নোয়াখালীতে চোরাই কাপড়সহ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা গ্রেপ্তার
- আপডেট সময় ০৩:১৯:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
- / ২৮ বার পড়া হয়েছে
নোয়াখালীর হাতিয়া ও সুবর্ণচর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান চোরাই কাপড় জব্দ করেছে করেছে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দ পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় চরবাটা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল বাশারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার উপপরিদর্শক (এসআই) মহিউদ্দিন রাজু। তিনি জানান, সোমবার দুপুরে উপজেলার হরণী ইউনিয়নের বয়ারচরের আজিম নগর টিনের মসজিদ এবং সুবর্ণচরের চরবাটা ইউনিয়নের চরমজিদ ভূঞারহাট বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব কাপড় উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার কাপড়ের আনুমানিক মূল্য ৬০ লাখ টাকা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ এপ্রিল রাত সাড়ে ১১টার দিকে কলম্বিয়া অ্যাপারেলস লিমিটেড কৃর্তক আমদানীকৃত ১৬৩টি বিভিন্ন সাইজের কাপড়ের বান্ডিল চট্টগ্রাম বন্দর থেকে একটি কাভার্ডভ্যানে লোড করা হয়। পরে কাপড়গুলো গাজীপুর চৌরাস্তা নিয়ে যাওয়ার জন্য হালিশহরের আব্বাস পাড়ার টোল এলাকার চিটাগাং ফিলিং স্টেশনে রাখা হয়। ২৫ এপ্রিল দিবাগত রাত ৩টার দিকে কাপড় ভর্তি কাভার্ডভ্যান গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় না গিয়ে চালকের সহায়তায় আসামিরা আত্মসাৎ করে।
পরে কাভার্ডভ্যান চালক হাতিয়ার হরণী ইউনিয়নের বাসিন্দা সুমন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বাশার চক্র গাড়িসহ কাপড়গুলো নোয়াখালীর হাতিয়া ও সুবর্ণচরে নিয়ে যায়। সেখানে বাশারের বন্ধু হাতিয়া উত্তর শাখা তাঁতী দলের সদস্য সচিব ইব্রাহীম খলিল ও হরণী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের যোগসাজশে কাপড়গুলো দুই ভাগে ভাগ করা হয়। তারা কাপড়ের একাংশ হরণী ইউনিয়নের বয়ারচরের আজিম নগর টিনের মসজিদ এলাকার একটি ঘরে এবং অন্য অংশ সুবর্ণচরের চরমজিদ ভূঞারহাট বাজারে সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব নুরুল হুদার গোডাউনে সংরক্ষণ করে।
এ ঘটনায় গত ২৭ এপ্রিল চট্টগ্রামের হালিশহর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার সূত্র ধরে চট্টগ্রাম ডিবি পুলিশের একটি দল নোয়াখালীর হাতিয়া ও সুবর্ণচরে অভিযান চালায়। অভিযানে চোরাইকৃত কাপড়সহ আবুল বাশারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের সম্পৃক্ততা ছাড়া এত বড় পরিমাণ কাপড় এভাবে পরিবহন ও সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়। তাদের দাবি, এই চক্রে আরও একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকলেও এখনো অনেকে ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। খলিলের বিরুদ্ধে চুরিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে হাতিয়া উত্তর শাখা তাঁতী দলের সদস্য সচিব ইব্রাহীম খলিল জানান, কাভার্ডভ্যান চালক সুমন তার বাড়ির পাশের লোক। তাই তার অনুরোধে তিনি একটি ঘর ভাড়া দিতে বাশারকে অনুরোধ করে সহায়তা করেন। তবে সেখানে চোরাই কাপড় রাখার বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না বলে দাবি করেন।
এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে হরণী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। রাজনৈতিক কারণে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আমি নিজে কাপড় উদ্ধারে সহায়তা করেছি।
সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব নুরুল হুদা বলেন, ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমি ঘরটি ভাড়া দিয়েছি। ভাড়াটিয়া কী করছে, তা সবসময় মালিকের জানা সম্ভব নয়।
ডিবির এসআই মহি উদ্দিন রাজু বলেন, উদ্ধার হওয়া কাপড়ের মূল্য আনুমানিক ৬০ লাখ টাকা। অভিযানে হরণী ইউনিয়ন থেকে ৬৭টি ও চরমজিদ ভূঞারহাট বাজার থেকে ৯৬টি কাপড়ের বান্ডিল উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের মতে, চরমজিদ ভূঞারহাট বাজারের গোডাউনটি নুরুল হুদার মালিকানাধীন। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় বাশারকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে। অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



















