ঢাকা ১২:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাংবাদিকের উপর হামলা, পরে মাদক কারবারির পক্ষে মানববন্ধন; দায় নিতে নারাজ ছাত্রদল

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৭:২৪:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • / ২৭ বার পড়া হয়েছে

দর্শনা প্রেসক্লাবে হামলা, সাংবাদিক নির্যাতন এবং পরে মাদক কারবারির পক্ষে মানববন্ধন। ছাত্রদল নেতা কর্তৃক ঘটনাগুলোর ধারাবাহিকতায় পুরো এলাকায় তৈরি হয়েছে চরম উদ্বেগ, ক্ষোভ ও উত্তেজনা। সম্প্রতি এসব ঘটনায় নতুন নতুন তথ্য উঠে আসছে সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, দর্শনা থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়েল ইসলাম লিওনের নেতৃত্বে প্রেসক্লাবে হামলা ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজেকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক দাবি করে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন, যা দলীয় শৃঙ্খলার জন্যই শুধু নয়, পুরো এলাকার আইন-শৃঙ্খলার জন্যও হুমকি হয়ে উঠেছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, শুক্রবার রাতে মদ্যপ অবস্থায় প্রেসক্লাব ভবনের দেয়ালে উলঙ্গ হয়ে প্রসাব করা, প্রেসক্লাবে প্রবেশ করে অশোভন আচরণ, সাংবাদিকদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি এবং পরবর্তীতে দলবল নিয়ে ঢুকে এক সাংবাদিককে মারধর করা হয়।

রাত সাড়ে ১০টার দিকে পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, সৃষ্টি করা হয় মব এবং ভাঙচুরের চেষ্টা চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হতে বাধ্য হয় যা পুরো ঘটনার ভয়াবহতা স্পষ্ট করে।

এরপর রোববার (২৬ এপ্রিল) রেলবাজার বটতলায় আরো বিস্ময়কর ঘটনা ঘটে।

একজন চিহ্নিত মাদক কারবারির পক্ষে মানববন্ধন আয়োজন করা হয়, যেখানে ছাত্রদলের নেতা রিয়েল ইসলাম লিওনের নেতৃত্বে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। শুধু তাই নয়, ইয়াবাসহ আটক এক ব্যক্তিকে বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত দাবি করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেই অভিযোগ তোলার চেষ্টা করা হয় যা স্থানীয়দের কাছে গভীরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে।

সাংবাদিক মহল এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছে, একটি সুসংগঠিত ছাত্রসংগঠনের নাম ব্যবহার করে এ ধরনের নিন্দনীয় ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। যারা সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়, তারা কখনোই গণতন্ত্র বা রাজনীতির অংশ হতে পারে না। দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

স্থানীয় সচেতন মহলের ভাষ্য আরো কঠোর। তাদের মতে, রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে মাদক কারবারি ও সমাজবিরোধীদের রক্ষা করার অপচেষ্টা নতুন কিছু নয়, তবে এভাবে প্রকাশ্যে মানববন্ধন করা চরম ধৃষ্টতা। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও অনাস্থা তৈরি হচ্ছে। দ্রুত এসব অপতৎপরতা বন্ধ না হলে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে। সব মিলিয়ে, দর্শনার সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো শুধু একটি বিচ্ছিন্ন সহিংসতার ঘটনা নয় বরং এটি রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহার, সাংবাদিক নির্যাতন এবং মাদক সংশ্লিষ্ট অপতৎপরতার একটি উদ্বেগজনক প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।

এখন সময়ের দাবি সত্য উদঘাটন, দোষীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। অন্যথায় এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে আরো বড় সঙ্কটের জন্ম দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে দর্শনা থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নাফিউল ইবনে লিমন স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আমি। কেউ যদি নিজেকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক দাবি করে, সেটি গঠনতন্ত্রবিরোধী। মাদক কারবারি বা মাদকসেবীদের সাথে ছাত্রদলের কোনো সম্পর্ক নেই। কেউ ব্যক্তিগতভাবে সম্পৃক্ত থাকলে তার দায়ভার তাকেই নিতে হবে সংগঠন নেবে না।’

জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহজাহান খান বলেন, ‘মাদক কারবারি বা সেবীর পক্ষে ছাত্রদলের কোনো সম্পৃক্ততার সুযোগ নেই। যদি কেউ এমন কাজ করে থাকে, তা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত দায়। সাংবাদিকদের সাথে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনায় আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি এবং তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মমিন মালিতা বলেন, ‘ছাত্রদলের কোনো সদস্যের মাদক কারবারি বা সেবীদের সাথে সম্পর্ক রাখার কোনো সুযোগ নেই। তাদের পক্ষে মানববন্ধন করা বা সহযোগিতা করা সম্পূর্ণভাবে দলীয় নীতির পরিপন্থী। কেউ যদি এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে, তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার রুহুল কবীর খান বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের পুলিশ কাজ করছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

