কোম্পানি কমান্ডার আইয়ুব বিন হায়দার
ফজলুর রহমান ট্রেনিংয়ের পর রাইফেলই হাতে নেননি
- আপডেট সময় ০২:৫৭:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
- / ৫১ বার পড়া হয়েছে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে গতকাল কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান জাতীয় সংসদে মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রসঙ্গে বক্তব্য দিয়েছেন। তার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সংসদে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, হট্টগোল, বাক-বিতণ্ডা দেখা দেয়। পরে সে ঘটনার ভিডিও সারাদেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
এরই মধ্যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। যেখানে একাত্তরর ঘাতক বইয়ের লেখক ও যুদ্ধকালীন সময়ে কিশোরগঞ্জের অন্যতম কোম্পানি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আইয়ুব বিন হায়দার অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানকে মিথ্যাবাদী আখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানান, ফজলুর রহমান কোম্পানি কমান্ডার ছিলেন না এবং তিনি রাইফেল নিয়ে যুদ্ধও করেননি।
গত ২০২৫ সালের ১৪ অক্টোবর স্থানীয় গণমাধ্যম কিশোরগঞ্জ প্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব অভিযোগ তোলেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা। গত বছরের সাক্ষাৎকার থাকলেও গতকাল সংসদে ফজলুর রহমানের বক্তব্য দেওয়ার পরই এ ভিডিওটি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে কোম্পানি কমান্ডার আইয়ুব বিন হায়দারকে বলতে শোনা যায়, ‘ফজলুর রহমান ভাইকে আমরা সম্মান করি। সে রাজনীতি করে তবে তার কোনো চরিত্র আছে বলে আমি মনে করি না। একবার আওয়ামী লীগ, একবার গামছা, একবার টেলিভিশন, এখন আবার ধানের শীষ। এরপর সে সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা বলে। সে ছিল বিএলএফ, আমার ভাই বিএলএফ ছিল, আমার চাচাতো ভাই বিএলএফ ছিল। তারা ট্রেনিং দেওয়ার পর কোনোদিন রাইফেল হাতে নেয় নাই। দেশ স্বাধীন হইছে, আর তারা আসছে।’
তিনি বলেন, ‘কিন্তু, আজকে দেখা যায় মোবাইলে সে এমনভাবে বিবৃতি দিচ্ছে যে, সারা ওয়ার্ল্ডে সে নাম করে ফেলতেছে, রাজাকার কইয়া কইয়া। সে বলতেছে, ‘সে নাকি কোম্পানি কমান্ডার ছিল। তার অধীনে ৯০০ মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধ করছে, সে ব্যাংকারী ছিল, সে সাঁতরাইয়া গেছে, রক্ত দিছে।’ এগুলি সম্পূর্ণ মিথ্যা।’
সেসময় এ মুক্তিযোদ্ধা আরও বলেছিলেন, ‘এ ধরনের মিথ্যাবাদীকে ভোট দেওয়া আমি মনে করি উচিত না। একজন মিথ্যাবাদী এইভাবে মিথ্যা কথা বলবে কেন? বলতে পারে যে, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা, আমি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কথা বলব, আমাকে কেউ ভালোবাসুক বা না বাসুক। কিন্তু সে সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা বলতেছে। কারণ, অষ্টগ্রামের ভিতরে একমাত্র ইটনার মাহবুব আলম এবং আমি আইয়ুব বিন হায়দারই কোম্পানি কমান্ডার ছিলাম। তখন আর কোনো কমান্ডার ছিল না। আর এখন সেই ফজলুল সাহেব কি করে বলে যে, যুদ্ধ করছে, সে মুক্তিযোদ্ধার কমান্ডার? তারে কে চিনে?’
