ঢাকা ০৫:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘সেক্স মন্ত্রণালয়’ গঠন নিয়ে আর্মেনিয়ার পার্লামেন্টে এমপিদের কিল-ঘুষি, চেয়ার ছোড়াছুড়ি

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:৩০:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২৩ বার পড়া হয়েছে

‘যৌনতা মন্ত্রণালয়’ (মিনিস্ট্রি অব সেক্স) গঠনের প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে আর্মেনিয়ার পার্লামেন্টে সংসদ সদস্যদের মধ্যে তুমুল মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় একে অপরের দিকে ঘুষি ও চেয়ার ছুড়ে মারতে দেখা যায় আইনপ্রণেতাদের।

চলতি বছরের শুরুর দিকে দেশটির বিরোধী দল ‘স্ট্রং আর্মেনিয়া পার্টি’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে তারা ক্ষমতায় এলে দেশে যেন ‘কোনো অসন্তুষ্ট নারী না থাকে’ তা নিশ্চিত করতে একটি নতুন ‘সেক্স মন্ত্রণালয়’ প্রতিষ্ঠা করবে। তাদের দাবি ছিল, যৌন অসন্তোষের কারণেই মধ্যবয়সী শ্বেতাঙ্গ নারীদের মধ্যে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়ে গেছে এবং এজন্যই এই মন্ত্রণালয় প্রয়োজন।

তবে গত বৃহস্পতিবার আইনসভায় এই প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতার সূত্রপাত হয়। ক্ষমতাসীন দল ‘সিভিল কন্ট্রাক্ট পার্টি’-র সংসদ সদস্য তারন চাখোয়ান বিরোধীদের ‘দুর্নীতিতে নিমজ্জিত’ বলে অভিযুক্ত করেন এবং এই প্রস্তাবিত মন্ত্রণালয়ের জন্য দলটির নেতাকে নারীদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।

চাখোয়ান স্ট্রং আর্মেনিয়ার নেতা নারেক রাপেতিয়ানকে ‘আপাদমস্তক ঝামেলা’ বলে কটাক্ষ করলে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হয়।

একপর্যায়ে বিরোধী এমপিরা আসন ছেড়ে উঠে চাখোয়ান যেখানে বক্তব্য দিচ্ছিলেন সেই ডায়াসের দিকে ছুটে যান এবং উভয় পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী হাতাহাতি শুরু হয়। সংসদ সদস্যরা একে অপরকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে থাকেন।

পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার ও সিভিল কন্ট্রাক্টের সদস্য ভাহাগন আলেকসানিয়ান বিরোধী এমপিদের লক্ষ্য করে একটি চেয়ার ছুড়ে মারেন। অন্যদিকে চাখোয়ানকে বিরোধী দলীয় এমপি গার্নিক দাভতিয়ানের গায়ে পানি ছিটাতে দেখা যায়। অন্যান্য সংসদ সদস্যরা বোতল ছুড়ে মারেন এবং বেশ কয়েকটি টেবিল ভেঙে ফেলেন।

পরবর্তীতে এক সংবাদ সম্মেলনে আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান বলেন, ‘আমি সহিংসতার নিন্দা করি, তবে আজ সিভিল কন্ট্রাক্ট উপদল যে ব্যবস্থা নিয়েছে আমি তাকে সমর্থন করি; কারণ বিরোধী দলে থাকার মানে এই নয় যে কেউ উদ্ধত আচরণ করবে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘চেয়ার ছুড়ে মারা হোক বা অন্যকিছু, এটি ছিল যথাযথ ও সঠিক।’

প্রধানমন্ত্রী ফেসবুকে কৌতুক করে আরও লেখেন যে বিরোধী দলটির নাম ‘স্ট্রং আর্মেনিয়া’ হলেও তাদের এমপিরা ‘শারীরিকভাবে শক্তিশালী নন।’

সেই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে চাখোয়ান উত্তর দেন, ‘আমার কিছুটা খারাপ লাগছে। তারা [স্ট্রং আর্মেনিয়া] লড়াই শুরু করে আর তারপর পালিয়ে যায়।’

চাখোয়ান পরবর্তীতে প্রতিপক্ষের আচরণকে ‘গুণ্ডামি’ হিসেবে অভিহিত করে জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে সংঘাত উসকে দিয়ে মার না খেয়ে পালিয়ে যাওয়া চলবে না।’

