ঢাকা ১০:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩ মাসের শিশুকে শাশুড়ির কোলে রেখে এইচএসসি পরীক্ষা, পুত্রবধূকে শিক্ষক বানাতে চান শাশুড়ি

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৮:২৪:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
  • / ২২ বার পড়া হয়েছে

তিন মাস বয়সী শিশুকে শাশুড়ির কোলে রেখে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন এক পরীক্ষার্থী। শেরপুর সরকারি কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রে সোমবার (৬ জুলাই) ইংরেজি প্রথম পত্র পরীক্ষার দিনে দেখা যায় ব্যতিক্রমী ও অনুপ্রেরণাদায়ক এই দৃশ্য, যা উপস্থিত শিক্ষক, অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

পরীক্ষার্থী জুঁই শেরপুর সরকারি মহিলা কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রের বাইরে তার তিন মাস বয়সী কন্যা শিশু সাইদা ফাতিহাকে কোলে নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন শাশুড়ি সুফিয়া বেগম।

সুফিয়া বেগম বলেন, ‘আমার ইচ্ছা, আমার ছেলের বউ পড়াশোনা শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হোক। মা শিক্ষিত হলে তার সন্তানরাও শিক্ষিত হবে। তাই সংসারের কাজের চেয়ে আমি ওর পড়াশোনাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছি।’

তিনি জানান, বকশিগঞ্জ উপজেলার কামালপুর এলাকার বাসিন্দা তার ছেলে আব্দুর রহমানের সঙ্গে জুঁইয়ের বিয়ে হয় এসএসসি পরীক্ষার আগেই। তবে বিয়ের পরও কখনো পুত্রবধূর পড়াশোনা বন্ধ হতে দেননি। বরং সংসারের দায়িত্ব নিজে সামলে নিয়মিত লেখাপড়া চালিয়ে যেতে উৎসাহ দিয়েছেন। এসএসসি পরীক্ষাতেও গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে।

পরীক্ষার্থী জুঁই বলেন, ‘আমার শাশুড়ি সব সময় আমাকে সাহস দিয়েছেন। আজও তিনি আমার শিশুকে দেখাশোনা করছেন বলেই আমি নিশ্চিন্তে পরীক্ষা দিতে পারছি। তার সহযোগিতা না থাকলে এতদূর আসা সম্ভব হতো না।’

ঘটনাটি দেখে শেরপুর সরকারি কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ প্রফেসর শাহ কামাল উদ্দিন বলেন, “এভাবেই একদিন দেশ বদলাবে। এই মাকে আমি স্যালুট জানাই। তিনি বুঝতে পেরেছেন, একজন মা শিক্ষিত হওয়া মানে তার সন্তানরাও শিক্ষিত হওয়া। সেই বিখ্যাত উক্তিটি আজও প্রাসঙ্গিক—‘আমাকে একজন শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাকে একটি শিক্ষিত জাতি উপহার দেব।’”

পরিবারের সহযোগিতা, নারীর শিক্ষার প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এবং মাতৃত্বের পাশাপাশি শিক্ষাজীবন চালিয়ে যাওয়ার এই অনন্য দৃষ্টান্ত শেরপুরে উপস্থিত সবার কাছে অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

৩ মাসের শিশুকে শাশুড়ির কোলে রেখে এইচএসসি পরীক্ষা, পুত্রবধূকে শিক্ষক বানাতে চান শাশুড়ি

আপডেট সময় ০৮:২৪:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

তিন মাস বয়সী শিশুকে শাশুড়ির কোলে রেখে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন এক পরীক্ষার্থী। শেরপুর সরকারি কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রে সোমবার (৬ জুলাই) ইংরেজি প্রথম পত্র পরীক্ষার দিনে দেখা যায় ব্যতিক্রমী ও অনুপ্রেরণাদায়ক এই দৃশ্য, যা উপস্থিত শিক্ষক, অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

পরীক্ষার্থী জুঁই শেরপুর সরকারি মহিলা কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রের বাইরে তার তিন মাস বয়সী কন্যা শিশু সাইদা ফাতিহাকে কোলে নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন শাশুড়ি সুফিয়া বেগম।

সুফিয়া বেগম বলেন, ‘আমার ইচ্ছা, আমার ছেলের বউ পড়াশোনা শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হোক। মা শিক্ষিত হলে তার সন্তানরাও শিক্ষিত হবে। তাই সংসারের কাজের চেয়ে আমি ওর পড়াশোনাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছি।’

তিনি জানান, বকশিগঞ্জ উপজেলার কামালপুর এলাকার বাসিন্দা তার ছেলে আব্দুর রহমানের সঙ্গে জুঁইয়ের বিয়ে হয় এসএসসি পরীক্ষার আগেই। তবে বিয়ের পরও কখনো পুত্রবধূর পড়াশোনা বন্ধ হতে দেননি। বরং সংসারের দায়িত্ব নিজে সামলে নিয়মিত লেখাপড়া চালিয়ে যেতে উৎসাহ দিয়েছেন। এসএসসি পরীক্ষাতেও গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে।

পরীক্ষার্থী জুঁই বলেন, ‘আমার শাশুড়ি সব সময় আমাকে সাহস দিয়েছেন। আজও তিনি আমার শিশুকে দেখাশোনা করছেন বলেই আমি নিশ্চিন্তে পরীক্ষা দিতে পারছি। তার সহযোগিতা না থাকলে এতদূর আসা সম্ভব হতো না।’

ঘটনাটি দেখে শেরপুর সরকারি কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ প্রফেসর শাহ কামাল উদ্দিন বলেন, “এভাবেই একদিন দেশ বদলাবে। এই মাকে আমি স্যালুট জানাই। তিনি বুঝতে পেরেছেন, একজন মা শিক্ষিত হওয়া মানে তার সন্তানরাও শিক্ষিত হওয়া। সেই বিখ্যাত উক্তিটি আজও প্রাসঙ্গিক—‘আমাকে একজন শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাকে একটি শিক্ষিত জাতি উপহার দেব।’”

পরিবারের সহযোগিতা, নারীর শিক্ষার প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এবং মাতৃত্বের পাশাপাশি শিক্ষাজীবন চালিয়ে যাওয়ার এই অনন্য দৃষ্টান্ত শেরপুরে উপস্থিত সবার কাছে অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে।