নোবিপ্রবিতে শিক্ষার্থী নেতৃত্ব এবং আগামীর ক্যাম্পাস ভাবনা শীর্ষক “মুক্ত আলাপ” অনুষ্ঠিত
- আপডেট সময় ১১:২৬:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
- / ৩৬ বার পড়া হয়েছে
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) সাংবাদিক সমিতির (নোবিপ্রবিসাস) উদ্যোগে ‘মুক্ত আলাপ’ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) সেমিনার কক্ষে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন এবং ক্লাব প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে “শিক্ষার্থী নেতৃত্ব এবং আগামীর ক্যাম্পাস ভাবনা” শীর্ষক এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন নোবিপ্রবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজওয়ানুল হক এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ মুরাদ। নোবিপ্রবিসাসের সভাপতি নাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও নোবিপ্রবিসাসের উপদেষ্টা অধ্যাপক এ. এফ. এম আরিফুর রহমান এবং ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. শিবলুর রহমান।
মুক্ত আলাপে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। এতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা নেতৃত্বের গুণাবলি, দায়িত্ববোধ এবং একটি সহনশীল ও শিক্ষাবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তোলার নানা দিক নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। নোবিপ্রবি শব্দ কুটিরের সভাপতি মুজতবা ফয়সাল নাঈম বলেন, আমরা একটা সময় শুনতাম ক্যাম্পাসে সাংস্কৃতিক পরিবেশ ছিলো, এখন আবারো সেই পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে তবে আমাদের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হচ্ছি। টিএসসি হওয়ার আগ পর্যন্ত ক্লাবগুলোর জন্য অন্তত একটি রুম ব্যবহার করতে দেওয়া হোক যেখানে ক্লাবগুলো নিজেদের প্রোগ্রাম করতে পারবে।
মুক্ত আলাপে অংশগ্রহণ করে শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি আবদুর রহমান বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে ভিন্নমত দমনের যে সংস্কৃতি ছিল, তার ভুক্তভোগী আমরা সবাই। আমরা আশা করি প্রশাসন ছাত্র রাজনীতির ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনা করে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করার সুযোগ দেবে। আমাদের রাজনীতি যেন কোনোভাবেই হল দখল, চাঁদাবাজি বা ক্ষমতার দাসত্ব না হয়, বরং তা হতে হবে সম্পূর্ণ শিক্ষার্থীবান্ধব। ছাত্রশিবির সবসময়ই শিক্ষার্থীদের স্বার্থে কাজ করে আসছে। নতুন বাংলাদেশে একটি সুন্দর ক্যাম্পাস গড়তে আমি সকল ছাত্র সংগঠনকে ভেদাভেদ ভুলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।
অন্যদিকে নোবিপ্রবি ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসান বলেন, ৫ই আগস্ট পরবর্তী সময়ে আমরা একটি সুস্থ ও ইতিবাচক রাজনীতির স্বপ্ন দেখেছিলাম। রাজনীতি মূলত অধিকার আদায়ের ভাষা এবং চেতনার অংশ, যা প্রজ্ঞাপন দিয়ে থামানো যায় না। আমি চাই ক্যাম্পাসের প্রতিটি শিক্ষার্থী রাজনৈতিকভাবে সচেতন হোক, তবে তা হতে হবে দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক। ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আমি অঙ্গীকার করছি, এই ক্যাম্পাসে আমরা কখনোই ‘গেস্ট রুম কালচার’ ফিরতে দেব না। এছাড়া র্যাগিং ও মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি থাকবে। প্রশাসনকে মাদক নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি, যেখানে আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে।
মুক্ত আলাপ আয়োজন করায় নোবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতিকে ধন্যবাদ জানিয়ে নোবিপ্রবি কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ মুরাদ বলেন, আমরা এমন একটি প্রোগ্রামের আয়োজন করার পরিকল্পনা করেছি। সাংবাদিক সমিতি এমন আয়োজন করেছে তাই তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এখানে যারা আছে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন স্টেক হোল্ডার। তারা আমাদের শিক্ষার্থী, তারাই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ।
অবকাঠামো উন্নয়নে পরিকল্পনা জানিয়ে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজওয়ানুল হক ক্যাম্পাসের আধুনিকায়নের ঘোষণা দিয়ে বলেন, শীঘ্রই ক্যাম্পাসে ই-কার সেবা চালু এবং শিক্ষার্থীদের বসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা হবে। চলমান ঘাটলা ও সাইনাস প্রকল্পের কাজ শেষ হলে ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে। এছাড়াও তিনি সেমিস্টার ভিত্তিক স্কলারশিপ, প্রতিটি বিভাগে স্মার্ট বোর্ড প্রদান এবং ক্যাম্পাসে আধুনিক সেন্সরযুক্ত লাইটিং স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন।
শিক্ষা ও গবেষণায় গুরুত্বারোপ করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত পরিচয় তার শিক্ষা, গবেষণা ও আন্তর্জাতিক উপস্থিতিতে। আমরা শিক্ষকদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে মানসম্মত জার্নালে পাব্লিকেশন এবং গবেষণা ফান্ড সংগ্রহের শর্ত দিয়েছি। এতে থিসিস পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা আর্থিক সহায়তা পাবে।” তিনি আরও জানান, ইউজিসি থেকে প্রাপ্ত বাজেট ৯৬ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০৯ কোটি টাকায় উন্নীত করার প্রক্রিয়া চলছে।
মেডিকেল সেন্টারের মানোন্নয়ন কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মেডিকেল সেন্টারে এখন ২৪/৭ ডিউটি ডাক্তার রয়েছে। একটি ব্যাংক থেকে অনুদান এর মাধ্যমে নতুন আরও একটা এম্বুলেন্স এর ব্যবস্থা করিয়েছি। নোয়াখালীর অন্যান্য স্থানের তুলনায় স্বল্প মূল্যে বিভিন্ন ডায়াগনোসিস ব্যবস্থা চালু করিয়েছি।
এছাড়া শিক্ষার্থীদের সহ-শিক্ষা কার্যক্রমের গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ৫৪টি ক্লাবের জন্য ইউজিসির বার্ষিক বরাদ্দ মাত্র ২ লক্ষ টাকা হলেও, আমরা বিভিন্ন খাত থেকে সমন্বয় করে এ পর্যন্ত প্রায় ১৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দিয়েছি।
এছাড়াও উপস্থিত ছাত্র সংগঠন এবং ক্লাব প্রতিনিধিদের থেকে বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সেক্রেটারি হাসিবুল হাসান, ইসলাম ছাত্র আন্দোলন নোবিপ্রবি শাখার সেক্রেটারি হাসান আলী, ছাত্রশক্তি নোবিপ্রবি শাখার সংগঠক মেহেদী হাসান সীমান্ত। নোবিপ্রবি ডিবেটিং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সানজিদুল্লাহ গৌরভ, স্পোর্টস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল হক, সোচ্চার স্টুডেন্টস নেটওয়ার্ক নোবিপ্রবির সভাপতি আবু সুফিয়ান, নোবিপ্রবি ছায়া জাতিসংঘের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মঞ্জিল ভূঁইয়া।

























