ছাত্র-রাজনীতি নিষিদ্ধ চাওয়া তিতুমীর ছাত্রীদের ‘বেশ্যা’ আখ্যা দিলেন ছাত্রদল নেতা
- আপডেট সময় ০৭:৩৮:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
- / ২৯ বার পড়া হয়েছে
সরকারি তিতুমীর কলেজের ছাত্রীনিবাসে রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে আন্দোলনরত নারী শিক্ষার্থীদের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগ উঠেছে কলেজের শহীদ মামুন হল শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি রোকনুজ্জামান রাকিবের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (৫ মে) রাত ১০টার দিকে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি ঘিরে তিন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের ঘটনায় সুফিয়া কামাল ছাত্রীনিবাসের মূল ফটকের তালা ভেঙে বিক্ষোভে নামেন নারী শিক্ষার্থীরা। এ সময় তাদের উদ্দেশ্যে করে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন তিনি। জানা গেছে, অভিযুক্ত রাকিব কলেজ শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সেলিম রেজার অনুসারী।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হল গেইটের সামনে অবস্থান নেওয়া নারী শিক্ষার্থীদের ভিডিও ধারণের চেষ্টা করেন ছাত্রদল নেতা রাকিব। এ সময় বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা তাকে সেখান থেকে চলে যেতে অনুরোধ করেন। তবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ‘বেশ্যা’ বলে গালাগাল করেন।
আন্দোলনকরী নারী শিক্ষার্থী জানান, মামুন হল ছাত্রদলের সহ-সভাপতি রোকনুজ্জামান রাকিব আন্দোলনরত নারী শিক্ষার্থীদের ওপর তেড়ে আসে। এ সময় নারী শিক্ষার্থীরা তাকে ফিরে যেতে বললে তিনি নারীদেরকে ‘বেশ্যা’ বলে গালি দেন।
প্রসঙ্গত, গত ৩ মে কলেজের সুফিয়া কামাল হলে ছাত্রদলের ১১ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি ঘোষণার পর আবাসিক নারী শিক্ষার্থীরা ছাত্রীনিবাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানান। এ ঘটনার জেরে কলেজ প্রশাসন তিন শিক্ষার্থীর হলের সিট বাতিল করে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে রাত ১০টার দিকে হলের নারী শিক্ষার্থীরা তালা ভেঙে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।
এদিকে কলেজ প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, কোনো ধরনের সুষ্ঠু তদন্ত ছাড়াই তিন শিক্ষার্থীর হলের সিট বাতিল করা হয়েছে। বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, হলের সিট বাতিলের নোটিশে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তাদের ভাষ্য, নোটিশে তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণের কথা উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে তদন্ত কমিটি তাদের সঙ্গে কোনো কথা বলেনি। এমনকি নির্ধারিত দিনে তদন্ত কমিটির সদস্যরা উপস্থিত না হয়েই অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বিক্ষোভ পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা ছাত্রী হলে সব ধরনের ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবি জানান। একই সঙ্গে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।























