের করা হয়নি। হাইকোর্ট রাষ্টপক্ষকে আশা জানান, চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগে যেন সচিবালয়ের কার্যক্রম বন্ধ না করা হয়।