ঢাকা ০৪:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাবিতে সংঘর্ষের ভিডিও করায় সাংবাদিককে মারধর, জোর করে ডিলেট

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৩:১৯:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৬ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) টিএসসিসিতে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে এক সাংবাদিক মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তার মোবাইল ফোন নিয়ে ভিডিও মুছে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।

আতিকুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যনির্বাহী সদস্য এবং বাংলা ট্রিবিউনের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি।

আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। অভিযোগে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

অভিযোগপত্রে আতিকুর রহমান বলেন, “বুধবার রাত ১০টার দিকে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা চলছিল। এ সময় ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে লাঠিসোঁটা হাতে রবীন্দ্র ভবনের দিকে যেতে দেখেন তিনি। ঘটনার সংবাদ সংগ্রহের অংশ হিসেবে তিনি মিছিলটির সামনে থেকে ভিডিও ধারণ করছিলেন।”

কিছুক্ষণ পর ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে ঘিরে ধরেন এবং তার বিভাগ ও ভিডিও ধারণের কারণ জানতে চান। তিনি সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও তাকে ভিডিও মুছে ফেলতে বলা হয়। একপর্যায়ে চাপের মুখে তিনি ধারণ করা ভিডিওটি মুছে ফেলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন।

আতিকুরের অভিযোগ, ভিডিও মুছে ফেলার পরও কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে তাতে থাকা অন্য ভিডিওগুলোও মুছে দেওয়া হয়।

অভিযোগে তিনি আরও বলেন, সাংবাদিক হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ঘটনা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণ করা তার পেশাগত দায়িত্বের অংশ। দায়িত্ব পালনকালে হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ভিডিও মুছে দেওয়ার ঘটনায় তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ ধরনের ঘটনা তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তার পাশাপাশি ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়।

এ বিষয়ে প্রক্টরের পক্ষে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং কমিটিকে তিন দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহে প্রক্টরিয়াল টিম সহযোগিতা করছে।

তিনি আরও বলেন, “সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তদন্তে প্রতিটি ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই শেষে যারা দোষী সাব্যস্ত হবেন, তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

রাবিতে সংঘর্ষের ভিডিও করায় সাংবাদিককে মারধর, জোর করে ডিলেট

আপডেট সময় ০৩:১৯:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) টিএসসিসিতে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে এক সাংবাদিক মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তার মোবাইল ফোন নিয়ে ভিডিও মুছে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।

আতিকুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যনির্বাহী সদস্য এবং বাংলা ট্রিবিউনের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি।

আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। অভিযোগে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

অভিযোগপত্রে আতিকুর রহমান বলেন, “বুধবার রাত ১০টার দিকে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা চলছিল। এ সময় ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে লাঠিসোঁটা হাতে রবীন্দ্র ভবনের দিকে যেতে দেখেন তিনি। ঘটনার সংবাদ সংগ্রহের অংশ হিসেবে তিনি মিছিলটির সামনে থেকে ভিডিও ধারণ করছিলেন।”

কিছুক্ষণ পর ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে ঘিরে ধরেন এবং তার বিভাগ ও ভিডিও ধারণের কারণ জানতে চান। তিনি সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও তাকে ভিডিও মুছে ফেলতে বলা হয়। একপর্যায়ে চাপের মুখে তিনি ধারণ করা ভিডিওটি মুছে ফেলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন।

আতিকুরের অভিযোগ, ভিডিও মুছে ফেলার পরও কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে তাতে থাকা অন্য ভিডিওগুলোও মুছে দেওয়া হয়।

অভিযোগে তিনি আরও বলেন, সাংবাদিক হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ঘটনা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণ করা তার পেশাগত দায়িত্বের অংশ। দায়িত্ব পালনকালে হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ভিডিও মুছে দেওয়ার ঘটনায় তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ ধরনের ঘটনা তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তার পাশাপাশি ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়।

এ বিষয়ে প্রক্টরের পক্ষে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং কমিটিকে তিন দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহে প্রক্টরিয়াল টিম সহযোগিতা করছে।

তিনি আরও বলেন, “সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তদন্তে প্রতিটি ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই শেষে যারা দোষী সাব্যস্ত হবেন, তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”