কিশোরগঞ্জের এ কোম্পানি কমান্ডার বলেন, ‘আমি চাই, এই ধরনের কোনো মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে রাজনীতি করা উচিত না। যারা এই ধরনের বক্তব্য দিয়া রাজনীতি করে এমপি হয়, মন্ত্রী হয়, এরা গিয়া কি করবে? তারা এই মিথ্যার কাজই করবে। তারাও লোটপাট করবে। কাজেই আপনারা জেনে রাখবেন যে, সে কোনো মুক্তিযোদ্ধার কমান্ডারও ছিল না এবং সে কোনোদিন রাইফেল নিয়ে যুদ্ধ করে নাই। দুই চারজন ছাড়া অষ্টগ্রামের কোনো মুক্তিযোদ্ধার সাথে তার কোনো পরিচয় নাই।’
জনগণকে আহ্বান জানিয়ে আইয়ুব বিন হায়দার বলেন, ‘ফজলু সাহেব নির্বাচন করুক, তার অধিকার আছে। কিন্তু তার কাছ থেকে আমি আমার দেশবাসীকে এবং মিঠামইন অষ্টগ্রামের যারা আছে, তাদেরকে বলব যে, এই ধরনের মিথ্যাবাদীর পেছনে যেন কেউ না যায়। একজন সৎ মানুষ যদি পাই, আমরা তার পেছনে কাজ করব।’
সবশেষে তিনি জানান, তিনি ভারত থেকে ট্রেনিং প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। তার বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন এলাকায়। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার ২১ জন আত্মীয় স্বজন পাকিস্তানিদের হাতে শহীদ হন। তিনি তৎকালীন সময়ে নিজ এলাকার কোম্পানি ছিলেন।
এদিকে, গতকাল মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৩তম দিনে সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের বক্তব্য ঘিরে জাতীয় সংসদে প্রায় ১০ মিনিটের মতো চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, হট্টগোল, বাক-বিতণ্ডা দেখা দেয়। এদিন সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
সংসদে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ কাউকে নিবৃত্ত করতে পারছিলেন না। তিনি এক পর্যায়ে দাঁড়িয়ে যান। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে স্পিকার সরকারি ও বিরোধী দলের উদ্দেশে বলেন, ‘সারা জাতি দেখছে। সরাসরি সম্প্রচার হচ্ছে। সংসদ যদি বিধি মোতাবেক না চলে, তাহলে এই সংসদ আর থাকবে না।’ সদস্যদের কর্মকাণ্ডে শিশুরাও লজ্জা পাবে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘যারা এরই মধ্যে দাদা হয়ে গিয়েছেন, তাদের নাতিরা হয়তো এখানে গ্যালারিতে বসে দেখছেন। তারা কী ভাববে এ সম্পর্কে?’
মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে ৫ আগস্টের তুলনা করার কথা উল্লেখ করে বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমি বলবো, এই কথাটা বলাই অন্যায়। কারণ মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে ৫ আগস্টের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে প্রশান্ত মহাসাগরের সঙ্গে ডোবার তুলনা করা।’
বিরোধী দলের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তারা বলেছিল কোনও মুক্তিযুদ্ধ হয় নাই। যুদ্ধ হইছে, সেদিন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমি বলেছিলাম, এই আল বদরের বাচ্চারা, এখনও কিন্তু ফজলুর রহমান জীবিত আছে। মুক্তিযুদ্ধ হইছে, মক্তিযুদ্ধই সত্য। ৩০ লাখ মানুষ জীবন দিয়েছেন এটাও সত্য। আমরা সেদিন তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করেছিলাম।’
ফজলুর রহমান বলেন, ‘অনেক চক্রান্তের মধ্য দিয়ে ইলেকশন হইছে, সেই ইলেকশনে তারা কী করেছে। আজকে যারা আমার ডানদিকে (বিরোধী দল) বসে আছে, তারা কী করেছে। তারা যা করেছে সেটা কল্পনা করার মতো না। সেই চক্রান্তের ভেতর দিয়ে যখন তারা প্রচার করতে শুরু করলো, দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পেয়ে তারা পাস করবে। আমি ফজলুর রহমান বলেছিলাম, জামায়াত জোট যদি দুই-তৃতীয়াংশ পায়, তাহলে আমি বিষ খাবো। তারা কখনও যুদ্ধে জয়লাভ করতে পারে না, রাজনৈতিক যুদ্ধে। কারণ তাদের পূর্বপুরুষ বাংলাদেশ চায় নাই। বাংলাদেশ যদি থাকে এই বাংলায় শুধু বেলী, চামিলি আর জুঁই ফুল ফোটে না, এদেশের রক্ত গোলাপ, রক্তজবা ফোটে। এদেশের জঙ্গলে শুধু কোকিল ডাকে না, এদেশের জঙ্গলে রয়েল বেঙ্গল টাইগারও থাকে। যতদিন রয়েল বেঙ্গল টাইগার থাকবে। মুক্তিযোদ্ধারা জিতবে, রাজাকার কোনোদিন এদেশে জয়লাভ করতে পারবে না। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলে গেলাম।’
এসময় বিরোধী দলের সদস্যরা হইচই শুরু করলে ফজলুর রহমান স্পিকারের কাছে আরও পাঁচ মিনিট সময় চান। স্পিকার তিন মিনিট সময় বাড়িয়ে দেন।
এসময় ফজলুর রহমান বলেন, ‘হ্যাঁ আমার বক্তব্যের পরে বলবে আমরা কী মুক্তিযুদ্ধ করি নাই? যেমন বিরোধী দলের নেতা বলেন, উনাকে আমি অসম্মান করি না, সব সময় মাননীয় বলে কথা বলি। কিন্তু উনার দলের লোকজন এখানে বসে আছে, তারা আমাকে ‘ফজা পাগলা’ বলে কথা বলে। তারা নাকি সভ্য, তারা ইসলাম—।’ এ সময় সবাই হেসে ওঠেন। ফজলুর রহমান বলেন, ‘(বিরোধী দলীয় নেতা) উনি বলেন— আমার দাঁড়ি পাকা, চোখের সমস্ত পাকা, উনি আমার ১০ বছরের ছোট। আমার বয়স ৭৮ বছর। আমি ওনাকে—।’
এই পর্যায়ে ফজলুর রহমানের কাছে স্পিকার জানতে চান, আপনাকে কেউ ‘ফজা পাগলা’ এই ধরনের উক্তি করেছেন? এরকম সংসদে কেউ বলে নাই তো। আপনি কেন নিজের—।
এসময় ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমি যে কথাটা বলতে চেয়েছিলাম, বিরোধী দলের নেতা বলেছেন— উনি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোক এবং উনি শহীদ পরিবারের লোক এবং উনি জামায়াতে ইসলাম করেন। এটা ডাবল অপরাধ। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোক কেউ জামায়াত করতে পারে না।’ এসময় সংসদে ব্যাপক হইচই শুরু করেন বিরোধী দলের সদস্যরা।
স্পিকার বলেন, ‘মাননীয় সদস্যবৃন্দ উনাকে বলতে দেন। মাননীয় সদস্যবৃন্দ অর্ডার অর্ডার। আপনারা শৃঙ্খলা রক্ষা করুন। মাননীয় সদস্যবৃন্দ সংসদের শৃঙ্খলা রক্ষা করুন।’ তখন ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমি আবারও বলে রাখলাম, শহীদ পরিবারের লোক জামায়াত করতেই পারে না। আর জামায়াত করলে ডাবল অপরাধ করছেন।’
এই বক্তব্যের পর বিরোধী দলের সদস্যরা দাঁড়িয়ে একযোগে হৈচৈ ও প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। এ পর্যায়ে ফজলুর রহমান বক্তব্য চালিয়ে যেতে চাইলে বিরোধী দলের সদস্যরা আরও প্রতিক্রিয়া জানাতে থাকেন।
ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমি ওনাদের কিন্তু খারাপ কিছু বলি নাই।’ এসময় স্পিকার ফজলুর রহমানকে বসার এবং একটু অপেক্ষা করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি বিরোধী দলের সদস্যদের ধৈর্য্য ধরার আহ্বান জানান।
ফজলুর রহমানের বক্তব্যের সময় জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের এমপিদের দাঁড়িয়ে হইচই করতে দেখা যায়। সরকারি দলের এমপিদেরও দাঁড়িয়ে হইচই করতে দেখা যায়। এসময় এনসিপির সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত, আব্দুল্লাহ আল আমিন, আতিকুর রহমান মোজাহিদ বসে ছিলেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ নিজ আসন থেকে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রণ আনার চেষ্টা করেন। পরে তিনি বসে পড়েন।
