যুদ্ধ বন্ধে পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ নয়, ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কমানোর শর্ত যুক্তরাষ্ট্রের
- আপডেট সময় ১২:২৫:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
- / ৩২ বার পড়া হয়েছে
যুদ্ধ শেষ করতে হলে ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে হবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
২০২৫ সালের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য ছিল, ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। পরে আলোচনার সময় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আরও কঠোর হয়। তারা ইরানের মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করার দাবি জানায়। মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফও বলেন, ইরানে কোনো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ অর্থাৎ পরমাণু কর্মসূচি থাকা উচিত নয়। বর্তমানে সে অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ভ্যান্স বলেন, শুধু ভবিষ্যতে পারমাণবিক কর্মসূচি কমানোর আশ্বাস দিলে হবে না। ইরানকে বাস্তবে তার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা কমাতে হবে। তাহলেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে ইরানের প্রতিশ্রুতির প্রমাণ মিলবে বলে মনে করে যুক্তরাষ্ট্র।
তিনি বলেন, কোনো দেশ যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না চায়, তাহলে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রাখার প্রয়োজন কী—এটি খুবই মৌলিক একটি বিষয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুদ্ধ বন্ধ এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে একাধিক প্রস্তাব বিনিময় করেছে। তবে ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর সামরিক অভিযান আরও জোরদার হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। তবে এর জন্য ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচিতে দৃশ্যমান ও বাস্তব ছাড় দিতে হবে। শুধু কথার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো পদক্ষেপ নেবে না বলেও জানান তিনি।
ইরানের সিদ্ধান্ত কে নেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা
ভ্যান্স বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে একটি বড় সমস্যা হলো দেশটির সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অনিশ্চয়তা। বর্তমানে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা চলছে।
তবে দেশটির ক্ষমতার কাঠামোয় তাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কতটা, তা স্পষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেন ভ্যান্স। যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর এই অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে বলে তিনি জানান।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও মঙ্গলবার বলেছেন, ইরানে এখন কে মূল সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, সেটিই তার সবচেয়ে বড় সমস্যা।
তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এ বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা ইরানের প্রতিনিধিদের এবং দেশটির সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যবস্থা সম্পর্কে ভালোভাবেই জানেন। তার মতে, বরং মার্কিন কর্মকর্তাদের পরস্পরবিরোধী অবস্থান ও নানা ধরনের বক্তব্যই মূল সমস্যা।
হরমুজে জাহাজ চলাচল নিয়েও কথা বলেন ভ্যান্স। তিনি বলেন, ইরানি সেনারা মাঝে মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালাতে সক্ষম হলেও ওই জলপথ দিয়ে জ্বালানি রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করতে তারা সক্ষম হয়নি।
ভ্যান্স জানান, তিনি যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি বুঝতে সামরিক কমান্ডারদের সঙ্গেও কথা বলেছেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জামের ঘাটতি নিয়ে যে উদ্বেগ রয়েছে, তা তিনি নাকচ করেন।
ভ্যান্স সরাসরি শান্তি আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন কি না, তা বলতে রাজি হননি। তবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন আলোচনায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত এবং শেষ পর্যন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্টই পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনা করছেন।
এদিকে ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। যুদ্ধের পেছনে প্রতি মাসে প্রায় ৩০০ কোটি ডলার ব্যয় হচ্ছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প ও রিপাবলিকানরা রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন।
ভ্যান্স অবশ্য ট্রাম্পের যুদ্ধ পরিচালনার সমালোচনা থেকে ভোটারদের মনোযোগ সরানোর চেষ্টা করছেন। আলাস্কায় এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি আগামী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান।
২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পরিকল্পনা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ভ্যান্স বলেন, তিনি এখনো এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেননি।
সূত্র: রয়টার্স
























