ঢাকা ০৮:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাতিয়ার সেই ‘ধর্ষণকাণ্ডে’ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:০৬:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ২০ বার পড়া হয়েছে

নোয়াখালীর হাতিয়ায় আলোচিত ধর্ষণ অভিযোগের ঘটনায় পাঁচদিন পর ছয়জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ভুক্তভোগী নারী (৪০) বাদী হয়ে নোয়াখালী জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি করেন। বিচারক এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন- চানন্দী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ধানসিঁড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে আবদুর রহমান (৩২), আবদুল গফুরের ছেলে মো. মতিন (৩৫), হালিম ডুবাইর ছেলে হেলাল উদ্দিন কেরানী (৪০), আবুল কাশেমের ছেলে মো. রুবেল (৩০), ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মোস্তফা সর্দারের ছেলে এমরান হোসেন ওরফে কালা এমরান (৩৫) এবং ২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর আজিমপুর গ্রামের মো. মোস্তফার ছেলে বেলাল মাঝি (৪৮)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টার পর ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে আসামিরা অজ্ঞাতপরিচয় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিয়ে ধানসিঁড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্পে হামলা চালায়। এ সময় তারা বাদীর বসতঘরে প্রবেশ করে তাকে ও তার স্বামীকে মারধর করে। পরে স্বামীকে একটি কক্ষে আটকে রেখে গোসলখানায় নিয়ে ১ নম্বর আসামি আবদুর রহমান তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তারা চলে যায়। পরদিন ভোরে একই ব্যক্তিরা আবারও হামলা চালিয়ে দম্পতিকে মারধর করে এবং বাদীর শ্লীলতাহানি করে। এ সময় ‘শাপলা কলি’র আরেক নারী কর্মীর ঘর দেখিয়ে দিতে চাপ প্রয়োগ করা হয় এবং ওই ঘরেও ভাঙচুর চালানো হয়।

এর আগে ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ভুক্তভোগীকে নোয়াখালীর ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি পুলিশ পাহারায় চিকিৎসাধীন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. নোমান সিদ্দিক রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, অভিযোগ গ্রহণের পর আদালত হাতিয়া থানাকে মামলা রুজু করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী জানান, ভুক্তভোগীর চিকিৎসার জন্য তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। পুলিশের চাহিদাপত্রের আলোকে শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

মেডিকেল বোর্ডে রয়েছেন গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. শিরিন সুলতানা, ডা. ফাতেমা জোয়ান মুনিয়া ও ডা. তাহমিনা আক্তার। ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, আদালতের নির্দেশে মামলা রুজু করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মামলার কপি হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ভুক্তভোগীকে সার্বক্ষণিক পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

হাতিয়ার সেই ‘ধর্ষণকাণ্ডে’ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট সময় ০৪:০৬:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নোয়াখালীর হাতিয়ায় আলোচিত ধর্ষণ অভিযোগের ঘটনায় পাঁচদিন পর ছয়জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ভুক্তভোগী নারী (৪০) বাদী হয়ে নোয়াখালী জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি করেন। বিচারক এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন- চানন্দী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ধানসিঁড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে আবদুর রহমান (৩২), আবদুল গফুরের ছেলে মো. মতিন (৩৫), হালিম ডুবাইর ছেলে হেলাল উদ্দিন কেরানী (৪০), আবুল কাশেমের ছেলে মো. রুবেল (৩০), ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মোস্তফা সর্দারের ছেলে এমরান হোসেন ওরফে কালা এমরান (৩৫) এবং ২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর আজিমপুর গ্রামের মো. মোস্তফার ছেলে বেলাল মাঝি (৪৮)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টার পর ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে আসামিরা অজ্ঞাতপরিচয় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিয়ে ধানসিঁড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্পে হামলা চালায়। এ সময় তারা বাদীর বসতঘরে প্রবেশ করে তাকে ও তার স্বামীকে মারধর করে। পরে স্বামীকে একটি কক্ষে আটকে রেখে গোসলখানায় নিয়ে ১ নম্বর আসামি আবদুর রহমান তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তারা চলে যায়। পরদিন ভোরে একই ব্যক্তিরা আবারও হামলা চালিয়ে দম্পতিকে মারধর করে এবং বাদীর শ্লীলতাহানি করে। এ সময় ‘শাপলা কলি’র আরেক নারী কর্মীর ঘর দেখিয়ে দিতে চাপ প্রয়োগ করা হয় এবং ওই ঘরেও ভাঙচুর চালানো হয়।

এর আগে ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ভুক্তভোগীকে নোয়াখালীর ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি পুলিশ পাহারায় চিকিৎসাধীন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. নোমান সিদ্দিক রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, অভিযোগ গ্রহণের পর আদালত হাতিয়া থানাকে মামলা রুজু করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী জানান, ভুক্তভোগীর চিকিৎসার জন্য তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। পুলিশের চাহিদাপত্রের আলোকে শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

মেডিকেল বোর্ডে রয়েছেন গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. শিরিন সুলতানা, ডা. ফাতেমা জোয়ান মুনিয়া ও ডা. তাহমিনা আক্তার। ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, আদালতের নির্দেশে মামলা রুজু করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মামলার কপি হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ভুক্তভোগীকে সার্বক্ষণিক পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে।