ঢাকা ০৩:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফিডিংয়ের খাবার খেয়ে অসুস্থ শিক্ষার্থীরা, শিক্ষা অফিসারের মামলা

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০১:৫২:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৩৪ বার পড়া হয়েছে

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার শংকরবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ এর ধারায় মামলাটি দায়ের করেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সাইফুল ইসলাম বলেন, গত ২২ তারিখ ‘স্কুল ফিডিং প্রকল্পের’ খাবার খেয়ে সদর উপজেলার শংকরবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার পরিপ্রেক্ষিতে নিম্নমানের ও বাসি পচা খাবার সরবরাহ করার অভিযোগে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স বিস্কুট বিপণি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নিরাপদ খাদ্য আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এদিকে মেসার্স বিস্কুট বিপণির মালিক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, গাক এনজিও মাধ্যমে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২১৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৩৯ হাজার ৪৮০ জন শিক্ষার্থীর জন্য তারা বনরুটি সরবরাহ করে থাকেন। এই প্রকল্পের শুরু থেকেই তারা এর সঙ্গে জড়িত এবং কখনো কোনো সমস্যা হয়নি। তবে গত ২২ তারিখ একটি বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

গাক এনজিওর ওপর অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সেটাতেও তাদের কোনো দোষ নেই। কারণ ছাত্রদের মাঝে শনিবার, রবিবার, সোমবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার বনরুটি সরবরাহ করা হয়। কিন্তু গাক এনজিওকে সোমবার (২০ এপ্রিল) এর জন্য বনরুটি রবিবার (১৯ এপ্রিল) সরবরাহ করা হয়েছিল। সেখান থেকে এক কার্টুন বনরুটি বেঁচে যায়। মঙ্গলবার স্কুলে বনরুটি সরবরাহ করা হয়নি। সেই রুটি তারা বুধবার (২২ এপ্রিল) সরবরাহ করে, তার মধ্যে একটি স্কুলে আগের ১৯ এপ্রিলের বনরুটি সরবরাহ করা হয়। সেই বনরুটি খেয়েই ছাত্ররা অসুস্থ হয়ে পড়ে। এতে তাদের কিছু করার নেই বলে তিনি দাবি করেন। এছাড়া তিনি বলেন, তারা সব সময় স্কুল কর্তৃপক্ষকে বলে আসছেন, ডেট দেখে বনরুটি গ্রহণ করতে। একদিন আগের ডেটের বনরুটি না নিতে। সেদিন (২২ এপ্রিল) বনরুটি গ্রহণের ক্ষেত্রে স্কুল কর্তৃপক্ষেরও গাফলতি রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। পাশাপাশি গাক এনজিওর গুদাম মানসম্মত নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এজন্য ইতোমধ্যে তাদের জরিমানাও করা হয়েছে বলে জানান।

তিনি আরও বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স, বিএসটিআইসহ খাবার উৎপাদনের সব কিছু ঠিক আছে। প্রয়োজনে দেখে নেওয়া যেতে পারে এবং তাদের তৈরিকৃত বনরুটি যেকোনো জায়গায় পরীক্ষা করেও দেখা যেতে পারে। তাদের পণ্যের মান ঠিক আছে বলেও তিনি দাবি করেন। এছাড়া তিনি চান না এই প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাক, কারণ এই প্রকল্পের মাধ্যমে অনেক শিশু টিফিন পাচ্ছে।

এর আগে গত এক সপ্তাহ ধরে জেলার তিনটি উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে এই বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা দেয়। আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা ছিল গোমস্তাপুর উপজেলার মকরমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, যেখানে ১৫০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। এছাড়া শিবগঞ্জ উপজেলার চাতরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৫ জন এবং সদর উপজেলার শংকরবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আক্রান্ত শিক্ষার্থীরা মূলত পেটব্যথা, বমিভাব এবং শারীরিক চরম দুর্বলতার অভিযোগ করেছে। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও শিক্ষা কর্মকর্তারা বিদ্যালয়গুলো পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। তবে বর্তমানে শিক্ষার্থীরা আশঙ্কামুক্ত ও সুস্থ রয়েছে বলেও জানা গেছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ফিডিংয়ের খাবার খেয়ে অসুস্থ শিক্ষার্থীরা, শিক্ষা অফিসারের মামলা

