ঢাকা ১২:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২৩টি অটোরিকশাসহ ১৪ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৮:৪৪:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
  • / ২০ বার পড়া হয়েছে

ঢাকার সাভারে একটি অটোরিকশার গ্যারেজে পাঁচ দফা হামলা চালিয়ে অন্তত অর্ধকোটি টাকার অটোরিকশা, ব্যাটারি ও অন্যান্য মালামাল লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে সাভার থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন সামি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। গত ২৪ ও ২৭ মে এবং ৮, ১২ ও ১৬ জুন সাভার পৌর এলাকার রাজাশন মহল্লায় গ্যারেজ মালিক শামীম রেজার প্রতিষ্ঠানে এসব ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় শামীম রেজার মা ও বোন গত ১২ জুন দুপুর ও রাতে সাভার মডেল থানায় পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে মাহাবুব হোসেন সামি ছাড়াও মো. নাঈম ইসলাম বাদশা ওরফে পিস্তল বাদশা, আলমগীর, সজিব, রুবেল, নাহিদ, ফাতেন, রনি, কালা মানিক, মানিক ওরফে কিলার মানিক, সানিসহ অজ্ঞাতনামা ১৫ থেকে ২০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। তবে অভিযোগ দায়েরের ১১ দিন পরও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।

অভিযোগের বিষয়ে মাহাবুব হোসেন সামি বলেন, “গ্যারেজ মালিক শামীম আমার ভাইকে র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তারে সহযোগিতা করেছে। শামীম একজন পরিচিত মাদক ব্যবসায়ী। তাই এলাকায় তাকে বসবাস করতে দেওয়া হবে না।”

অন্যদিকে শামীম রেজার স্ত্রী আফরোজা আক্তার সাথী দাবি করেন, মাহাবুব হোসেন সামির ভাই হৃদয় হোসেন বিপুল পরিমাণ হেরোইনসহ র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাকে জামিনে মুক্ত করতে শামীমের কাছে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, শামীম কারাগারে থাকাকালে সুযোগ নিয়ে গ্যারেজে পাঁচ দফা হামলা চালিয়ে ২৩টি অটোরিকশা ও প্রায় ১৪ লাখ টাকার ব্যাটারি লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “ঘটনার বিষয়ে একাধিকবার পুলিশকে জানানো হলেও রহস্যজনক কারণে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”

ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশ সূত্রের দাবি, শামীমের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার এসআই মো. নেয়ামত উল্লাহ। অভিযোগ রয়েছে, তার পরোক্ষ সহযোগিতায় গ্যারেজ থেকে লুট হওয়া অটোরিকশা ও ব্যাটারি বিক্রি করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এসআই নেয়ামত উল্লাহ।

তিনি বলেন, “শামীম ও মাহাবুব হোসেন সামির মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে, এটি সত্য। শামীম গ্রেপ্তারের পর গ্যারেজ থেকে মালামাল সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। তবে এর সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। মামলা নেওয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে।”

এ বিষয়ে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, “ঘটনার বিষয়ে আমি অবগত। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে কি না তা খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। কোনো পুলিশ সদস্যের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মামলা না হয়ে থাকলে ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

তবে সাভার মডেল থানার একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, গ্যারেজে লুটপাটের ঘটনায় এখনো কোনো মামলা নথিভুক্ত হয়নি। ফলে ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত মামলা গ্রহণ ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

২৩টি অটোরিকশাসহ ১৪ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক

আপডেট সময় ০৮:৪৪:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

ঢাকার সাভারে একটি অটোরিকশার গ্যারেজে পাঁচ দফা হামলা চালিয়ে অন্তত অর্ধকোটি টাকার অটোরিকশা, ব্যাটারি ও অন্যান্য মালামাল লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে সাভার থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন সামি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। গত ২৪ ও ২৭ মে এবং ৮, ১২ ও ১৬ জুন সাভার পৌর এলাকার রাজাশন মহল্লায় গ্যারেজ মালিক শামীম রেজার প্রতিষ্ঠানে এসব ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় শামীম রেজার মা ও বোন গত ১২ জুন দুপুর ও রাতে সাভার মডেল থানায় পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে মাহাবুব হোসেন সামি ছাড়াও মো. নাঈম ইসলাম বাদশা ওরফে পিস্তল বাদশা, আলমগীর, সজিব, রুবেল, নাহিদ, ফাতেন, রনি, কালা মানিক, মানিক ওরফে কিলার মানিক, সানিসহ অজ্ঞাতনামা ১৫ থেকে ২০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। তবে অভিযোগ দায়েরের ১১ দিন পরও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।

অভিযোগের বিষয়ে মাহাবুব হোসেন সামি বলেন, “গ্যারেজ মালিক শামীম আমার ভাইকে র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তারে সহযোগিতা করেছে। শামীম একজন পরিচিত মাদক ব্যবসায়ী। তাই এলাকায় তাকে বসবাস করতে দেওয়া হবে না।”

অন্যদিকে শামীম রেজার স্ত্রী আফরোজা আক্তার সাথী দাবি করেন, মাহাবুব হোসেন সামির ভাই হৃদয় হোসেন বিপুল পরিমাণ হেরোইনসহ র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাকে জামিনে মুক্ত করতে শামীমের কাছে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, শামীম কারাগারে থাকাকালে সুযোগ নিয়ে গ্যারেজে পাঁচ দফা হামলা চালিয়ে ২৩টি অটোরিকশা ও প্রায় ১৪ লাখ টাকার ব্যাটারি লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “ঘটনার বিষয়ে একাধিকবার পুলিশকে জানানো হলেও রহস্যজনক কারণে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”

ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশ সূত্রের দাবি, শামীমের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার এসআই মো. নেয়ামত উল্লাহ। অভিযোগ রয়েছে, তার পরোক্ষ সহযোগিতায় গ্যারেজ থেকে লুট হওয়া অটোরিকশা ও ব্যাটারি বিক্রি করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এসআই নেয়ামত উল্লাহ।

তিনি বলেন, “শামীম ও মাহাবুব হোসেন সামির মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে, এটি সত্য। শামীম গ্রেপ্তারের পর গ্যারেজ থেকে মালামাল সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। তবে এর সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। মামলা নেওয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে।”

এ বিষয়ে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, “ঘটনার বিষয়ে আমি অবগত। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে কি না তা খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। কোনো পুলিশ সদস্যের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মামলা না হয়ে থাকলে ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

তবে সাভার মডেল থানার একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, গ্যারেজে লুটপাটের ঘটনায় এখনো কোনো মামলা নথিভুক্ত হয়নি। ফলে ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত মামলা গ্রহণ ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে।