জানালার গ্রিল কেটে স্বর্ণালংকার চুরি, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক দুই নেতাসহ গ্রেপ্তার ৫
- আপডেট সময় ০৪:২৬:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
- / ৩০ বার পড়া হয়েছে
জামালপুর শহরের আমলাপাড়া এলাকায় বিচারক দম্পতির ভাড়া বাসায় জানালার গ্রিল কেটে প্রায় ১৯ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার, হিরের আংটি ও নগদ টাকা চুরির ঘটনায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক দুই নেতাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে তাদের আদালতে পাঠানো হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় চুরির মূল রহস্য উদ্ঘাটন, চোরাই মালামাল উদ্ধার এবং চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত করতে চার আসামির সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— জামালপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক ত্রাণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক সম্পাদক সুমন মিয়া (৩৯), সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল ইবনে হোসেন ওরফে বিপ্লব (৩৯), ভ্যানচালক চাঁন মিয়া ওরফে কালাচাঁন (৫০), গৃহকর্মী নিলুফা (৩২) এবং হাওয়া বেগম (৩০)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বিচারক আহমাদুল কবির সাকিল ও বিচারক নুসরাত জেরিন জেনী প্রায় সাত মাস ধরে জামালপুর শহরের আমলাপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। তারা যথাক্রমে মেলান্দহ ও দেওয়ানগঞ্জ সিভিল জজ আদালতের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
গত ৩০ জুন বিকেলে বিচারক আহমাদুল কবির সাকিল তার স্ত্রীকে জামথল ঘাটে পৌঁছে দিয়ে রাতে বাসায় ফিরে মূল দরজা বন্ধ পান। পরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে দেখা যায়, দুর্বৃত্তরা শয়নকক্ষের জানালার গ্রিল কেটে ঘরে ঢুকে আলমারির ড্রয়ার ভেঙে নগদ এক লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার, হিরের আংটিসহ মোট ১৯ লাখ ১৭ হাজার ৯৮৩ টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে।
ঘটনার পরদিন জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা একেএম ছরওয়ার জাহান সিদ্দিকী বাদী হয়ে জামালপুর থানায় মামলা করেন।
তদন্তের একপর্যায়ে বৃহস্পতিবার রাতে একই ভবনের অন্য একটি বাসার গৃহকর্মী নিলুফাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিচারকের বাসার গৃহকর্মী হাওয়া বেগমকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী একই রাতে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে নিলুফার বাড়ি মেলান্দহ উপজেলার চর পলিশা গ্রামে, হাওয়া বেগমের বাড়ি সদর উপজেলার তিতপল্লা সরদারপাড়া গ্রামে। চাঁন মিয়ার বাড়ি শহরের আমলাপাড়া এলাকায়। সুমন মিয়ার বাড়ি পৌর শহরের গোলাপবাগ এলাকায় এবং নাজমুল ইবনে হোসেন ওরফে বিপ্লবের বাড়ি শহরের কলেজ রোড এলাকায়।
জামালপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মঞ্জুরুল করিম সুমন বলেন, ‘গ্রেপ্তার সুমন ও বিপ্লব জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আগের কমিটির নেতা ছিলেন। বর্তমানে তারা দলের কোনো পদে নেই।’
জামালপুর থানার ওসি (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা চুরির ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। চুরির মূল পরিকল্পনাকারী, চোরাই মালামাল উদ্ধার এবং পলাতক সদস্যদের শনাক্ত করতে চারজনের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। এছাড়া গৃহকর্মী নিলুফা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।


