আপডেট সময় ০১:৫২:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার শংকরবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ এর ধারায় মামলাটি দায়ের করেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সাইফুল ইসলাম বলেন, গত ২২ তারিখ ‘স্কুল ফিডিং প্রকল্পের’ খাবার খেয়ে সদর উপজেলার শংকরবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার পরিপ্রেক্ষিতে নিম্নমানের ও বাসি পচা খাবার সরবরাহ করার অভিযোগে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স বিস্কুট বিপণি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নিরাপদ খাদ্য আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এদিকে মেসার্স বিস্কুট বিপণির মালিক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, গাক এনজিও মাধ্যমে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২১৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৩৯ হাজার ৪৮০ জন শিক্ষার্থীর জন্য তারা বনরুটি সরবরাহ করে থাকেন। এই প্রকল্পের শুরু থেকেই তারা এর সঙ্গে জড়িত এবং কখনো কোনো সমস্যা হয়নি। তবে গত ২২ তারিখ একটি বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

গাক এনজিওর ওপর অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সেটাতেও তাদের কোনো দোষ নেই। কারণ ছাত্রদের মাঝে শনিবার, রবিবার, সোমবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার বনরুটি সরবরাহ করা হয়। কিন্তু গাক এনজিওকে সোমবার (২০ এপ্রিল) এর জন্য বনরুটি রবিবার (১৯ এপ্রিল) সরবরাহ করা হয়েছিল। সেখান থেকে এক কার্টুন বনরুটি বেঁচে যায়। মঙ্গলবার স্কুলে বনরুটি সরবরাহ করা হয়নি। সেই রুটি তারা বুধবার (২২ এপ্রিল) সরবরাহ করে, তার মধ্যে একটি স্কুলে আগের ১৯ এপ্রিলের বনরুটি সরবরাহ করা হয়। সেই বনরুটি খেয়েই ছাত্ররা অসুস্থ হয়ে পড়ে। এতে তাদের কিছু করার নেই বলে তিনি দাবি করেন। এছাড়া তিনি বলেন, তারা সব সময় স্কুল কর্তৃপক্ষকে বলে আসছেন, ডেট দেখে বনরুটি গ্রহণ করতে। একদিন আগের ডেটের বনরুটি না নিতে। সেদিন (২২ এপ্রিল) বনরুটি গ্রহণের ক্ষেত্রে স্কুল কর্তৃপক্ষেরও গাফলতি রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। পাশাপাশি গাক এনজিওর গুদাম মানসম্মত নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এজন্য ইতোমধ্যে তাদের জরিমানাও করা হয়েছে বলে জানান।

তিনি আরও বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স, বিএসটিআইসহ খাবার উৎপাদনের সব কিছু ঠিক আছে। প্রয়োজনে দেখে নেওয়া যেতে পারে এবং তাদের তৈরিকৃত বনরুটি যেকোনো জায়গায় পরীক্ষা করেও দেখা যেতে পারে। তাদের পণ্যের মান ঠিক আছে বলেও তিনি দাবি করেন। এছাড়া তিনি চান না এই প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাক, কারণ এই প্রকল্পের মাধ্যমে অনেক শিশু টিফিন পাচ্ছে।

এর আগে গত এক সপ্তাহ ধরে জেলার তিনটি উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে এই বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা দেয়। আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা ছিল গোমস্তাপুর উপজেলার মকরমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, যেখানে ১৫০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। এছাড়া শিবগঞ্জ উপজেলার চাতরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৫ জন এবং সদর উপজেলার শংকরবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আক্রান্ত শিক্ষার্থীরা মূলত পেটব্যথা, বমিভাব এবং শারীরিক চরম দুর্বলতার অভিযোগ করেছে। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও শিক্ষা কর্মকর্তারা বিদ্যালয়গুলো পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। তবে বর্তমানে শিক্ষার্থীরা আশঙ্কামুক্ত ও সুস্থ রয়েছে বলেও জানা গেছে।