ঢাকা ১১:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈশ্বরদীতে বিএনপি নেতাকে অতিথি না করায় শিক্ষকের অবসরজনিত সভায় হামলা

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৬:৫৯:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
  • / ৩৫ বার পড়া হয়েছে

পাবনার ঈশ্বরদীতে এক শিক্ষকের অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবকে অতিথি না করাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন আয়োজকরা।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, হামলায় কেউ আহত না হলেও প্লাস্টিকের চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর, অনুষ্ঠানের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা এবং রান্না করা খাবার নষ্ট করা হয়। এতে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জহুরুল ইসলাম জানান, শিক্ষকতা জীবন থেকে অবসর উপলক্ষে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছিল।

অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম সরদারকে প্রধান অতিথি করা হয়। এ ছাড়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (টিইও) মোছা. শাহীনা আক্তার, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইও) মো. কামরুজ্জামান শেখ, জেলা বিএনপির সাবেক মৎস্যবিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রশিদ সরদার এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির দুলাল সরদারকে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।তার অভিযোগ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবকে আমন্ত্রণ না দেওয়ায় তার সমর্থক হিসেবে পরিচিত উপজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম সরদার, সলিমপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আলম প্রামাণিকসহ ১২-১৫ জন লাঠিসোঁটা নিয়ে অনুষ্ঠানের মঞ্চে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. ফজলুর রহমান বলেন, স্থানীয় বিএনপির অভ্যন্তরীণ গ্রুপিংয়ের জেরেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে।

হামলাকারীরা চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর, ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা এবং খাবার নষ্ট করে অনুষ্ঠান পণ্ড করে দেয়।অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির দুলাল সরদার বলেন, দলীয় কোন্দলের কারণে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানে হামলা চালানো রাজনৈতিকভাবে নিন্দনীয়। বিষয়টি নিয়ে সাংগঠনিক ও আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

ঈশ্বরদী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. শাহীনা আক্তার বলেন, ‘অতিথিরা পৌঁছানোর আগেই হামলা চালিয়ে অনুষ্ঠানটি পণ্ড করে দেওয়া হয়েছে। একজন শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।

তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম সরদার এবং সলিমপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আলম প্রামাণিকের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া এলাকায় বিএনপির বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সাংগঠনিক দ্বন্দ্ব তীব্র আকার ধারণ করেছে। স্থানীয়দের মতে, এ ঘটনার পেছনেও সেই অভ্যন্তরীণ বিরোধের প্রভাব রয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ঈশ্বরদীতে বিএনপি নেতাকে অতিথি না করায় শিক্ষকের অবসরজনিত সভায় হামলা

আপডেট সময় ০৬:৫৯:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

পাবনার ঈশ্বরদীতে এক শিক্ষকের অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবকে অতিথি না করাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন আয়োজকরা।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, হামলায় কেউ আহত না হলেও প্লাস্টিকের চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর, অনুষ্ঠানের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা এবং রান্না করা খাবার নষ্ট করা হয়। এতে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জহুরুল ইসলাম জানান, শিক্ষকতা জীবন থেকে অবসর উপলক্ষে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছিল।

অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম সরদারকে প্রধান অতিথি করা হয়। এ ছাড়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (টিইও) মোছা. শাহীনা আক্তার, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইও) মো. কামরুজ্জামান শেখ, জেলা বিএনপির সাবেক মৎস্যবিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রশিদ সরদার এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির দুলাল সরদারকে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।তার অভিযোগ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবকে আমন্ত্রণ না দেওয়ায় তার সমর্থক হিসেবে পরিচিত উপজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম সরদার, সলিমপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আলম প্রামাণিকসহ ১২-১৫ জন লাঠিসোঁটা নিয়ে অনুষ্ঠানের মঞ্চে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. ফজলুর রহমান বলেন, স্থানীয় বিএনপির অভ্যন্তরীণ গ্রুপিংয়ের জেরেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে।

হামলাকারীরা চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর, ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা এবং খাবার নষ্ট করে অনুষ্ঠান পণ্ড করে দেয়।অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির দুলাল সরদার বলেন, দলীয় কোন্দলের কারণে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানে হামলা চালানো রাজনৈতিকভাবে নিন্দনীয়। বিষয়টি নিয়ে সাংগঠনিক ও আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

ঈশ্বরদী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. শাহীনা আক্তার বলেন, ‘অতিথিরা পৌঁছানোর আগেই হামলা চালিয়ে অনুষ্ঠানটি পণ্ড করে দেওয়া হয়েছে। একজন শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।

তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম সরদার এবং সলিমপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আলম প্রামাণিকের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া এলাকায় বিএনপির বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সাংগঠনিক দ্বন্দ্ব তীব্র আকার ধারণ করেছে। স্থানীয়দের মতে, এ ঘটনার পেছনেও সেই অভ্যন্তরীণ বিরোধের প্রভাব রয়েছে।