চরফ্যাশনে দাঁড়িপাল্লার প্রচার করায় নারীর মাথা ফাটালেন যুবদল নেতা
- আপডেট সময় ০২:৩৬:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
- / ৩০ বার পড়া হয়েছে
ভোলার চরফ্যাশনে পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণায় নামায় হাজেরা বেগম নামে এক নারীর মাথা ফাটিয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। এ সময় মাকে বাঁচাতে এলে ওই নারীর ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়েকে বেধড়ক মারধর ও পেটে লাথি মারা হয় বলে জানা গেছে।
গত সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার দক্ষিণ আইচা চর মানিকা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত শাহাবুদ্দিন (৩৭) ওই এলাকার শাহাদাৎ হাওলাদারের ছেলে এবং ইউনিয়ন যুবদলের নেতা বলে জানা গেছে।
চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন হাজেরা বেগম অভিযোগ করে বলেন, রোববার শাহাবুদ্দিন তাকে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাইতে বের হতে বলেন। তিনি এতে অস্বীকৃতি জানান। পরদিন সকালে তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে কাজ করতে বাড়ি থেকে বের হলে শাহাবুদ্দিন তাকে বাধা দেন এবং হুমকি দেন। তিনি সেই হুমকি উপেক্ষা করলে শাহাবুদ্দিন তাকে গালিগালাজ করে মারধর শুরু করেন।
হাজেরা বেগম আরও বলেন, মারধরের সময় তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে শাহাবুদ্দিন ও তার স্ত্রী লাইজু বেগম তার অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে লিমাকে বেধড়ক মারধর করে এবং পেটে লাথি মারেন। এ সময় শাহাবুদ্দিন তার কান ছিঁড়ে অলংকার নিয়ে যান এবং কাঠ দিয়ে মাথায় আঘাত করলে তিনি ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে চিকিৎসক তার মাথায় ছয়টি সেলাই এবং ছিঁড়ে যাওয়া কানে দুটি সেলাই দেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন নারী ও পুরুষ নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে শাহাবুদ্দিন এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে দখল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়নি। তার ভাই হেলালও একইভাবে রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে এলাকায় দখল বাণিজ্যে জড়িত বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
এ ঘটনায় হাজেরা বেগমের পরিবার মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে যুবদল নেতা শাহাবুদ্দিনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে আর ফোন রিসিভ করেননি।
দক্ষিণ আইচা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহসান কবির বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।



















