ঢাকা ০২:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুরির আশঙ্কায় সন্তানের মরদেহ পাহারা দিতে কবরস্থানে বাবা

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ১২:২১:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১৮ বার পড়া হয়েছে

মুন্সীগঞ্জের টংগিবাড়ী উপজেলায় বজ্রপাতে নিহত যুবক আরাফাত খানের কবর দাফনের পর থেকেই তার পরিবার প্রতিরাতে কবরস্থানে পাহারা দিচ্ছে। কবরের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা থেকেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন স্বজনরা।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার কামারখাড়া সামাজিক কবরস্থানে ছেলের কবরের পাশে বসে আছেন বাবা জসিম খান। লাশ চুরির আশঙ্কায় তারা রাতভর কবর পাহারা দিচ্ছেন।

জসিম খান বলেন, তার ছেলে আরাফাত দর্জির কাজ করে পরিবার চালাত। গরুর জন্য ঘাস আনতে গিয়ে বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয়দের কাছ থেকে বজ্রপাতে নিহতদের লাশ চুরির ঘটনার কথা শুনে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। সেই ভয় থেকেই কবর পাহারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তারা।

তিনি জানান, অসুস্থতার কারণে সবসময় নিজে থাকতে পারেন না। তাই ঋণ করে লোক ভাড়া করে পাহারার ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। এতে বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হলেও ছেলের কবর রক্ষার জন্য তা করতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে তারা কিছুটা স্বস্তি পেতেন বলেও জানান তিনি।

এদিকে স্থানীয়রা বিষয়টিকে মানবিক ও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করে কবরস্থানের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন, যাতে পরিবারটি এ দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পায়।

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার মুন্সীগঞ্জের টংগিবাড়ী উপজেলায় পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় আরাফাত ও রিজান ঢালী নামে দুইজনের মৃত্যু হয়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

চুরির আশঙ্কায় সন্তানের মরদেহ পাহারা দিতে কবরস্থানে বাবা

আপডেট সময় ১২:২১:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

মুন্সীগঞ্জের টংগিবাড়ী উপজেলায় বজ্রপাতে নিহত যুবক আরাফাত খানের কবর দাফনের পর থেকেই তার পরিবার প্রতিরাতে কবরস্থানে পাহারা দিচ্ছে। কবরের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা থেকেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন স্বজনরা।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার কামারখাড়া সামাজিক কবরস্থানে ছেলের কবরের পাশে বসে আছেন বাবা জসিম খান। লাশ চুরির আশঙ্কায় তারা রাতভর কবর পাহারা দিচ্ছেন।

জসিম খান বলেন, তার ছেলে আরাফাত দর্জির কাজ করে পরিবার চালাত। গরুর জন্য ঘাস আনতে গিয়ে বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয়দের কাছ থেকে বজ্রপাতে নিহতদের লাশ চুরির ঘটনার কথা শুনে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। সেই ভয় থেকেই কবর পাহারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তারা।

তিনি জানান, অসুস্থতার কারণে সবসময় নিজে থাকতে পারেন না। তাই ঋণ করে লোক ভাড়া করে পাহারার ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। এতে বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হলেও ছেলের কবর রক্ষার জন্য তা করতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে তারা কিছুটা স্বস্তি পেতেন বলেও জানান তিনি।

এদিকে স্থানীয়রা বিষয়টিকে মানবিক ও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করে কবরস্থানের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন, যাতে পরিবারটি এ দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পায়।

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার মুন্সীগঞ্জের টংগিবাড়ী উপজেলায় পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় আরাফাত ও রিজান ঢালী নামে দুইজনের মৃত্যু হয়।