ঢাকা ১২:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নোয়াখালী সরকারি কলেজ

টেন্ডার নিয়ে ছাত্রদলের লঙ্কাকাণ্ড, সভাপতির নেতৃত্বে শিক্ষকদের ওপর হামলা

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৮:৩৫:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৩৩ বার পড়া হয়েছে

নোয়াখালী সরকারি কলেজে উন্নয়নমূলক কাজের টেন্ডারকে কেন্দ্র করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কক্ষে ঢুকে শিক্ষকদের ওপর হামলা ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতিসহ শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে। আজ বুধবার (২৯ এপ্রিল, ২০২৬) দুপুর ২টার দিকে কলেজ অধ্যক্ষের কার্যালয়ে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

কলেজ প্রশাসন ও ভুক্তভোগী শিক্ষকরা জানায়, আজ দুপুরে কলেজের সদ্য সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর জাকির হোসেন তার অফিসিয়াল কিছু কাগজপত্র নিতে সস্ত্রীক কলেজে আসেন। এসময় কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর এবিএম সানা উল্লাহ, শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আফসার উদ্দিন জুয়েল সহ কয়েকজন শিক্ষক একসাথে দুপুরের খাবার খেতে বসলে কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগ সহ ছাত্রদল নেতারা অধ্যক্ষের কার্যালয়ের বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং খাবার টেবিলে এসে শিক্ষকদেরকে গালিগালাজ ও হুমকি ধামকি দিতে থাকে এবং বলে যে কেউ যাতে এখানে আর এক লোকমা খাবারও গ্রহণ না করে। এসময় বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুনশাদুর রহমানের উপর শারীরিক ভাবে হামলা করা হয় এবং হামলাকারী উনার শার্ট ধরে টেনেহিঁচড়ে শার্টের সব বোতাম গুলো ছিঁড়ে নেয়। এবং ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন কে তারা হুমকি দিয়ে বলেন, আপনি আমাদের এলাকায় থাকেন আমাদের পোলাপানকে বললে ১০ মিনিটের মধ্যে মেরে ড্রেনে ফালায় দিবে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার এক পর্যায়ে ওই শিক্ষকের গায়ের শার্টের বোতাম ছিঁড়ে যায় এবং তিনি শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হন। অন্যান্য শিক্ষক ও কর্মচারীরা পরিস্থিতি শান্ত করতে এগিয়ে এলে তাদের উপরও চড়াও হয় হামলাকারীরা। কক্ষ থেকে বের হয়ে ছাত্রদলের নেতাকরমীরা নেতাকর্মীরা অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে ভাঙচুর চালায় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনার পর সাধারণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকে শিক্ষকদের ওপর এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এখন ক্যাম্পাসে নিজেদের নিরাপত্তার অভাব বোধ করছি।”

ঘটনার পরপরই কলেজের শিক্ষক পরিষদ মিলনায়তনে জরুরি সভা ডাকে কলেজ শিক্ষক পরিষদ। সভায় হামলাকারী ছাত্রদল নেতাদের ছাত্রত্ব বাতিল, কেন্দ্রীয় ও জেলা ছাত্রদল নেতৃবৃন্দের কাছে অভিযোগ দায়ের, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা এবং এ ঘটনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

এবিষয়ে জানার জন্য কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগের মুঠোফোনে কল করা হলেও রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাফরাতুল ইসলাম নাবিল বলেন, ঘটনাটি একটু আগে ফেসবুকের মাধ্যমে জেনেছি। এখন শিক্ষকদের সাথে কথা বলবো। উনাদের সাথে কথা বলার পর আপনাদেরকে জানাতে পারবো।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো বলেন, আজকের এ ঘটনা অত্যন্ত জঘন্য। আমরা তো ছাত্ররাজনীতি করে আসছি। শিক্ষকদের সাথে এ ধরনের বেয়াদবি কখনো শিখি নাই। এ ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তারা আমাদের দলের লোক হোক আর যে দলেরই হোক তা বরদাস্ত করা হবে না।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

