ঢাকা ১০:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শাহবাগ থানায় সাংবাদিক পেটানো ছাত্রদল নেতা চাইলেন ‘নিরাপদ ক্যাম্পাস’

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৬:৫৮:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
  • / ২০ বার পড়া হয়েছে
শাহবাগ থানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের ওপর হামলায় অংশ নিয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. জুনায়েদ আবরার। সেই একই নেতা এবার ছাত্রদলের মিছিলে অংশ নিয়ে নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবি জানিয়েছেন, যা ক্যাম্পাসে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে নিরাপদ ও শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাসের দাবিতে একটি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলের সম্মুখ সারিতে দেখা যায় শহীদুল্লাহ হল ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. জুনায়েদ আবরারকে। মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন ঢাবি ছাত্রদল নেতা ও ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের প্যানেলে জিএস পদপ্রার্থী শেখ তানভীর বারী হামীম। ছাত্রদলের এই মিছিলে আরও উপস্থিত ছিলেন দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। তারা ক্যাম্পাসে নারী-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।
গত ২৩ এপ্রিল রাতে শাহবাগ থানায় ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত ছিলেন জুনায়েদ আবরার। সেই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে অভিযোগও দায়ের করা হয়েছিল ঢাবি সাংবাদিক সমিতির পক্ষ থেকে। ভিডিও বিশ্লেষণে সরাসরি হামলাকারী ১০ জনের তালিকায় সাত নম্বরে অভিযুক্ত ছিলেন এই আবরার। এবার একই নেতা নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ায় ক্যাম্পাসজুড়ে নানা সমালোচনা ও প্রশ্ন উঠেছে।
Media Image
ঢাবি সাংবাদিক সমিতির অভিযোগপত্র
শাহবাগ থানার ঘটনার আগেও সাংবাদিক হেনস্তা করেন এই নেতা। ঢাবি সাংবাদিক সমিতির অর্থ সম্পাদক নাইমুর রহমান ইমন বলেন, ‘পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে যেকোনো মতের মানুষকে ঘিরে সংবাদ উপযোগী তথ্য সংগ্রহ করতে যেতে হয়। ২২ এপ্রিল শহীদুল্লাহ হলের ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে বিরোধপূর্ণ পরিস্থিতির তথ্য জানতে পেরে তা যাচাই করতে ও বিস্তারিত তথ্য জানতে আমরা তিনজন সাংবাদিক ওই হলে যাই। আমরা সরাসরি হাউস টিউটরদের অফিসে গিয়ে স্যারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সেখানে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত উগ্রভাবে আমাদের সঙ্গে বাক্য বিনিময় করে। একজন শারীরিকভাবে আঘাত করার জন্য তেড়ে আসলে তাকে কয়েকজন শিক্ষার্থী আটকে রাখে। আমরা বারবার নিজেদের পরিচয় দিলেও তারা শুনছিল না। একপর্যায়ে পরিস্থিতি শান্ত হলে জানতে পারি যে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা আমাদের সঙ্গে এমন আচরণ করে। তাদের পক্ষ থেকে হল কমিটির সদস্য সচিব জুনায়েদ আবরার ক্ষমা চান। কিন্তু পরদিনই এই জুনায়েদ আবরার শাহবাগ থানায় সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ করেন।’
ঘটনার দুই মাস পার হলেও জমা পড়েনি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন। বিচার পাননি মারধরের শিকার সাংবাদিকরা। সেদিন হামলার শিকার হন কালের কণ্ঠের মো. মানজুর হোছাঈন মাহি, আগামীর সময়ের লিটন ইসলাম সহ ১০ ক্যাম্পাস সাংবাদিক ।

নিউজটি শেয়ার করুন

শাহবাগ থানায় সাংবাদিক পেটানো ছাত্রদল নেতা চাইলেন ‘নিরাপদ ক্যাম্পাস’

আপডেট সময় ০৬:৫৮:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
শাহবাগ থানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের ওপর হামলায় অংশ নিয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. জুনায়েদ আবরার। সেই একই নেতা এবার ছাত্রদলের মিছিলে অংশ নিয়ে নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবি জানিয়েছেন, যা ক্যাম্পাসে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে নিরাপদ ও শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাসের দাবিতে একটি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলের সম্মুখ সারিতে দেখা যায় শহীদুল্লাহ হল ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. জুনায়েদ আবরারকে। মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন ঢাবি ছাত্রদল নেতা ও ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের প্যানেলে জিএস পদপ্রার্থী শেখ তানভীর বারী হামীম। ছাত্রদলের এই মিছিলে আরও উপস্থিত ছিলেন দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। তারা ক্যাম্পাসে নারী-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।
গত ২৩ এপ্রিল রাতে শাহবাগ থানায় ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত ছিলেন জুনায়েদ আবরার। সেই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে অভিযোগও দায়ের করা হয়েছিল ঢাবি সাংবাদিক সমিতির পক্ষ থেকে। ভিডিও বিশ্লেষণে সরাসরি হামলাকারী ১০ জনের তালিকায় সাত নম্বরে অভিযুক্ত ছিলেন এই আবরার। এবার একই নেতা নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ায় ক্যাম্পাসজুড়ে নানা সমালোচনা ও প্রশ্ন উঠেছে।
Media Image
ঢাবি সাংবাদিক সমিতির অভিযোগপত্র
শাহবাগ থানার ঘটনার আগেও সাংবাদিক হেনস্তা করেন এই নেতা। ঢাবি সাংবাদিক সমিতির অর্থ সম্পাদক নাইমুর রহমান ইমন বলেন, ‘পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে যেকোনো মতের মানুষকে ঘিরে সংবাদ উপযোগী তথ্য সংগ্রহ করতে যেতে হয়। ২২ এপ্রিল শহীদুল্লাহ হলের ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে বিরোধপূর্ণ পরিস্থিতির তথ্য জানতে পেরে তা যাচাই করতে ও বিস্তারিত তথ্য জানতে আমরা তিনজন সাংবাদিক ওই হলে যাই। আমরা সরাসরি হাউস টিউটরদের অফিসে গিয়ে স্যারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সেখানে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত উগ্রভাবে আমাদের সঙ্গে বাক্য বিনিময় করে। একজন শারীরিকভাবে আঘাত করার জন্য তেড়ে আসলে তাকে কয়েকজন শিক্ষার্থী আটকে রাখে। আমরা বারবার নিজেদের পরিচয় দিলেও তারা শুনছিল না। একপর্যায়ে পরিস্থিতি শান্ত হলে জানতে পারি যে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা আমাদের সঙ্গে এমন আচরণ করে। তাদের পক্ষ থেকে হল কমিটির সদস্য সচিব জুনায়েদ আবরার ক্ষমা চান। কিন্তু পরদিনই এই জুনায়েদ আবরার শাহবাগ থানায় সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ করেন।’
ঘটনার দুই মাস পার হলেও জমা পড়েনি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন। বিচার পাননি মারধরের শিকার সাংবাদিকরা। সেদিন হামলার শিকার হন কালের কণ্ঠের মো. মানজুর হোছাঈন মাহি, আগামীর সময়ের লিটন ইসলাম সহ ১০ ক্যাম্পাস সাংবাদিক ।