এসময় বিরোধী দলীয় নেতা মো. শফিকুর রহমান দাঁড়িয়ে কিছু বলতে চাইলে, তাকে উদ্দেশ করে স্পিকার বলেন, ‘মাননীয় বিরোধী দলীয় নেতা বসুন। আমি বললে তারপর আপনি বলুন।’ এসময় সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে স্পিকার কথা বলেন। এসময় স্বাভাবিক হলে জামায়াত নেতারা তাদের আসনে বসেন। পরে স্পিকার ফজলুর রহমানকে তিন মিনিট সময়ের মধ্যে বক্তব্য শেষ করার অনুরোধ করেন।
হৈচৈ আরও তীব্র হলে স্পিকার সদস্যদের বসতে বলেন। স্পিকার বলেন, ‘মাননীয় সদস্যবৃন্দ একটু মনোযোগ দিয়ে আমার কথাটি শোনার চেষ্টা করুন। স্পিকারের কথা শোনার চেষ্টা করুন। মাননীয় সদস্যবৃন্দ একটা কথা, আপনারা মনোযোগ দিয়ে শোনেন।’ স্পিকার বলেন, ‘এটি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ। এখানে প্রত্যেকেই নির্বাচিত হয়ে এসেছেন।’
স্পিকার বলেন, ‘সারা জাতি দেখছে। সরাসরি সম্প্রচার হচ্ছে। সবাই আপনারা নির্বাচিত সদস্য, এখানে সবাই জনগণের ভোটে নির্বাচিত সদস্য। আমি প্রতিদিনই বলি যে কার্যপ্রণালিবিধির বইটা একটু পড়েন। যদি এই সংসদ যদি বিধি মোতাবেক পরিচালিত না হয়, এটি আর জাতীয় সংসদ থাকবে না। অতীতে জাতীয় সংসদ সম্পর্কে অনেক তিক্ত অভিজ্ঞতা আছে। প্রথমে নজমুল হুদা তৎকালীন মাননীয় সদস্য একটা বক্তব্য করলেন, সদস্যরা ওয়াকআউট করে চলে গেলেন। আমরা ভাবলাম যে আধা ঘণ্টা পরে আসবে। ওই বয়কট দুই বছর চলেছে। সুতরাং সামান্য কারণে উত্তেজনা সৃষ্টি করা ঠিক নয়। প্রত্যেকেরই বাকস্বাধীনতা আছে। প্রত্যেক সদস্য এখন ইভেন্ট ৩৭০ বিধিতে দলীয় নেগলেক্ট করে উপেক্ষা করেও ব্যক্তিগত মতামত এখন সবাই দিতে পারে।’
স্পিকার বলেন, ‘এখানে প্রত্যেকেরই বাক-স্বাধীনতা আছে। যদি কোনও সদস্য সরকার দলের সদস্য আর বিরোধী দলের সদস্যের মতো হবে এমন তো হতে পারে না। এজন্য একটি সরকারি দল, একটি বিরোধী দল এখানে আছে। জনগণ এভাবে নির্ধারিত করে দিয়েছে। যদি সরকারি দলের কোনও সদস্য তার বক্তব্যে আপনাদের আপত্তি থাকে, আপনারা তার বিরুদ্ধে তিনি যা বলেছেন সেই যুক্তি খন্ডন করুন। কিন্তু এই যে শিশুরা লজ্জা পাবে। এই ধরনের যদি বয়স্ক সদস্যমণ্ডলী ব্যক্তি বয়স্ক, যারা অলরেডি দাদা হয়ে গিয়েছেন তাদের নাতিরা হয়তো এখানে গ্যালারিতে বসে দেখছে। তারা কী ভাববে এটা সম্পর্কে?’
স্পিকার বলেন, ‘সংসদের স্পিকার যখন দাঁড়ায় তখন এটি অবশ্যই কর্তব্য সবাই এখানে বসে পড়বেন। আমাকে তো আপনারাই স্পিকার বানিয়েছেন। আমি সংসদের অভিভাবকের প্রতি যদি সম্মান আপনাদের না থাকে, তাহলে জাতীয় সংসদের প্রতি মানুষের কোনও রেসপেক্ট থাকবে না আগামী দিনে।’
স্পিকার আরও বলেন, ‘ফজলুর রহমান সাহেব যা বলেছেন, এরপরেই আপনাদের একজনকে টাইম দেবো। প্রয়োজন হলে টাইম বাড়িয়ে দেবো। তার যুক্তি খণ্ডন করুন। ফজলুর রহমান ও বিরোধীদলীয়ে নেতা অসংসদীয় কোনও কথা বললেও তা পরীক্ষা করে এক্সপাঞ্জ করে দেবো। কিন্তু বক্তব্যের সময় তাকে ডিস্টার্ব করবে না। জনাব সদস্য ফজলুর রহমান আপনি তিন মিনিটে আপনার বক্তব্য শেষ করেন। তারপর আমি বিরোধী দলের নেতার বক্তব্য শুনবো।’
পরে আবার বক্তব্য দেন ফজলুর রহমান। এসময় ফজলুর রহমান ১৯৭১ সালের শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের বিষয়ে কথা বলেন। তখন তিনি বলেন, ‘বুদ্ধিজীবীদের হত্যাকারীদের বলা হয় আল-বদর। আল-বদর কারা আপনারা জানেন। আমার দুর্ভাগ্য, প্রথম দিন (১২ মার্চ) এখানে কোনও বাতি ছিল না, আমি কিছু শুনতে পারি নাই। এই হাউসে তাদের ব্যাপারেও শোক প্রস্তাব হয়েছিল। আমি একা হলেও এটার প্রতিবাদ করতাম। কিন্তু আমার দল এটা করছে তাই চুপ করে ছিলাম। আমার কথাটা পরিষ্কার। কিন্তু এই সংসদ সম্পর্কে আজ না হলেও কাল, কাল না হলেও পরশু ইতিহাসে ভুল বার্তা যাবে— যুদ্ধাপরাধীদের বিষয়ে শোক প্রস্তাবের কারণে।’






