অন্যদিকে পার্লামেন্টে এই সংঘর্ষের পক্ষ সমর্থন করেছেন বিরোধী নেতা কারাপেতিয়ানও। তিনি এটিকে ‘খাঁটি আর্মেনীয় ধাঁচের পুরুষে পুরুষে স্বাভাবিক লড়াই’ বলে অভিহিত করেন। বিরোধী এই নেতা যোগ করেন, ‘যারা মাসের পর মাস ধরে আমাদের অতিষ্ঠ করে তুলেছিল, তারা মুখের ওপর একদম কড়া জবাব পেয়েছে।’

হাতাহাতি চলাকালীন স্পিকার প্রথমে ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি অধিবেশন মুলতবি করবেন না, যাতে ‘সবাই এগুলো সরাসরি দেখতে পারে।’ তবে সহিংসতার মাত্রা বেড়ে গেলে তিনি অধিবেশন বিরতি ডাকতে বাধ্য হন।

তবে বিরতি ঘোষণার পরও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। করিডোরেও এই হাতাহাতি চলতে থাকে এবং দুই দলের মাঝখানে নিরাপত্তা কর্মীদের মানবপ্রাচীর তৈরি করতে হয়। বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যকে আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় এবং ছেঁড়া জামাকাপড় পরে চেম্বার থেকে বের হতে দেখা যায়।
এই মারামারির ঘটনায় কোনো ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে দেশটির প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয় স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছে যে এ বিষয়ে তাঁদের কাছে ‘কোনো তথ্য নেই।’

এদিকে পৃথক এক ঘটনায় বৃহস্পতিবার আলবেনিয়ার পার্লামেন্টেও হট্টগোল হয়েছে; সেখানে বিরোধী এমপিরা স্মোক বোমা ফাটিয়েছেন এবং ডায়াস অবরুদ্ধ করেছেন।

বিতর্কিত একটি রিসোর্ট প্রকল্পকে ঘিরে আলবেনিয়াজুড়ে কয়েক মাস ধরে চলা ‘ফ্লেমিংগো আন্দোলন’ পরবর্তীতে দুর্নীতি ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে এক বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নেয়। সেন্ট্রাল ব্যাংক অব আলবেনিয়া সংক্রান্ত একটি আইনের সংশোধনীতে ভোটের সময় ক্ষমতাসীন সোশ্যালিস্ট পার্টির বিরুদ্ধে বিরোধীদলীয় এই হট্টগোল শুরু হয়। সেখানে প্রধানমন্ত্রী এডি রামার পদত্যাগ দাবি করেছেন বিরোধী এমপিরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

‘সেক্স মন্ত্রণালয়’ গঠন নিয়ে আর্মেনিয়ার পার্লামেন্টে এমপিদের কিল-ঘুষি, চেয়ার ছোড়াছুড়ি

আপডেট সময় ০৩:৩০:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

‘যৌনতা মন্ত্রণালয়’ (মিনিস্ট্রি অব সেক্স) গঠনের প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে আর্মেনিয়ার পার্লামেন্টে সংসদ সদস্যদের মধ্যে তুমুল মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় একে অপরের দিকে ঘুষি ও চেয়ার ছুড়ে মারতে দেখা যায় আইনপ্রণেতাদের।

চলতি বছরের শুরুর দিকে দেশটির বিরোধী দল ‘স্ট্রং আর্মেনিয়া পার্টি’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে তারা ক্ষমতায় এলে দেশে যেন ‘কোনো অসন্তুষ্ট নারী না থাকে’ তা নিশ্চিত করতে একটি নতুন ‘সেক্স মন্ত্রণালয়’ প্রতিষ্ঠা করবে। তাদের দাবি ছিল, যৌন অসন্তোষের কারণেই মধ্যবয়সী শ্বেতাঙ্গ নারীদের মধ্যে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়ে গেছে এবং এজন্যই এই মন্ত্রণালয় প্রয়োজন।

তবে গত বৃহস্পতিবার আইনসভায় এই প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতার সূত্রপাত হয়। ক্ষমতাসীন দল ‘সিভিল কন্ট্রাক্ট পার্টি’-র সংসদ সদস্য তারন চাখোয়ান বিরোধীদের ‘দুর্নীতিতে নিমজ্জিত’ বলে অভিযুক্ত করেন এবং এই প্রস্তাবিত মন্ত্রণালয়ের জন্য দলটির নেতাকে নারীদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।

চাখোয়ান স্ট্রং আর্মেনিয়ার নেতা নারেক রাপেতিয়ানকে ‘আপাদমস্তক ঝামেলা’ বলে কটাক্ষ করলে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হয়।

একপর্যায়ে বিরোধী এমপিরা আসন ছেড়ে উঠে চাখোয়ান যেখানে বক্তব্য দিচ্ছিলেন সেই ডায়াসের দিকে ছুটে যান এবং উভয় পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী হাতাহাতি শুরু হয়। সংসদ সদস্যরা একে অপরকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে থাকেন।

পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার ও সিভিল কন্ট্রাক্টের সদস্য ভাহাগন আলেকসানিয়ান বিরোধী এমপিদের লক্ষ্য করে একটি চেয়ার ছুড়ে মারেন। অন্যদিকে চাখোয়ানকে বিরোধী দলীয় এমপি গার্নিক দাভতিয়ানের গায়ে পানি ছিটাতে দেখা যায়। অন্যান্য সংসদ সদস্যরা বোতল ছুড়ে মারেন এবং বেশ কয়েকটি টেবিল ভেঙে ফেলেন।

পরবর্তীতে এক সংবাদ সম্মেলনে আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান বলেন, ‘আমি সহিংসতার নিন্দা করি, তবে আজ সিভিল কন্ট্রাক্ট উপদল যে ব্যবস্থা নিয়েছে আমি তাকে সমর্থন করি; কারণ বিরোধী দলে থাকার মানে এই নয় যে কেউ উদ্ধত আচরণ করবে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘চেয়ার ছুড়ে মারা হোক বা অন্যকিছু, এটি ছিল যথাযথ ও সঠিক।’

প্রধানমন্ত্রী ফেসবুকে কৌতুক করে আরও লেখেন যে বিরোধী দলটির নাম ‘স্ট্রং আর্মেনিয়া’ হলেও তাদের এমপিরা ‘শারীরিকভাবে শক্তিশালী নন।’

সেই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে চাখোয়ান উত্তর দেন, ‘আমার কিছুটা খারাপ লাগছে। তারা [স্ট্রং আর্মেনিয়া] লড়াই শুরু করে আর তারপর পালিয়ে যায়।’

চাখোয়ান পরবর্তীতে প্রতিপক্ষের আচরণকে ‘গুণ্ডামি’ হিসেবে অভিহিত করে জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে সংঘাত উসকে দিয়ে মার না খেয়ে পালিয়ে যাওয়া চলবে না।’

অন্যদিকে পার্লামেন্টে এই সংঘর্ষের পক্ষ সমর্থন করেছেন বিরোধী নেতা কারাপেতিয়ানও। তিনি এটিকে ‘খাঁটি আর্মেনীয় ধাঁচের পুরুষে পুরুষে স্বাভাবিক লড়াই’ বলে অভিহিত করেন। বিরোধী এই নেতা যোগ করেন, ‘যারা মাসের পর মাস ধরে আমাদের অতিষ্ঠ করে তুলেছিল, তারা মুখের ওপর একদম কড়া জবাব পেয়েছে।’

হাতাহাতি চলাকালীন স্পিকার প্রথমে ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি অধিবেশন মুলতবি করবেন না, যাতে ‘সবাই এগুলো সরাসরি দেখতে পারে।’ তবে সহিংসতার মাত্রা বেড়ে গেলে তিনি অধিবেশন বিরতি ডাকতে বাধ্য হন।

তবে বিরতি ঘোষণার পরও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। করিডোরেও এই হাতাহাতি চলতে থাকে এবং দুই দলের মাঝখানে নিরাপত্তা কর্মীদের মানবপ্রাচীর তৈরি করতে হয়। বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যকে আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় এবং ছেঁড়া জামাকাপড় পরে চেম্বার থেকে বের হতে দেখা যায়।
এই মারামারির ঘটনায় কোনো ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে দেশটির প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয় স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছে যে এ বিষয়ে তাঁদের কাছে ‘কোনো তথ্য নেই।’

এদিকে পৃথক এক ঘটনায় বৃহস্পতিবার আলবেনিয়ার পার্লামেন্টেও হট্টগোল হয়েছে; সেখানে বিরোধী এমপিরা স্মোক বোমা ফাটিয়েছেন এবং ডায়াস অবরুদ্ধ করেছেন।

বিতর্কিত একটি রিসোর্ট প্রকল্পকে ঘিরে আলবেনিয়াজুড়ে কয়েক মাস ধরে চলা ‘ফ্লেমিংগো আন্দোলন’ পরবর্তীতে দুর্নীতি ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে এক বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নেয়। সেন্ট্রাল ব্যাংক অব আলবেনিয়া সংক্রান্ত একটি আইনের সংশোধনীতে ভোটের সময় ক্ষমতাসীন সোশ্যালিস্ট পার্টির বিরুদ্ধে বিরোধীদলীয় এই হট্টগোল শুরু হয়। সেখানে প্রধানমন্ত্রী এডি রামার পদত্যাগ দাবি করেছেন বিরোধী এমপিরা।