নোয়াখালী সরকারি কলেজ

টেন্ডার নিয়ে ছাত্রদলের লঙ্কাকাণ্ড, সভাপতির নেতৃত্বে শিক্ষকদের ওপর হামলা

আপডেট সময় ০৮:৩৫:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

নোয়াখালী সরকারি কলেজে উন্নয়নমূলক কাজের টেন্ডারকে কেন্দ্র করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কক্ষে ঢুকে শিক্ষকদের ওপর হামলা ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতিসহ শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে। আজ বুধবার (২৯ এপ্রিল, ২০২৬) দুপুর ২টার দিকে কলেজ অধ্যক্ষের কার্যালয়ে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

কলেজ প্রশাসন ও ভুক্তভোগী শিক্ষকরা জানায়, আজ দুপুরে কলেজের সদ্য সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর জাকির হোসেন তার অফিসিয়াল কিছু কাগজপত্র নিতে সস্ত্রীক কলেজে আসেন। এসময় কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর এবিএম সানা উল্লাহ, শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আফসার উদ্দিন জুয়েল সহ কয়েকজন শিক্ষক একসাথে দুপুরের খাবার খেতে বসলে কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগ সহ ছাত্রদল নেতারা অধ্যক্ষের কার্যালয়ের বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং খাবার টেবিলে এসে শিক্ষকদেরকে গালিগালাজ ও হুমকি ধামকি দিতে থাকে এবং বলে যে কেউ যাতে এখানে আর এক লোকমা খাবারও গ্রহণ না করে। এসময় বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুনশাদুর রহমানের উপর শারীরিক ভাবে হামলা করা হয় এবং হামলাকারী উনার শার্ট ধরে টেনেহিঁচড়ে শার্টের সব বোতাম গুলো ছিঁড়ে নেয়। এবং ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন কে তারা হুমকি দিয়ে বলেন, আপনি আমাদের এলাকায় থাকেন আমাদের পোলাপানকে বললে ১০ মিনিটের মধ্যে মেরে ড্রেনে ফালায় দিবে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার এক পর্যায়ে ওই শিক্ষকের গায়ের শার্টের বোতাম ছিঁড়ে যায় এবং তিনি শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হন। অন্যান্য শিক্ষক ও কর্মচারীরা পরিস্থিতি শান্ত করতে এগিয়ে এলে তাদের উপরও চড়াও হয় হামলাকারীরা। কক্ষ থেকে বের হয়ে ছাত্রদলের নেতাকরমীরা নেতাকর্মীরা অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে ভাঙচুর চালায় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনার পর সাধারণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকে শিক্ষকদের ওপর এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এখন ক্যাম্পাসে নিজেদের নিরাপত্তার অভাব বোধ করছি।”

ঘটনার পরপরই কলেজের শিক্ষক পরিষদ মিলনায়তনে জরুরি সভা ডাকে কলেজ শিক্ষক পরিষদ। সভায় হামলাকারী ছাত্রদল নেতাদের ছাত্রত্ব বাতিল, কেন্দ্রীয় ও জেলা ছাত্রদল নেতৃবৃন্দের কাছে অভিযোগ দায়ের, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা এবং এ ঘটনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

এবিষয়ে জানার জন্য কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগের মুঠোফোনে কল করা হলেও রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাফরাতুল ইসলাম নাবিল বলেন, ঘটনাটি একটু আগে ফেসবুকের মাধ্যমে জেনেছি। এখন শিক্ষকদের সাথে কথা বলবো। উনাদের সাথে কথা বলার পর আপনাদেরকে জানাতে পারবো।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো বলেন, আজকের এ ঘটনা অত্যন্ত জঘন্য। আমরা তো ছাত্ররাজনীতি করে আসছি। শিক্ষকদের সাথে এ ধরনের বেয়াদবি কখনো শিখি নাই। এ ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তারা আমাদের দলের লোক হোক আর যে দলেরই হোক তা বরদাস্ত করা হবে না।