সাংবাদিকের উপর হামলা, পরে মাদক কারবারির পক্ষে মানববন্ধন; দায় নিতে নারাজ ছাত্রদল

আপডেট সময় ০৭:২৪:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

দর্শনা প্রেসক্লাবে হামলা, সাংবাদিক নির্যাতন এবং পরে মাদক কারবারির পক্ষে মানববন্ধন। ছাত্রদল নেতা কর্তৃক ঘটনাগুলোর ধারাবাহিকতায় পুরো এলাকায় তৈরি হয়েছে চরম উদ্বেগ, ক্ষোভ ও উত্তেজনা। সম্প্রতি এসব ঘটনায় নতুন নতুন তথ্য উঠে আসছে সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, দর্শনা থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়েল ইসলাম লিওনের নেতৃত্বে প্রেসক্লাবে হামলা ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজেকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক দাবি করে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন, যা দলীয় শৃঙ্খলার জন্যই শুধু নয়, পুরো এলাকার আইন-শৃঙ্খলার জন্যও হুমকি হয়ে উঠেছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, শুক্রবার রাতে মদ্যপ অবস্থায় প্রেসক্লাব ভবনের দেয়ালে উলঙ্গ হয়ে প্রসাব করা, প্রেসক্লাবে প্রবেশ করে অশোভন আচরণ, সাংবাদিকদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি এবং পরবর্তীতে দলবল নিয়ে ঢুকে এক সাংবাদিককে মারধর করা হয়।

রাত সাড়ে ১০টার দিকে পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, সৃষ্টি করা হয় মব এবং ভাঙচুরের চেষ্টা চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হতে বাধ্য হয় যা পুরো ঘটনার ভয়াবহতা স্পষ্ট করে।

এরপর রোববার (২৬ এপ্রিল) রেলবাজার বটতলায় আরো বিস্ময়কর ঘটনা ঘটে।

একজন চিহ্নিত মাদক কারবারির পক্ষে মানববন্ধন আয়োজন করা হয়, যেখানে ছাত্রদলের নেতা রিয়েল ইসলাম লিওনের নেতৃত্বে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। শুধু তাই নয়, ইয়াবাসহ আটক এক ব্যক্তিকে বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত দাবি করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেই অভিযোগ তোলার চেষ্টা করা হয় যা স্থানীয়দের কাছে গভীরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে।

সাংবাদিক মহল এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছে, একটি সুসংগঠিত ছাত্রসংগঠনের নাম ব্যবহার করে এ ধরনের নিন্দনীয় ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। যারা সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়, তারা কখনোই গণতন্ত্র বা রাজনীতির অংশ হতে পারে না। দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

স্থানীয় সচেতন মহলের ভাষ্য আরো কঠোর। তাদের মতে, রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে মাদক কারবারি ও সমাজবিরোধীদের রক্ষা করার অপচেষ্টা নতুন কিছু নয়, তবে এভাবে প্রকাশ্যে মানববন্ধন করা চরম ধৃষ্টতা। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও অনাস্থা তৈরি হচ্ছে। দ্রুত এসব অপতৎপরতা বন্ধ না হলে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে। সব মিলিয়ে, দর্শনার সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো শুধু একটি বিচ্ছিন্ন সহিংসতার ঘটনা নয় বরং এটি রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহার, সাংবাদিক নির্যাতন এবং মাদক সংশ্লিষ্ট অপতৎপরতার একটি উদ্বেগজনক প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।

এখন সময়ের দাবি সত্য উদঘাটন, দোষীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। অন্যথায় এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে আরো বড় সঙ্কটের জন্ম দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে দর্শনা থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নাফিউল ইবনে লিমন স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আমি। কেউ যদি নিজেকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক দাবি করে, সেটি গঠনতন্ত্রবিরোধী। মাদক কারবারি বা মাদকসেবীদের সাথে ছাত্রদলের কোনো সম্পর্ক নেই। কেউ ব্যক্তিগতভাবে সম্পৃক্ত থাকলে তার দায়ভার তাকেই নিতে হবে সংগঠন নেবে না।’

জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহজাহান খান বলেন, ‘মাদক কারবারি বা সেবীর পক্ষে ছাত্রদলের কোনো সম্পৃক্ততার সুযোগ নেই। যদি কেউ এমন কাজ করে থাকে, তা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত দায়। সাংবাদিকদের সাথে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনায় আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি এবং তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মমিন মালিতা বলেন, ‘ছাত্রদলের কোনো সদস্যের মাদক কারবারি বা সেবীদের সাথে সম্পর্ক রাখার কোনো সুযোগ নেই। তাদের পক্ষে মানববন্ধন করা বা সহযোগিতা করা সম্পূর্ণভাবে দলীয় নীতির পরিপন্থী। কেউ যদি এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে, তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার রুহুল কবীর খান বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের পুলিশ কাজ করছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’